এমিলির বিরুদ্ধে ইসিতে যত অভিযোগ

emily1মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী জাতীয় সংসদের হুইফ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলির বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)।

এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহাবুব উদ্দীন আহমেদ বীর বিক্রমেরই লিখিত অভিযোগ পড়েছে দুইটি। এর একটি ‘নির্বাচনী এলাকায়
লাইসেন্স করা অস্ত্র প্রদর্শন ও ব্যবহার করে সন্ত্রাস সৃষ্টি..’ ও অন্যটি ‘নির্বাচনী প্রচারণায় সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে প্রচারণায় বাধা প্রদান ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান’।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সম্পদের পাহাড় বানানোর অভিযোগ করেছেন এলাকার কয়েক জন ভোটার।
কয়েকজন অভিযোগ করেছেন, এমিলি নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফ নামায় সম্পদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে অঢেল সম্পদের কথা লুকিয়েছেন। দেখিয়েছেন শস্যদানার চেয়েও কম।

ইসি সূত্র বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছে, নির্বাচন কমিশন তাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষণে এমিলির বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরনবিধি লঙ্ঘনেরও সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহাবুব উদ্দীন আহমেদ বীরবিক্রম তার লিখিত অভিযোগ পত্রে লিখেছেন, ‘নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-২ নির্বাচনী এলাকায় নৌকা মার্কার প্রার্থী সাগুফতা ইয়াসমীন এমিলির সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছেন। তারা আমার নেতাকর্মীদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে এবং দেখামাত্র দৈহিকভাবে মারধর করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাছাড়া এমিলি সন্ত্রাসী বাহিনী টেলিফোনে ও মোবাইলের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় আমার হুমকি ধামকি দিচ্ছে যা নির্বাচনী আচরণবিধির সংশ্লিষ্ট ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করা হয়। যে সকল সন্ত্রাসীরা হুমকি ধামকি দিচ্ছে তারা হলো, আশরাফ, মেহেদী ও তপন। এ তিনজনের লাইন স্যুটের বন্দুক লাইসেন্স করা হয়েছে। লাইসেন্সধারীরা অস্ত্র দিয়ে নির্বাচনী এলাকায় আমার নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে তাদের প্রদানকৃত অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।’

মাহবুব উদ্দীন আহমেদের অপর এক লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ‘২৪ ডিসেম্বর আমি ও আমার কর্মীরা নির্বাচনী গণসংযোগ করার লক্ষে সকাল ১০টায় কলম ইউনিয়নের কলমা বাজারে পৌঁছালে এমিলির সন্ত্রাসী পালিত বাহিনী কামরুজ্জামান অরুনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী লাঠি-সোটা, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার গণসংযোগে বাধা দেয়।’

কলমা বাজারে গণসংযোগ চালালে মেরে ফেলারও হুমকি এমিলি বাহিনী দেন বলে অভিযোগ মাহবুব উদ্দীনের।

তিনি আরও বলেছেন, ‘গডদিয়া ইউনিয়নের জোড়পল বাজারে গেলেও জনসংযোগে বাধা দেওয়া হয়। এখানে গাড়ি থেকে আমার লোকজন নামা মাত্রই এমিলির পোষা সন্ত্রাসী রাজু, মোহাম্মদ আলী ও জনির নেতৃত্বে পুনরায় লাঠি, সোটা, রামদা, ও দেশীয় অস্ত্র
দিয়ে আমার কর্মীদের গণসংযোগে বাধা দেওয়া হয়। এখান থেকে পুলিশ প্রহরায় লৌহজং থানার ঘোড়দৌড় বাজারে গেলে এমিলির পোষা সন্ত্রাসী রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী আবারও বাধা দেয়। তারা আমার গাড়ি আটকিয়ে দেয় সেখান থেকেও পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌছে দেয়।’

এদিকে এমিলির বিরুদ্ধে আরো লিখিত অভিযোগ দিয়েছে এলাকার ভোটাররা। তারা এমিলিরি বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ অর্থ উপার্জন এবং হলফনামায় সম্পদ লুকানোর অভিযোগ করেছেন।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় দেখা য়ায়, ২০০৮ সালে মুন্সিগঞ্জ-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি। শিক্ষাগতা যোগ্যতা দেখিয়েছেন এমএসসি । পেশা হিসাবে উল্লেখ করেছেন
কৃষিপণ্য মজুদ ব্যবসা। ২০০৮ সালে আয়ের উৎস হিসাবে দেখা গেছে তিনি চাকরি হিসাবে এককালীন ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা গ্রহণ করেছিলেন।

