বিএনপি’র নেতৃ্ত্বে ১৮ দলের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

MFDjapan1টোকিও’র বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে জাপান
রহমান মণি: ১৮ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আহবান ”মার্চ ফর ডেমোক্রেসি” বা গণতন্ত্র অভিযাত্রায় সাড়া দিয়ে জাপান শাখা বিএনপি’র নেতৃ্ত্বে ১৮ দলীয় জোট এবং তাদের অংগ সংগঠন সমূহের নেতৃবৃন্দ টোকিওস্ত বাংলাদেশ দূতাবাসে সন্মুকে এক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। ২৯ ডিসেম্বর রোববার বাংলাদেশে দলের কেন্দ্রিয় কর্মসূচীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে জাপানে সাপ্তাহিক ছুটি হওয়া সত্বেও জাপান পুলিশ বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষ এই কর্মসূচীতে বিপুল সংক্ষক নেতা-কর্মী অংশ নেয়।

কনকনে থান্ডা উপেক্ষা করে বাংলাদেশে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমাধান লক্ষ্যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আহবানে জাপানের বিভিন্ন জেলা গুলি থেকে ১৮ দলীয় জোট নেতা-কর্মীরা বেলা ২.৩০ এর সময় বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত পোস্টার নিয়ে দূতাবাসের সামনে সমবেত হন। বাংলা, ইংরেজি, জাপানী ভাষায় লিখা এবং সংযুক্ত বিভিন্ন স্থির চিত্র প্রদর্শনীতে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। সমাবেশে খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়ার ছবি সম্বলিত পোস্টারও শোভা পায়। ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার সমাহার।

জাপান বিএনপির সহ সভাপতি আলমগীর হোসেন মিঠুর পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাপান শাখা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর রেজাউল করিম রেজা, ইসলামিক মিশন জাপানের সভাপতি মেজবাউল করিম, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামিক মিশন জাপানের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল রহমান শিমুল। সিরাজুল হক জাপানী ভাষায় তা জাপান পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং জাপান মিডিয়া কর্মীদের অবহিত করেন। সমাপণী বক্তব্য রাখেন বিএনপি জাপান শাখার সহ সভাপতি মণিরুল ইসলাম মণি। প্রায় এক ঘণ্টা ব্যাপি বিক্ষোভ সমাবেশে সরকার বিরোধী বিভিন্ন শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
MFDjapan1

MFDjapan2
বক্তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে ৫ জানুয়ারী দশম জাতীয় নির্বাচন বন্ধ করে অভিলম্বে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার আহবান জানিয়ে বলেন, ভালোয় ভালোয় কাজটি না করলে পালাবার পথ খুজার সুযোকটুকু পাবেন না। তারা বলেন পৃথিবীর ইতিহাসে কোন স্বৈর শাসকই ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি। আপনিও পারবেন না। যেমনটি পারেননি আপনার বাবা। যার পরিণাম হয়েছে স্বপরিবারে মৃত্যুবরণ। আপনার অবস্থা আরো করুণ ও ভয়াভহ হবে বলে বক্তারা হুঁশিয়ার করেন।

জাপান পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া পরিস্থিতি সার্বিক ভাবে তুলে ধরা হয়। আইন শৃংখলা রক্ষার নামে সাধারণ নাগরিকদের অযথা হয়রানী, বিনা ওয়ারেন্টে যখন তখন, যাকে তাকে আটক, যান চলাচল বন্ধ করে সরকার নিজেই অবরোধ ডেকে ঢাকা শহর থেকে অন্যান্য শহর গুলির সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা সহ সরকার কর্তৃক হরতাল আহবান ও পালন করাকে পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হয় বিক্ষোভ সমাবেশে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী আখ্যায়িত করে বক্তারা বিনা প্রতিদন্ধিতায় ১৫৪ জন এমপি নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা কে হাস্যকর এবং অবৈধ বলে দাবী করেন।

পূর্বে অনুমতি এবং যথাযথ প্রক্রিয়া গ্রহণ করে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করে। তবে দূতাবাস বন্ধ থাকায় কোন কর্মকর্তা, ক্রমিচারিদের দেখা যায়নি। ভবনটি ছিল তালা বন্ধ। সবশেষে জাপান পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন সহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।