আ.লীগের ‘দপ্তর’ নিয়ে টানাটানি

balআওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে কে? অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান নাকি ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ? এ নিয়ে চলছে গুঞ্জন। আর এই গুঞ্জনে ঘি ঢাললেন স্বয়ং আব্দুল মান্নান খান।

বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে দাপ্তরিক দায়িত্ব নতুনভাবে বণ্টন করে ক্ষমতাসীন দলটি। কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মান্নান খানের পরিবর্তে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহি সংসদ সদস্য ড. আব্দুস সোবহান এবং উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাসের স্থলে কার্যনির্বাহি সদস্য আমিনুল ইসলাম আমিনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ড. আবদুস সোবহান গোলাপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারীর দায়িত্বও পালন করেন।


গত বছর ডিসেম্বর মাসের শুরুতে আওয়ামী লীগের দপ্তর থেকেই এ তথ্য জানানো হয়েছিল। গত সোমবার পর্যন্ত গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দপ্তর সম্পাদক হিসাবে ড. আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে।

কিন্তু একদিন পর মঙ্গলবার দুপুর থেকে প্রায় ৪ ঘণ্টা অফিস করেন আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান। এতেই শুরু হয় ধানমন্ডির অফিসে নেতাকর্মীসহ অফিস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে গুঞ্জন ও দ্বিধা। দপ্তর সম্পাদক এখন আসলে কে?

দলীয় সূত্র জানায়, সোমবার দুপুর থেকে নিজ দপ্তরে বসে অফিস করেন সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর দলীয় রাজনৈতিক কার্যালয়ে নেতাকর্মী এবং অফিস কর্মকার্তা-কর্মচারীরাও পড়েছেন দ্বিধার মধ্যে। তারা কার কথা শুনবেন, কার নির্দেশ মানবেন?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অফিস কর্মকর্তা জানান, এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কোন সমস্যা নেই। কারণ ওই চেয়ারে বসে যিনিই আমাদের নির্দেশ দিবেন আমরা তার নির্দেশই পালন করবো।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপির কাছে জানতে চাইলে তিনি এটিএন টাইমসকে বলেন, আমি এত বড় দায়িত্বপ্রাপ্ত মানুষ না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলতে পারবেন। আর আওয়ামী লীগ তো ওনাকে ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে কোন সার্কুলারও জারি করেনি।

এর আগে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহি কমিটির দপ্তর ও উপ-দপ্তর সম্পাদক পদ থেকে অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান এবং মৃণাল কান্তি দাসকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে এমন খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। কিন্তু আমিনুল ইসলাম আমিন দায়িত্ব গ্রহণ করেননি।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান এটিএন টাইমসের কাছে বলেন, এ নিয়ে আপনি আমাদের পার্টির সাধারণ সম্পাদকের কাছে কথা বললে ভালো হয়। আমি এখন গণভবনের দিকে যাচ্ছি।

তাহলে কেন ড. আবদুস সোবহান গোলাপ নিজেকে দপ্তর সম্পাদক পরিচয় দিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠাচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনিই ( ড. আবদুস সোবহান গোলাপ) ভালো বলতে পারবেন। উনিই পারফেক্ট ম্যান।

এ ব্যাপারে জানতে ড. আবদুস সোবহানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের উপকমিটির কয়েকজন সহসম্পাদক জানান, ড. আব্দুস সোবহান অনেক সময়ই নেতাকর্মীদের ফোন ধরেন না।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান ঢাকা-১ আসন নির্বাচন করে জাতীয় পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সালমা ইসলামের কাছে পরাজিত হন।

এছাড়া অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস প্রথমবারের মতো মুন্সিগঞ্জ-৩ আসন থেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

এটিএন টাইমস

Leave a Reply