আজ মুন্সীগঞ্জ ২টি আসনের নির্বাচন: ২০৭টি ভোট কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ন

ec৫ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের ২টি আসনে দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে ২টি আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। মুন্সীগঞ্জ ৩টি আসনে কোনো নির্বাচন হচ্ছে না। কারণ এ আসনে ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় মৃনাল কান্তি দাস নির্বাচিত হয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জ ১ আসনে মোট ভোটার হচ্ছে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৭শ’ ৫৬ জন। এখানে ভোট কেন্দ্র হচ্ছে ১শ’৪৬টি। আর ভোট কক্ষ হচ্ছে ৭০২টি। মুন্সীগঞ্জ ২ আসনে ভোটার হচ্ছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৭শ’১৪জন। ভোট কেন্দ্র হচ্ছে ১১৯টি। ভোট কক্ষ হচ্ছে ৫শ’৩১টি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২টি আসনের ২৬৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২০৭টি ভোট কেন্দ্র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন। আর সাধারণ কেন্দ্র হচ্ছে মাত্র ৫৮টি।

Munshigonj_1Ason_Candidateমুন্সীগঞ্জ ১ আসন শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলা নিয়ে গঠিত। মুন্সীগঞ্জ ১ আসনে মোট ৩জন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে নেমেছেন। এর মধ্যে আ’লীগের মনোনীত প্রার্থী হচ্ছেন সুকুমার রঞ্জন ঘোষ। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয় বারের মতো প্রার্থী হয়েছেন ব্যবসায়ী সুকুমার রঞ্জন ঘোষ।

নবম সংসদ নির্বাচনে নতুন মুখ হিসেবে মুন্সীগঞ্জ ১ আসনে হেবি ওয়েট প্রার্থী সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও সাবেক উপ প্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনকে পরাজিত করে সুকুমার রঞ্জন ঘোষ বিজয়ী হন। ৭৫’এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর এটি প্রথম বিজয়। আলোচিত আড়িয়ল বিলের ঘটনা এখানকার নির্বাচনে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে সেই ভোট সুকুমারের বাক্সে নাও পড়তে পারে। এ আসনটি বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ১৮দলীয় অবরোধসহ কোন কর্মসূচি এখানে তেমন পালন করতে দেখা যায়নি। হেভি ওয়েট নেতারা ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ন নেতাদেরকে কেন্দ্রের কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি।


এছাড়া বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যে রয়েছে কোন্দলের হাওয়া। একজন আরেক জনের ওপর দোষ চাপিয়ে নিজের চামড়াকে রাখছে অক্ষত। সেক্ষেত্রে এখানে নির্বাচনের দিন ১৮দলীয় হুমকি কোন প্রভাব ফেলবে না বলে ভোটাররা মনে করে। এই অবস্থায় বিএনপি ও ১৮দলীয় নিরব সমর্থকরা জোটবদ্ধভাবে সুকুমারের বিপক্ষে জাসদের প্রার্থীকে ভোট দিলে সুকুমারের নির্বাচন ঝুঁকির মধ্যে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ভোটাররা আশংকা করছে। সুকুমার ঘোষ শ্রীনগর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি।

এখানে জাসদের প্রার্থীর সাথে সুকুমার রঞ্জন ঘোষের দ্বিমুখী লড়াই হবে।

জাসদের ইনুর মনোনীত প্রার্থী এ কে এম নাসিরুজ্জামান খান। তার প্রতীক হচ্ছে মশাল। তিনি আইন পেশার সাথে জড়িত। সে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি। সে জাসদের জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এ আসনে জাসদের কোন ভোট ব্যাংক নেই। যদি এন্টি আওয়ামী ভোট সে ভাগাতে পারে তবে তার জয়ের শতভাগ আশা আছে বলে এখানকার ভোটাররা মনে করছেন।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জেপির মনোনীত প্রার্থী হচ্ছেন নূর মোহাম্মদ। তার প্রতীক হচ্ছে বাইসাইকেল।

Munshigonj_2Ason_Candidateমুন্সীগঞ্জ ২ আসন লৌহজং ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত। আ’লীগের মনোনীত প্রার্থী সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি দ্বিতীয়বারের মত নৌকা প্রতীক নিয়ে এই আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন। নবম সংসদ নির্বাচনে নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান সিনহাকে পরাজিত করে তিনি বিজয়ী হন। ১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপির দায়িত্ব পালন করেন।

এ আসনের ২টি উপজেলায় আ’লীগের রাজনীতিতে বিভিন্ন ধারায় কোন্দলের জল প্রবাহিত হচ্ছে। এ জল এমিলির নির্বাচনে প্রভাব পড়ার আশংকা করছে ভোটাররা। ইতিপূর্বে লৌহজং উপজেলা আ’লীগের কমিটি গঠনের সময় এমিলি কোন্দলে জড়িয়ে পড়েন। এমিলি উপজেলা সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী আব্দুর রশিদকে সমর্থন করে। আর আ’লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুহ আলম লেনিন ও লৌহজং উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বেপারী সমর্থন করেন সেলিম মোড়লকে। আব্দুর রশিদ এ নির্বাচনে বিজয়ী হন। এ ঘটনায় চাপা কোন্দল প্রকাশ্যে রূপ নেয়।


