আশা তো রাখবই, কিন্তু সাহসও চাই

sicসিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
আশা তো অবশ্যই রাখি, রাখতেই হবে। কেননা জীবনের জন্য আশাই তো চালিকাশক্তি। আশা না থাকলে বসে পড়তে হয়, জীবন থাকে কিন্তু জীবন্ত থাকি না, জীবমৃত হয়ে পড়ি। বছর যায়, বছর আসে, নতুন বছরের জন্য এটা ওটা প্রতিজ্ঞা করে সজীব হয়ে উঠতে চাই; ভাবি এ বছর আগের বছরের মতো হবে না, বদলাবে, অর্থাৎ কিনা ভালো হবে। কিন্তু হয় না, ব্যক্তিগতভাবে কারও কারও ভাগ্যে হয়তো উন্নতি ঘটে, কিন্তু অধিকাংশের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা দাঁড়ায় আশাহত হওয়ার। আশা যখন নিহত কিংবা আহত হয় তখন রক্ত ঝরে না হয়তো, কিন্তু যে অভিজ্ঞতাটা অর্জিত হয় তা আর যাই করুক নতুন করে আশা করার সাহস জোগায় না। অধিকাংশ মানুষই তাই ভেতরে ভেতরে সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। ভরসা পায় না।

২০১৪ সালটা শুরু হতে যাচ্ছে মস্ত একটা অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়ে। আমাদের সবার জন্যই। অন্য যে কোনো বছরের চেয়ে এবারের অনিশ্চয়তাটা বেশি। সবাই তা বলবেন। কারণটা রাজনৈতিক। অর্থাৎ রাষ্ট্রের সঙ্গে জড়িত। আর এই অনিশ্চয়তার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমরা বুঝতে পারি যে, আমাদের জীবনে রাষ্ট্রের কর্তৃত্বটা কত গভীর ও ব্যাপ্ত। কখনো কখনো আওয়াজ ওঠে যে, আমাদের এই রাষ্ট্র অকার্যকর হয়ে পড়ছে। কানাঘুষা শুনতে পাই যে, রাষ্ট্রকে ব্যর্থ করে দেয়ার জন্য কারা কারা যেন ষড়যন্ত্র পাকাচ্ছে। অথচ সত্য হল এই যে, রাষ্ট্র ভয়ংকর রকম শক্তিশালী এবং রাষ্ট্রশক্তি তা-ই করতে পারে, যা তার ইচ্ছা। সরকার বদলায়, রাষ্ট্র বদলায় না; বরঞ্চ তার নিপীড়নকারী শক্তিকে আরও তীক্ষ্ণ ও সর্বত্রব্যাপী করে তোলে। সেটা না বোঝার তো কারণ দেখি না। ব্যক্তিগতভাবে টের পাই, সমষ্টিগতভাবেও টের পাবে বাকি থাকে না। রাষ্ট্র শক্তিশালী হচ্ছে না বলে যাদেরকে বিলাপ করতে শুনি, তাদের সঙ্গে গলা মেলানোটা নিতান্তই বোকামি। যারা বিলাপ করেন হয় তারা ব্যাপারটা বোঝেন না, নয়তো খুবই বোঝেন, কিন্তু সেই বুঝটাকে লুকিয়ে রেখে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেন; বলা অন্যায় হবে না যে, এরা হচ্ছেন জ্ঞানপাপী। ধারণা করি যে, অবুঝের সংখ্যা অধিক, জ্ঞানপাপীদের সংখ্যা অল্প, কিন্তু এমনই সংসারের নিয়ম যে, সব সময়েই বুদ্ধিমান পাপীদের প্রচারণার কাছে স্বল্পবুদ্ধি নিষ্পাপীরা হার মেনে যান। আসল কথাটা হল এ রকমের যে, রাষ্ট্র অবশ্যই প্রয়োজন; রাষ্ট্র না থাকলে ব্যক্তির নিরাপত্তার আশ্বাস কোথায়? কে দেবে মানবিক অধিকারগুলোর নিরাপত্তা। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে কী দেখা যায়? রাষ্ট্র কী সব নাগরিককে নিরাপদে রাখে, নাকি রাষ্ট্রের যারা কর্তা তাদের স্বার্থ রক্ষা করার নির্লজ্জ প্রয়োজনে বাদবাকি সব মানুষের ওপর নিপীড়ন চালায়, তাদের অধিকারগুলো কেড়ে নেয়? অভিজ্ঞতা কী বলে? বলে এটাই যে, রাষ্ট্র যত ক্ষমতাধর হবে ব্যক্তির ক্ষমতা তত কমবে। অল্প কিছু মানুষের বুদ্ধিতে বাদবাকি সবার খর্ব হয়ে যাওয়া। দৈত্য বাড়ে, দৈত্যের দ্বারা শাসিতরা সঙ্কুচিত হয়। স্বভাবতই।

তাহলে কি বলতে হবে রাষ্ট্র না থাকাই ভালো? মোটেই নয়। রাজ্যের বিকল্প নৈরাজ্য নয়, বিকল্প হচ্ছে রাষ্ট্রক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। ক্ষমতা কোনো একজনের হাতে তো নয়ই, একটি কেন্দ্রেও আটকা থাকবে না, ছড়িয়ে থাকবে সর্বত্র, চলে যাবে পরিধির সর্বশেষ প্রান্ত পর্যন্ত। দৈত্য থাকবে না, সবাই মানুষ হয়ে উঠবে। সেই রাষ্ট্রই আদর্শ রাষ্ট্র, যেখানে মানুষের সঙ্গে মানুষের থাকবে অধিকার ও সুযোগের সাম্য এবং রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরে যথার্থ জনপ্রতিনিধিদের হাতে শাসন কর্তৃত্বের প্রতিষ্ঠা ঘটবে। বৈষম্য নয়, সাম্য হবে সত্য। সেটা ঘটছে না। যতই দিন যাচ্ছে ততই টের পাচ্ছি যে, রাষ্ট্র চলছে ঠিক উল্টো পথে। এককেন্দ্রিক তো বটেই। একচ্ছত্র কর্তৃত্ব চলে যাচ্ছে এক ব্যক্তির হাতে, তা তিনি নির্বাচিত হোন কিংবা অনির্বাচিত, বৈধপথে ক্ষমতায় আসুন কিংবা অবৈধপথেই সিংহাসনে আরোহণ করুন। সমাজতান্ত্রিক হওয়া তো অনেক দূরের কথা, আমাদের রাষ্ট্র বুর্জোয়া ধরনের সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা করতেও ব্যর্থ হয়েছে। রাষ্ট্রের ব্যর্থতা ওইখানেই, অন্যত্র নয়। নির্বিচারে ক্ষমতা প্রয়োগে রাষ্ট্র মোটেই দ্বিধা করছে না, করবেও না। এক্ষেত্রে রাষ্ট্র খুবই সফল।

