সিরাজদিখানে অপহরণের ৮ দির পর মায়ের কোল জিহাদ

jihad1মুক্তিপন দুই লাখ টাকা
ইমতিয়াজ বাবুল: অপহরণের ৮ দিন পর সিরাজদিখান উপজেলার মধুপুর গ্রামের জামাতা দক্ষিন আফ্রিকা প্রবাসী ইলিয়াস মিয়ার সাড়ে ৪ বছরের পুত্র রফিকুল ইসলাম জিহাদ মায়ের কুলে ফিরে এসেছে। রফিককে ফিরে পেতে বিকাশের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা মুক্তিপন দিতে হয়েছে অপহরনকারীদের।

অপহৃত রফিকের মা সখিনা বেগম জানান, মধুপুর গ্রামে হালিমিয়া মাদ্রাসায় দু’দিন ব্যাপি বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ৪ জানুয়ারী সকাল ৯টার দিকে ওয়াজ মাহফিলের আখেরি মোনাজাতের সময় ফাঁকা বাড়ি পেয়ে মাদ্রাসা সংলগ্ন রফিকের নানা বাড়ি হতে রফিককে অপহরণ করা হয়। ওই দিনেই বিকেলে রফিকের মামী সুমি আক্তারের মোবাইলে অপরণকারীরা ফোন করে রফিকের মুক্তিপন বাবদ ১৫ লাখ টাকা দাবি করে। তবে র‌্যাব-পুলিশকে ঘটনা জানালে রফিককে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয়।


ঘটনার পরের দিন মোবাইলে দেন দরবারে ১০ লাখ টাকায় মুক্তি দিতে রাজি হয় অবহরণকারীরা। কিন্তু ১০ লাখ টাকার দেবার সামর্থ নেই জানালে অবশেষে ৫ লাখ টাকায় মুক্তি দিতে কথা পাকাপাকি হয় অপহরণকারীদের সাথে। সেমতে ৫০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে অপহরণকারীদের দেয়া হয়। পরে পাড়া-পড়শীর কথা মত বিষয়টি শ্রীনগরের ভাগ্যকুলে অবস্থিত র‌্যাব-১১-কে জানানো হয়। র‌্যাব ৩ ঘন্টার মধ্যে মোবাইল ট্রাকিং করে অপহরণকারীদের অবস্থান নিশ্চিত হন তারা সাভারের নবীনগরে অবস্থান করছেন। রাব-১১-র সহযোগিতায় রফিকের পরিবার সাভারের র‌্যাবের সাথে যোগাযোগ করে রফিককে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়।

অপহরণকারীদের কথা মত তারা নগদ টাকা নিয়ে সাভারের নবী নগরে যায়। তাদের পেছনে ছব্দ বেশে র‌্যাবের লোকজনও দূরে থাকে। কিন্তু অপহরণকারীরা নবীনগর থেকে টাকা নিয়ে সাভারের আমিন বাজারে আসতে বলে। টাকা নিয়ে আমিন বাজারে গেলেও অপহরণকারীরা টাকা না নিয়ে চলে যায়। ফলে র‌্যাবের উদ্ধার অভিযান বিফলে যায়।

পরে অপহরণকারীরা বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলে। আদরের রফিককে ফিরে পেতে র‌্যাবের অজ্ঞাতে তারা অপহরকনকারীকে মোট ২ লাখ টাকা বিকাশ করে। পরে রফিককে ফিরিয়ে দিতে তাল বাহানা শুরু করে অপহরণকারীরা। উপায়ান্ত না দেখে অবশেষে গত ১০ জানুয়ারী রফিকের মা বাদী হয়ে সিরাজদিখান থানায় একটি অপহরণের মামলা দায়ের করে।
jihad1
মামলা করার পর পুলিশ রফিকের চাচা রোমেলকে (৩০) ওই দিন রাতেই আটক করে। এর পর দিন শনিবার দিবাগত রাত ৩ টার দিকে অপহরণকারীরা রফিককে কেরানীগঞ্জের ধর্মসুর এলাকায় ফেলে রেখে রফিকের পরিবারের কাছে ফোন করে জানিয়ে দেয়। পরে পরিবারের লোকজন ধর্মসুর গিয়ে রফিককে উদ্ধার করে।

সিরাজদিখান থানার ওসি আবুল বাসার জানান, মামলাটি তদন্তাধীন আছে। আমারা অনেক দূর এগিয়েছি। অপহরণের সাথে যারা জড়িত ছিল, তার অচিরেই ধরা পড়বে।
—————-

সিরাজদিখান থেকে অপহৃত শিশু কেরানীগঞ্জে উদ্ধার

অপহরণের ৯ দিন পর রাকিবুল হাসান জিহাদ (৪) নামে শিশুকে উদ্ধার করেছে সিরাজদিখান থানা পুলিশ।

রোববার ভোরে পুলিশ ঢাকার কেরানীগঞ্জের ধর্মশুর বাজার এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে। এসময় ৩ অপহরণকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

তবে, অপহরণকারী দলের অন্য সদস্যদের আটকের লক্ষে তাদের নামপরিচয় প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে পুলিশ।

সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার বাংলানিউজকে জানান, থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ সন্দেহজনক ভাবে অপহৃত শিশুর চাচা রুমেলকে আটক করে। পরে শনিবার দিনগত রাতে অপহরণকারীরা শিশু রাকিবুল হাসান জিহাদকে কেরানীগঞ্জের ধর্মশুর বাজারে রেখে যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ও স্বজনরা কেরানীগঞ্জের ধর্মশুর বাজার এলাকা থেকে রোববার ভোরে শিশুটিকে উদ্ধার করে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় সঙ্গে জড়িত তিন জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে অপহরণকারী দলের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযানে নেমেছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি সকালে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের মধুপুর গ্রাম থেকে আফ্রিকা প্রবাসী ইলিয়াছ মিয়ার ছেলে রাকিবুল হাসান জিহাদকে অপহরণ করে একটি চক্র।

ওই দিন বিকেলে শিশুর মামী সুমি আক্তারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর
============