এছাড়া এখানে ইউনিয়নের এক তরফা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে আ’লীগের ভেতর কোন্দলের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। এসব ঘটনা এমিলির নির্বাচনে বিরুপ প্রভাব পড়বে বলে ভোটাররা মনে করছেন। এখানকার নির্বাচনে আ’লীগ আ’লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী। টঙ্গীবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী ওয়াহিদসহ অনেকেই এমিলির বিপক্ষে রয়েছেন বলে ভোটাররা মনে করছেন।

সেক্ষেত্রে নতুন মুখ হিসেবে এসপি মাহাবুব সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন বলে অনেকেই মনে করছেন। অনেকের ধারণা টঙ্গীবাড়ীতে এসপি মাহাবুবের অবস্থা খুব ভালো। লৌহজংয়ে ভালো করতে পাড়লেই এসপি মাহাবুবের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তাছাড়া তিনি বিজয়ী হতে পাড়লে মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তার সমর্থকরা দাবী করছে। দু’বার আ’লীগ রাস্ট্রের ক্ষমতায় আসলেও এখান থেকে কেউ মন্ত্রী হতে পারেনি। এবার সেই আশা উকি দিচ্ছে।

এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে আনারস প্রতীক নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছেন মাহবুব উদ্দিন আহমেদ (এসপি মাহবুব)। মুক্তিযুদ্ধের সময় মেহেরপুরে মুজিবনগর অস্থায়ী সরকারের প্রথম প্রধান মন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদকে স্যালুট প্রদান করেন। সে সময় তিনি মেহেরপুরের পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন খুন হন তখন তিনি ঢাকার পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পালন করেন।

তার বিরুদ্ধে ১৯৭৬ সালে রমনা থানায় ৫ জানুয়ারি দন্ডবিধি ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং ১৯। পরবর্ততীতে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তিনি বরিশাল ৫ আসনে থেকে একাধিকবার আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন চেয়ে পাননি। তার নানা বাড়ী টঙ্গীবাড়ীতে। একারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোন্দলের সুযোগে তিনি একটি গ্রুপের হয়ে এখানে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

টঙ্গীবাড়ীতে আ’লীগের রাজনীতিতে কোন্দলের জোর হাওয়া বইছে। টঙ্গীবাড়ী উপজেলা আ’লীগের কমিটির নির্বাচনে সভাপতি পদে ডা: হেদায়েতউল্লাহ বাদল মল্লিক জগলুল হালদার ভুতু কাছে পরাজিত হন। ভুতু এমিলিকে সমর্থন করায় বাদল মল্লিক এসপি মাহাবুবকে সমর্থন করেছেন। বাদল মল্লিকের সাথে এসপি মাহাবুবকে নির্বাচনে সমর্থন দিতে আ’লীগের অনেকে কাজ করছে বলে ভোটাররা দাবী করছে। লৌহজংয়ে মিজানুর সিনহার বাড়ী হলেও সরকার বিরোধী কোন আন্দোলনে তাকে রাজপথে দেখা যায়নি। এসি রোমে বসে মোবাইলে নেতা কর্মীদের সতেজ রাখার চেষ্ঠা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। লৌহজং উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান খান মাওয়ায় কয়েকটি দলীয় কর্মসূচী পালনের চেষ্ঠা করলেও প্রতিরোধের মুখে তা করতে পারেনি।

এদিকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী রিপন মল্লিকের বাড়ি টঙ্গীবাড়ীতে। সরকার বিরোধী আন্দোলনের উত্তাপ ছড়াতে তিনি মাঝে মাঝে মুন্সীগঞ্জে আসেন। কিন্তু এই গুনধর নেতাকে কখনো টঙ্গীবাড়ীতে একটি সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে দেখা যায়নি। সেক্ষেত্রে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি কোন প্রতিরোধ সৃষ্ঠি করতে পারবে না বলে ভোটাররা মনে করছেন। সেদিক থেকে বিএনপির নিরব সর্মকদের ভোট এসপি মাহাবুব পেতে পারেন বলে অনেকেই ধারণা করছেন। সেই অনুযায়ী নির্বাচনের চাকা যদি ঘুরে তবে এ আসনে এসপি মাহাবুবের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে দ্বিমূখী লড়াই হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রিক্সা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন মো. আব্দুল ওয়াদুদ। টঙ্গীবাড়ীর আড়িয়ল গ্রামের মৃত মাওলানা আব্দুস ছাত্তারের ছেলে মো. আব্দুল ওয়াদুদ। তার মা হচ্ছেন সুলতানা বেগম রাজিয়া।

Munshigonj_2Ason_Mrinal_Kanti_Dasমৃণাল কান্তি দাস মুন্সীগঞ্জ ৩ আসন থেকে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ছাত্রলীগ থেকে মুন্সীগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজের ভিপির দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় ১৯৭৯ সালে মুন্সীগঞ্জ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার বিরুদ্ধে ৩টি মামলা হয়। এর মধ্যে ২টি মামলা খারিজ ও ১টি মামলায় তিনি খালাস পান। এই নির্বাচনে তিনি নতুন মুখ। তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ দফতর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

মুন্সীগঞ্জ নিউজ