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার আয় কয়েকগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি সংসদ ও হুইপ হিসাবে বছরে ১৯ লাখ ২৭ হাজার ৫৫৮ টাকা আয় করেন।

২০০৮ সালে অস্থাবর সম্পদ হিসাবে দেখা গেছে, ব্যবসা থেকে বছরে আয় ৮ লাখ ৪৮ হাজার ৬০০ টাকা। এখন এই টাকার পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়েছে।

২০০৮ সালে নিজের নামে নগদ টাকা ছিল ১১ লাখ ১৮ হাজার ৬০০ টাকা এবং স্বামীর ছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৮১৮ টাকা।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ইসিতে দেওয়া হলফ নামা থেকে দেখা গেছে, নিজের নামে নগদ টাকার পরিমাণ কমলেও বেড়েছে স্বামীর নামের নগদ টাকার পরিমাণ। নিজের নামে নগদ টাকা আছে ৫ লাখ ২৪ হাজার ৭৯১ টাকা এবং স্বামীর নামে আছে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

নিজের নামে ব্যাংকে জমাকৃত টাকার পরিমাণও বেড়েছে। ২০০৮ সালে নিজের নামে ব্যাংকে জমা ছিল ৩০ হাজার টাকা বর্তমানে আছে ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩১ টাকা। ২০০৮ সালে স্বামীর নামে ৪৪ হাজার ৯৯৫ টাকা ব্যাংকে জমা থাকলেও বর্তমানে স্বামীর নামে কোনো টাকা নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

২০০৮ সালে নিজের নামে ২০ ভরি ও স্বামীর নামে ৮০ হাজার টাকার স্বর্ণ ছিল বর্তমানেও একই পরিমাণে স্বর্ণ আছে।

২০০৮ সালে স্বামীর নামে পোস্টাল সঞ্চয় পত্রে জমা ছিল ২৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ছিল। তবে প্রার্থীর নিজের নামে এ খাতে ৩১ লাখ টাকা আছে। এছাড়া ২০০৮ সালে প্রার্থী শেয়ার ব্যবসায়ী ছিলেন না, বর্তমানে তিনি শেয়ার ব্যবসায়ী বনে গেছেন। এখাতে তিনি ৩৭ লাখ টাকা লগ্নি করেছেন।

বেড়েছে স্থাবর সম্পদের পরিমাণও। প্রায় ৪০ শতাংশ কৃষি জমি আছে এছাড়া ঢাকায় ৫ কাঠা প্লট আছে যার মূল্য প্রায় ২৩ লাখ টাকা। এছাড়া সংসদ সদস্য হওয়ার পর তিনি ৬০ লাখ ৯৯ হাজার টাকার একটি ল্যান্ড ক্রুজার কিনেছেন। এছাড়া একটি ফ্ল্যাট বিক্রির অগ্রিম ৩৪ লাখ ১৩ হাজার ৯৯১ টাকা আছে। হামিম ডিজাইনে ২৩ লাখ ০৫ হাজার ৯৯১ টাকাও লগ্নি করেছেন এমিলি।

২০০৮ সালের হলফনামায় তিনি ২৩ লাখ ২১ হাজার ৮৫০ টাকা মূল্যের একটি বাড়ির কথা উল্লেখ করেছিলেন। এছাড়া নগরীর নাখালপাড়া ও লাল মাটিয়াল ফ্ল্যাটের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

২০০৮ সালের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এমিলির মিরপুরে একটি বাড়ি আছে। কিন্তু দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তা উল্লেখ করা হয়নি।

২০০৮ সালে আয়কর বিবরণীতে মূলধননের পরিমাণ ৮ লাখ ৪৬ হাজার দেখিয়েছিলেন তিনি। এছাড়া অকৃষি সম্পত্তির মূল্য সাড়ে ৭ লাখ। এ থেকে মোট আয় ২ লাখ ১০ হাজার। এবং প্রদত্ত কর ৩ হাজার টাকা।

কিন্তু এলাকাবাসী ইসিতে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, এমিলি যে সম্পদ তার হলফনামায় দেখিয়েছেন তার সম্পদের তুলনায় তা শষ্যদানাও নয়।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর