শীতল পাটির কারুপল্লী সিরাজদিখানের পূর্ব রাজদিয়া

patiইকবাল হোছাইন ইকুঃ শীতল পাটির কারুপল্লী পূর্ব রাজদিয়া। গ্রামীণ গৃহবধূদের হাতের ছোঁয়ায় নানান নকশায় এ গ্রামে তৈরি করা হয় শীতল পাটি, পাটি, বড় চট, ছোট চট। উপজেলার পূর্ব রাজদিয়া গ্রামের প্রায় ৩০ টি পরিবারের অর্ধশতাধিক নারী স্বল্প আয়ের স্বামীদের পাশাপাশি পাটি তৈরি ও বিক্রির মাধ্যমে নিজেরাও স্বাবলম্বী হয়ে উঠার স্বপ্ন দেখে। পাটি তৈরি শিল্পীরা নিজেদের স্বপ্নের পাশাপাশি গ্রামের অন্য নারীদের পাটি তৈরির প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পোষ-মাঘ-ফাল্গুন হচ্ছে পাটি বুনার উত্তম সময়। আর চৈত্র-বৈশাখে সেই পাটির চাহিদা থাকে ব্যাপক। পাটির কাঁচামাল আসে সিলেট থেকে বছরে ২-৩ বার। সারা বছরের জন্য পাটি বেত গাছ কিনে নেয়া হয়। সেখান থেকে প্রকৃয়াজাত করে আনতে ২-৩ মাস সময় লেগে যায়। এছাড়া স্থানীয় কুসুমপুর, চন্দনধূল, ইছাপুরা, আবিরপাড়া গ্রাম ও সিরাজদিখানের হাট থেকে আনা হয়। ১ পোজা ২০০-৩০০ টাকায় কেনা হয়। ৩০০ টাকার পোজায় ১ টি পাটি হয়ে বেশি থাকে। ঐ পাটিট ৫০০-৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়। প্রতিটি পাটির বুননী মজুরী ১২০ টাকা। সময় অনুযায়ী প্রতিটি পাটি বুনতে ২ দিন থেকে ৫-৬ দিন লেগে যায়। এখানে পাটি বিক্রির একমাত্র বাজার বেতকার আব্দুল্লাপুর। এছাড়া স্থানীয়ভাবে ও সিরাজদিখান বাজারেও বিক্রি করা হয় বলে জানান কার্তিক চন্দ্র।


পূর্ব রাজদিয়া ছাড়াও আরমহল ও জৈনসার ইউনিয়নের ভাটিমভোগ গ্রামের শীতল পাটির কারুপল্লী রয়েছে। সরেজমিনে পূর্ব রাজদিয়ায় গিয়ে দেখা গেছে, তিন চার জন গ্রুপ করে রং-বেরংয়ের বেত দিয়ে তৈরি করছে বিভিন্ন রকমের ফুল করা পাটি। আবার কেউ অন্যদের নতুন পাটির জো তুলে দিচ্ছে। পাটি শিল্পী নীলা রাণী দে (৩৫) জানান, বাবা লেখাপড়া করাইতে পারেনাই তাই ৬-৭ বছর থেকেই একাজ করার জন্য চাপ প্রয়োগে বাধ্য করছে। যখন আমার খেলাধুলার বয়স ছিল ঠিক তখন বাবা-মা একাজ করার জন্য বলছে তাই অভাবের তাড়নায় আজ অব্দি একাজ করছি।
pati
একই গ্রামের শীতল পাটির প্রবীণ কারুশিল্পী চন্দ্র দে (৭০) জানান, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি পাটি তৈরি ও বিক্রি করে আসছেন। পাটি বিক্রির টাকায় ৩ ছেলে ২ মেয়েকে লালন-পালন করেছেন। তার হাতের বুনা পাটির মধ্যে আড়াই থেকে ৩ হাত ২৫০ টাকা, ৩-৪ হাত ৩৫০ টাকা, ৪-৫ হাত ৪০০ টাকা এবং ৫-৬ হাত ৫০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে যাওয়া নিমাই পাটি বুনার কাজ এখনও ছাড়তে পারেননি। তিনি প্রতি মাসে পাটি বুনে ৩-৪ হাজার টাকা আয় করেন।

পূর্ব রাজদিয়ার মায়ারাণী দে, ইতি, শোভা দে, অর্চনা দের মতো সিরাজদিখানের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকশ নারী রয়েছে যারা পাটি বিক্রি করে সংসারের বাড়তি খরচের যোগান দেন। তারা নিজেদেও পাশাপাশি এলাকার বেকার অন্য নারীদেরও স্বাবলম্বী হবার স্বপ্ন দেখান।

মুন্সিগঞ্জ টাইমস