দৃশ্যত মধ্যবিত্তের একাংশ বেশ ভালো আছে। কিন্তু সুখে নেই, কেবল সে আরও ভালো থাকতে চায়। এই অংশটি যা আশা করেছিল স্বাধীন বাংলাদেশে তার কিছুটা পূরণ হয়েছে; আসলে নতুন রাষ্ট্রে মধ্যবিত্তের একাংশেরই বিশেষভাবে লাভ হয়েছে, অন্যদের তেমন হয়নি। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে মেহনতি মানুষের অংশগ্রহণই ছিল নিয়ামক শক্তি। মেহনতিদের আশা পূরণ হয়নি। আমরা সমষ্টিগত স্বপ্নের কথা বলি, বলতে ভালোবাসি। সেই স্বপ্নটাকে দেশের সব মানুষের মুক্তির স্বপ্ন হিসেবে চিহ্নিত করা অন্যায় নয়, ন্যায়সঙ্গত বৈকি। কিন্তু এই স্বপ্ন গভীর ছিল এমন বলা যাবে না। মধ্যবিত্ত মূলত নিজের কথাই ভেবেছে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেছে ভয়ের কারণে, হানাদারদের ভয়। একাত্তরে তার অনুভবটা ছিল এ রকমের যে, সবার সঙ্গে যুক্ত হতে না পারলে সে বাঁচবে না। সেই ভয়টা যখন কেটে গেল, তখন সবার মুক্তির স্বপ্নটা আর রইল না। স্বপ্ন হয়ে দাঁড়াল ব্যক্তিগত মুনাফার। যারা পারল তারা লুণ্ঠন, জবরদখল, চুরি, চোরাচালান, ব্যবসা, চাকরিতে উন্নতি, যে যেভাবে পারে বড়লোক হতে সচেষ্ট হল। এক্ষেত্রে যারা দুর্ধর্ষ তাদের সফলতাই অধিক। রাষ্ট্র বাধা দেয়নি, উল্টো রাষ্ট্র তাদেরকে সাহায্য করেছে, কারণ রাষ্ট্রক্ষমতা চলে গেছে মুনাফালোভীদের হাতে। ব্যাপারটা মোটেই অস্বাভাবকি নয়। কারণ রাষ্ট্র আয়তনে ছোট হয়েছে, কিন্তু চরিত্রে বদলায়নি। এই রাষ্ট্র আগের রাষ্ট্রের মতোই তাদেরকেই সাহায্য করছে, যারা ক্ষমতাবান। অন্যরা টিকে আছে অসহায়ের মতো।

বিত্তবানদের ভেতরেও ইতরবিশেষ আছে। মধ্যবিত্ত এখন উচ্চবিত্তে এবং নিুবিত্তে এই দুই ভাগে বিভক্ত। বিভাজনটা তথাকথিত সর্বজনীন অনুষ্ঠানের সময়ে বিশেষভাবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যেমন- নববর্ষের অনুষ্ঠান। নববর্ষ বছরে দুবার আসে। একবার পহেলা জানুয়ারিতে, আরেকবার পহেলা বৈশাখে। পহেলা জানুয়ারিতে আমরা বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাই। বিপরীতে পহেলা বৈশাখ আমাদের নিজস্ব। যেটা বিশ্বের তার শক্তি ও দাপট অনেক বড় হওয়ার কথা, হচ্ছেও তাই। পহেলা বৈশাখ বেশ কোণঠাসা।

এই দুই নববর্ষ দিবসের উদযাপনের ভেতরও মস্ত পার্থক্য। পহেলা জানুয়ারির সূত্রপাত ঘটে একত্রিশে ডিসেম্বরের মধ্যরাতে, পহেলা বৈশাখ আসে বৈশাখের পহেলা তারিখের সকাল বেলায়। রাত ও দিনের পার্থক্য। কিন্তু থার্টিফার্স্ট নাইট অন্ধকারাচ্ছন্ন নয় মোটেই। বিশ্বে নানা স্থানে ওই দিন আলোতে আলোকিত হয়ে ওঠে। হৈহুল্লোড় চলে। আমাদের এখানেও তার ঢেউ এসে লেগেছে। বিশেষ বিশেষ এলাকাতে ওই রাতের উদযাপন সম্পন্ন হয় উন্মাদনার ভেতর দিয়ে। বিশেষভাবে উদ্বেল হয়ে ওঠে তরুণ-তরুণীরা। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর হতে হয় উচ্ছৃঙ্খলাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে। ওদিকে পহেলা বৈশাখ সকালের হলেও শান্ত। তফাৎটা পুঁজিবাদী বিশ্বের সঙ্গে অনগ্রসর বাংলাদেশের।

কিন্তু পুঁজিবাদ তো বাংলাদেশে সত্য। আর সেজন্যই তো থার্টিফার্স্ট নাইট এখন বাংলাদেশেও এসেছে। এ একটা আন্তর্জাতিকতাও বটে। পুঁজিবাদী আন্তর্জাতিকতা। পহেলা বৈশাখও কিন্তু পুুঁজিবাদীদের বাইরে নয়। তার উদযাপনও বাণিজ্যের দ্বারা আক্রান্ত। পহেলা বৈশাখে পণ্যের কেনাবেচা আগেও ছিল। মেলা তো মেলাই নয়, যদি কেনাবেচা না থাকে। কিন্তু মেলাতে কেনাবেচাই প্রধান সত্য ছিল না, প্রাধান্য ছিল মেলামেশার, আনন্দের। এক কথায় সামাজিক মুক্তির। এখন ওই সামাজিক দিকটা কমে এসেছে। কিন্তু তবু আছে। অন্তত রাজধানীতে আছে। ঢাকা শহরে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মধ্যবিত্তরা রাস্তায় বের হয়ে আসে। মনে হয় মুক্তি পেয়েছে। এই মধ্যবিত্ত আয়তনে বড়, কিন্তু এর হাতে ক্ষমতা নেই। বিভাজিত মধ্যবিত্তের বড় অংশটি পরিণত হয়েছে নিুমধ্যবিত্তে, ছোট অংশটি উঠে গেছে উপরে। পরিণত হয়েছে উচ্চবিত্তে। ক্ষমতা এবং সুখ এদের হাতেই।

এই যে দুটুকরো হওয়া এটা ধরা পড়ে ওই ভিন্ন ভিন্ন দুটি নববর্ষ উদযাপনের আয়োজনের ভেতরই। থার্টিফার্স্ট নাইট হচ্ছে উচ্চবিত্তের, পহেলা বৈশাখ নিুমধ্যবিত্তের। জীবনযাপন, বিলাসিতা, ভাষা ব্যবহার, আচার-আচরণ, চলাফেরা সবকিছুতেই যখন পার্থক্য আছে, নববর্ষ উদযাপন তখন কি দোষ করল, পার্থক্যটা সেখানে থাকবে না কেন? আছে। এটা না মেনে উপায় নেই যে, ভদ্রলোকেরা এখন ভদ্রতা রক্ষার ব্যাপারে বেশ বিপদের মধ্যে আছে। তারাই ভদ্রলোক যারা কায়িক শ্রম করে না। এককালে এরা মূলত হিন্দুসম্প্রদায়ভুক্ত ছিল; পাকিস্তান হওয়ার পরে এবং বাংলাদেশে মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষেরাও নিজেদেরকে ভদ্রলোক ভেবেছে। কিন্তু এই ভদ্রলোকদের যে অংশ উপরে উঠে গেল তাদের পক্ষে বাঙালিত্বকে রক্ষা করা বেশ কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তারা যে পরিমাণে আন্তর্জাতিক সেই পরিমাণেই দেশীয়ত্ব থেকে বিচ্যুত। মধ্যবিত্ত একুশে ফেব্র“য়ারি পালন করে। মেহনতী মানুষ করে না, করতে পারে না। কিন্তু মধ্যবিত্তের উচ্চ অংশের তরুণরা একুশে ফেব্র“য়ারিতে তেমন আগ্রহী নয়, তারা খুশি হয় ভ্যালেন্টাইন দিবস পালন করতে পারলে। ওই দিনটি আসে একুশের সপ্তাহখানেক আগে। দেখা যাচ্ছে, তার গুরুত্ব বাড়ছে। যেমন শক্তি বাড়ছে উচ্চবিত্তের। ভদ্রলোক মধ্যবিত্তের এখন ছত্রভঙ্গ হওয়ার উপক্রম। কারণ ক্রমশ সে নিুমধ্যবিত্তের কাতারে চলে আসছে? ইংরেজি তো আছেই, ওই ভাষার কর্তৃত্ব বাড়ছে, আবার হিন্দিও ঢুকে পড়ছে। চাপ এবং অন্তর্ঘাত সমান বেগে তৎপর। সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রেও একটা পরিবর্তনের আভাস দেখছি। বইয়ের পাঠকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলে শুনতে পাই। এটা নিতান্ত যে গুজব তা নয়, বাস্তবিক ক্ষেত্রেও সত্য বটে। কিন্তু এর ভেতরও শ্রেণীবিভাজন চলে এসেছে। উচ্চবিত্ত ইংরেজি বইয়ের খোঁজ করে, বাংলা বইতে উৎসাহ দেখায় না। আগে এমনটা ছিল না। কেবল তা-ই নয়, পশ্চিমবঙ্গে তো অবশ্যই, আমাদের বাংলাদেশেও নতুন লেখকদের একাংশ ইংরেজিতে লিখতে পারলে খুশি হয়। কারণটা সোজা। ইংরেজি বইয়ের বাজারটা বড়। সে বাজার দেশে আছে, বিদেশেও প্রসারিত। ইংরেজিতে লিখলে বৈশ্বিক প্রচার লাভের এবং মেধাবান বলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আশা থাকে। বাংলার চর্চা তেমন আশাকে উৎসাহিত করতে পারে না। বাংলা বই অনুবাদ করলে তবেই না দেশের সীমান্ত অতিক্রম করতে পারবে।

