সুযোগ সুবিধার অভাবে মাদ্রাসা বিভাগের উচ্চ শিক্ষা হতে বঞ্চিত হচ্ছে গজারিয়ার শিক্ষার্থীরা

মুন্সীগঞ্জের অন্যতম উপজেলা গজারিয়া। যাতায়াতের সুব্যবস্থা না থাকায় অন্যন্য উপজেলা থেকে এই উপজেলাটি জেলা শহর থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন। এর কারনে অন্যন্য উপজেলা থেকে এই উপজেলাটি উন্নয়নের দিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে। তবে শিক্ষার দিক দিয়ে উপজেলাটি অনেকটা উন্নত।

বহু বছর যাবত উপজেলাটি শিক্ষার মান উন্নয়নের দিক দিয়ে অনেক সুনাম অর্জন করে আসছে। বিভিন্ন সময় গড়ে উঠেছে পর্যাপ্ত পরিমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

গজারিয়া উপজেলার অন্যন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাদ্রাসা বোর্ডের অন্যতম দুটি সুনাম অর্জনকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গজারিয়া বাতেনিয়া আলিম মাদ্রাসা ও মাথাভাঙ্গা মহিলা আলিম মাদ্রাসা। লেখা পড়ার মান ভাল হওয়ায় স্থানীয় শিক্ষার্থী ছারাও অন্যন্য বিভাগ সহ দূর দুরান্ত থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থীরা আসে এখানে শিক্ষা নিতে।

কিন্তু পাশাপাশি দুইটি মাদ্রাসা ও আসেপাশে আরো ছোট বড় অসংখ্য মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠান থাকা সত্যেও উপজেলাটিতে নেই কোন মাদ্রাসা বোর্ড কর্তৃক নিয়ন্ত্রণাধীন আলীম পরীক্ষার কেন্দ্র। যার ফলে শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষা দিতে হয় মুন্সীগঞ্জ সদরে নির্ধারিত কেন্দ্রে। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষাকালীন সময়ে নানা দুর্ভোগের সম্মুক্ষীন হচ্ছে। দুর্ভোগ সমূহের মধ্যে নদী পথে যাতায়াতে বিপুল অর্থ খরচ, সময়ের অপচয় ইত্যাদি অন্যতম।

নদী পথে সদর হতে গজারিয়া উপজেলা শহরের দূরত্ব প্রায় ২০ কি.মি.। অধিকাংশ সময় নদী উত্তাল থাকে বিধায় এ পথ পরীক্ষার্থীদের জীবনের জন্য হুমকি স্বরূপ। কোন কোন শিক্ষার্থী কেন্দ্র সন্নিকটে অবস্থান করলেও তাদের গুনতে হচ্ছে বিপুল পরিমান অর্থ। যা অনেক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ব্যয় করা দুর্বিষহ।

যে সকল শিক্ষার্থী আসা-যাওয়া করে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে তাদের জীবনের ঝুঁকির পাশাপাশি রয়েছে সময়ের অপচয়। কোন কোন সময় শিক্ষার্থীরা যথা সময় পৌছাতে না পেরে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারে নি। এছাড়া অনেক অবিভাবক অতিরিক্ত খরচের কারনে তাদের সন্তানদের পরীক্ষায় অংশগ্রহন করাতে পারছে না।

শিক্ষকগণও কেন্দ্র পরিদর্শনের জন্য যথা সময়ে পৌছাতে পারছে না। এতদ সংক্রান্ত কারনে অনেক শিক্ষার্থীই দাখিল পরীক্ষার পর মাদ্রাসাতে ভর্তি হতে চায় না। এতে করে তারা দীন-ইলম ও মাদ্রাসা বিভাগের উচ্চ শিক্ষা হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

কিন্তু একই উপজেলার তিনটি কলেজের জন্য দুইটি বোর্ড পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। অথচ সম সংখ্যক আলিম মাদ্রাসার জন্য একটিও পরীক্ষা কেন্দ্র নেই। কিন্তু এই উপজেলায় একটি কেন্দ্রের জন্যে যে শর্তাবলীর প্রয়োজন সবই পূর্ণাঙ্গভাবে রয়েছে। দুঃখের বিষয় হলো এ নিয়ে প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ নেই। যার ফলে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত নানা দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছে।

এ বেপারে গজারিয়া মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি ও গজারিয়া শিক্ষক সমিতির সদস্য এবং গজারিয়া বাতেনিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুক্তার হোসেন মিয়াজীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তাহারা মাদ্রাসা কেন্দ্র নিয়ন্ত্রন করার জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত এবং তিনি কেন্দ্র আনার জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

মুন্সিগঞ্জ টাইমস