টেন্ডারের চার বছরেও সিরাজদিখানে শুরু হয়নি সেতুর কাজ

setu-sirajdikhanএকটি মাত্র সেতুর অভাবে উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত রয়েছে মুন্সীগঞ্জের এলাকাবাসী। পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার মাঝখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতুর অভাবে সরকারের প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কটিও তেমন কাজে আসছে না। এছাড়া এরই মধ্যে সড়কের ফ্লোর বেশ কয়েকবার খসে পড়েছে। ফ্লোরের নিচের অংশের অধিকাংশ রড বের হয়ে আছে। সেতুসংলগ্ন সড়কের মাঝখানের পায়াটিও অর্ধেক ভেঙে গেছে। ফলে যে কোন সময় ধ্বসে পড়ে বড় কোন দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে।


গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার ইমামগঞ্জ-বাসাইল-রামকৃষ নদী সড়কের বাসাইল বাজার খালের উপর নির্মিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রায় সাত বছর আগে এলজিইডি বিভাগ প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ষোল ফুট চওড়া এইচবিবি রাস্তাটির অধিকাংশ কাজ শেষ করেছে।

সড়কটি নির্মিত হওয়ার প্রায় পঁচিশ বছর আগে খালটির উপর পাঁচ ফুট প্রশস্ত একটি ফুট ওভারব্রিজ নির্মিত হয়েছিল। এলাকাবাসী প্রয়োজনের তাগিদে বাধ্য হয়ে এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই নড়বড়ে ব্রিজের উপর দিয়েই পার হয়, এছাড়া পায়ে হাঁটাসহ রিকশা, টেম্পো ও মাঝে মাঝে প্রাইভেট কারও পারাপার হয় ব্রিজটি থেকে।

ব্রিজটি এতই সরু যে কোনো প্রাইভেট কার ব্রিজটিতে উঠলে গাড়ি ও ব্রীজের রেলিং এর মধ্যে চুল পরিমাণ ফাঁকা জায়গা থাকে না। তাই ঝুঁকি নিয়ে যেসব গাড়ি ওই ব্রিজ পার হয় তার অধিকাংশই দুর্ঘটনার শিকার হয়।
setu-sirajdikhan
ফলে প্রতিদিন ওই ব্রিজের দুই পাশে প্রচুর প্রাইভেট কার, মালবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন আটকে থাকে।

বাসাইল-ইমামগঞ্জ সড়কটিই বিশাল এই এলাকার প্রায় ১৫/১৬ টি গ্রামের দেড় লক্ষাধিক লোকের রাজধানী ঢাকাসহ জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ ও হাট-বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের একমাত্র সড়ক। এলাকাটি রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী হওয়ায় এই এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত লোক চাকুরি, ব্যবসা ও লেখাপড়া করার উদ্দেশ্যে সকালে ঢাকায় যায় এবং বিকাল-সন্ধ্যা ও রাতে আবার বাড়ি ফিরে।

উল্লেখ্য, সেতুটির প্রয়োজনীয়তার সংবাদ বিভিন্ন সময় জাতীয় সংবাদপত্রগুলোতে প্রকাশিত হলে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে তদন্তে এসে ঘটনার সত্যতার প্রমাণ পায়। তাই ২০১০ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর জিডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে একটি সেতু নির্মাণের উদ্দেশ্যে দরপত্র আহ্বান করে।

কিন্তু দরপত্র পাওয়া ঠিকাদার মেসার্স বাদল এন্টারপ্রাইজ কাজ পাওয়ার পর দীর্ঘ চার বছরেরও অধিক সময় অতিবাহিত হলেও সেতু নির্মাণের কাজ এখনো শুরুই করতে পারেনি।

এদিকে ঠিকাদার দীর্ঘদিনেও কাজ শুরু না করায় উক্ত প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুর রহমান খান (স্মারক নং- এলজিইডি/পিডি/জিডিপি/সি-০১/২০০৮/২৩, তারিখ ১২-০১-২০১২ ইং) চিঠির মাধ্যমে সেতুটির কাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। ফলে এলাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেতুটির ভবিষ্যৎ আবারও অন্ধকারে ডুবে গেছে।

বর্তমানে এলাকাবাসীর দাবি, প্রকল্প পরিচালকের স্থগিতাদেশ বাতিল করে অতি দ্রুত নতুন কোন প্রকল্পের মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করে সেতুটি নির্মাণ করার ব্যবস্থা করা হোক।

এই প্রসঙ্গে সিরাজদিখান উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহজাহান আলী নতুন বার্তাকে বলেছেন, “প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুর রহমানের স্বাক্ষরিত চিঠি পাওয়ার পর আমাদের আর কোন কিছু করার নেই।”

নতুন বার্তা