উৎসবে আমরা শুভেচ্ছা বিনিময় করি। কাজটা কার্ডের মাধ্যমে করা সোজা। দেখা যাচ্ছে, ইংরেজি নববর্ষে তো অবশ্যই, ঈদেও কার্ড আসে ইংরেজিতে। ওদিকে বিয়ের দাওয়াতে বাংলা ব্যবহার তো ইতিমধ্যে বিরল হয়ে পড়েছে। উৎসবের কার্ড আগে দোকানে পাওয়া যেত। সে ব্যবসা এখন তুলনামূলকভাবে সীমিত। দেখতে পাচ্ছি প্রতিষ্ঠান তো অবশ্যই, ব্যক্তিও এখন নিজের কার্ড নিজেই ছাপিয়ে নেয়। বাজারের ওপরে ভরসা করা যাচ্ছে না। গতি অন্তমুখী। সবকিছু মিলিয়ে ব্যবস্থাটা মোটেই আনন্দদায়ক নয়, আশাবাদও বলা যাবে না। অবশ্যই একে বদলানো চাই। কিন্তু কী করে বদলাবো? ব্যক্তির সাধ্য কী বদলায়? বদলাতে হবে সমবেত চেষ্টায়। মূল অপরাধী বৈষম্য। তাকে চিহ্নিত করা এবং তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সতত প্রবহমান আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। সেটা যদি না করতে পারি তা হলে ব্যবস্থা বদলাবে না, অধিকন্তু বর্ষে বর্ষে তা আরও খারাপ হবে, যেমনটা এখন ঘটছে। নতুন বছরের সূচনাতে তাই ভরসার ওই জায়গাটা তৈরি করার কথাটা বিশেষভাবে স্মরণ করা দরকার। বৈষম্যকে বাড়তে দিলে তার খাদ আমাদেরকে গ্রাস করে ফেলবে। আবারও বলতে হয়, বাঁচার মতো বাঁচতে হলে ব্যবস্থাটাকে বদলানোর জন্য আন্দোলন চাই। ওই আন্দোলনের বাইরে সাহস পাওয়া যাবে এমন জায়গা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। আশা করব ব্যবস্থা বদলের আন্দোলন বেগবান হবে। এমনি এমনি নয়, হবে আমাদের সমষ্টিগত চেষ্টাতে। আশা করব ওই সাহসটা অন্য কোথাও থেকে আসবে না, আন্দোলন ছাড়া। আন্দোলন অনেক আছে, এই বড় আন্দোলনটা খুবই দরকার। মানুষ তো সেই ব্যবস্থাই পায়, যার সে যোগ্য। আমরা কতটা যোগ্য তার প্রমাণ দেওয়া চাই। সমবেতভাবে।

যুগান্তর