নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগ দিচ্ছেন মাহি!

mahiবিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরি যোগ দিতে পারেন আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠন হতে যাওয়া নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের ওই সরকারে তিনি ‘অনির্বাচিত কোটায়’ যোগ দিতে পারেন।

মাহিকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হবে, এমন প্রস্তাব দেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। সরকারি দল আওয়ামী লীগের দুটি সূত্র এসব তথ্য জানায় ।

সূত্র জানায়, ‘আওয়ামী লীগ চাচ্ছে, নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় অনির্বাচিত কোটায় বিএনপির প্রথম সারির কয়েক নেতাসহ নির্বাচনে অংশ না নেয়া কয়েকটি দলের নেতাকে রাখতে। নতুন সরকারে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীর পর্যায়ের পদে অন্য দলের নেতাদেরকে চাচ্ছে দলটি। তারা এলে নতুন সরকারটিকে সর্বদলীয় সরকার হিসেবে বিদেশে এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। এর মধ্যে দলটির পক্ষ থেকে বিএনপি, বিকল্পধারাসহ আরো কয়েকটি দলের নেতাকে মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।’


সূত্রমতে, ‘দুইদিন আগে মাহি বি চৌধুরির সঙ্গে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন সরকারের এক মন্ত্রী যোগাযোগ করেন। তাকে প্রস্তাব দেয়া হয় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হতে। মাহি তাতে রাজি আছেন বলে সরকারকে জানান।’

মাহি আগামী মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে পারেন, এমন আলোচনা বিকল্পধারাতেও চলছে বলে জানান দলটির দুই নেতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, ‘মহাজোটের সরকারের শুরু থেকেই মাহির আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। সরকার বিরোধী কঠোর কর্মসূচি না দিতে তিনি বিকল্পধারার সভাপতিকে বরাবরই চাপ দেন। তিনি অনেকদিন ধরে দলের সরকার বিরোধী কোনো কর্মসূচিতেও অংশ নেননি।’


তথ্যমতে, বিকল্পধারা আগামী ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। দলটির সভাপতি, সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরি মাহির বাবা। বদরুদ্দোজা চৌধুরি বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের জোটে নেই। তবে তিনি ১৮ দলের জোটের গত ২৯ ডিসেম্বরের ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচিতে সমর্থন করেন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বন্ধেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

মাহির ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, ‘মহাজোটে না থাকলেও মাহি প্রচ- বিএনপির বিরোধী। তিনি বিএনপির এক সময় সংসদ সদস্য ছিলেন। তার বাবা বদরুদ্দোজা চৌধুরিকে বিএনপি, জামায়াত জোটের আমলে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য করে বিএনপি। মাহিকেও তখন দল থেকে পদত্যাগের জন্য বাধ্য করে দলটি। তিনি বিষয়গুলো এখনো ভুলতে পারেননি।’

এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার পর থেকে রাত এগারোটা পর্যন্ত মাহির মুঠোফোন নম্বরে অনেকবার ফোন দেয়া হয়। তবে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

আমাদের সময়