৭ দিনের ব্যবধানে নিউমোনিয়া-ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২ হাজার !

hospital-insideশেখ মো.রতন: তীব্র শীতে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা জুড়ে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে এ উপজেলার ৮ টি ইউনিয়ন ও ২ টি পৌরসভায় ঠান্ডা জনিত কারনে হাপানি-শ্বাসকষ্ট-অ্যাজমা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ সহ¯্রাধিক ব্যক্তি। আক্রান্তদের বেশীর ভাগই শিশু। গত শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৬ দিনের ব্যবধানে ডায়রিয়া ও কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্তের মাত্রা বেশী পাওয়া গেছে।

চলতি শীত মৌসুমে ১০০ শয্যার মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগেই ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত ১ হাজার রোগীর চিকিৎসা নিয়েছে। ১০০ শয্যার এ হাসপাতালের ইনডোরে অন্তত ৫০ বেড জুড়ে ভর্তি আছেন কোল্ড ইনজুরি ও ডায়রিয়া রোগী। শুধু মাত্র এই হাসপাতালেই ৭ দিনের ব্যবধানে ঠান্ডা বাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবের এ চিত্র ফুটে উঠেছে।


তাছাড়া নিকটস্থ ইউনিয়ন কমিউনিটি কিনিক, প্রাইভেট হাসপাতাল ও পাড়া-মহল্লার ওষুধের দোকানে গ্রাম ডাক্তারদের কাছ থেকে চিকিৎসা নেওয়া ডায়রিয়া ও কোল্ড ইনজুরির রোগীর সংখ্যা নেহাত ১ হাজারের কম নয় বলে ধারনা করা হচ্ছে।

মুন্সীগঞ্জ ও মীরকাদিম পৌরসভায় খুব বেশী না হলেও সদরের বাংলাবাজার, আধারা, মোল্লাকান্দি, চরকেওয়ার, শিলই, মহাকালী, বজ্রযোগিনী, রামপাল ও পঞ্চসার ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম গুলোতে ঠান্ডা জনিত রোগের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশী।
এদিকে, ডায়রিয়া ও শীতজনিত রোগের মহামারিতে ১০০ শয্যার মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের বেড সংকট হওয়ায় মেঝেতে ঠাঁই হয়েছে ডায়রিয়া আক্রান্ত শতাধীক নারী-শিশুর।
hospital-inside
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: কামরুল করীম জানান, এক সপ্তাহে ৩০ জনের মতো শিশু ও আরো ২০ জন নারী-পুরুষ ডায়রিয়া ও শীত বাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের শিশু-নারী-পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালে কলেরা স্যালাইন, খাবার স্যালাইন ও অন্যান্য ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমানে মজুদ রয়েছে দাবী করে তিনি-বাসি-পঁচা খাবার না খাওয়ার ও শিশুর প্রতি মা-বাবাকে আরো যতœবান হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

জেলার সিভিল সার্জন ডা: কাজী শরীফুল আলম জানিয়েছেন- ডায়রিয়া রোগীদের খাবার স্যালাইন ও কলেরা স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী আসছে। বর্হি-বিভাগে বেড সংকট থাকায় ডায়রিয়া আক্রান্তদের ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের মেঝেতে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার হাসপাতালের জরুরী বিভাগ ও বহিরাগত (আউটডোর) থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন এমন শতাধিক ডায়রিয়া ও কোল্ড ইনজুরি আক্রান্ত রোগী। এর মধ্যে ৮০ ভাগই শিশু, ১২ ভাগ নারি ও ৮ ভাগ পুরুষ বলে জানালেন শিশু বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা: আশরাফুল আলম।

টাইমস২৪