এমপি হয়ে স্বামীকে ছাড়িয়ে গেছেন সাগুফতা!

emily1এমপি হলেই ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে অনেকেরই। গড়ে তুলছেন সম্পদের পাহাড়। আর এই সম্পদ গড়ে সঙ্গী করা হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীদের। মুন্সিগঞ্জের এমপি সাগুফতা ইয়াসমিন এমপি হয়েই আয় ও সম্পদে ছাড়িয়ে গেছেন স্বামীকে। নগদ অর্থ, স্থাবর, অস্থাবর সম্পদে এখন স্বামীর চেয়ে অনেক দুরে এগিয়ে গেছেন তিনি। জাতীয় সংসদের হুইপ ও আওয়ামী লীগের এমপি মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সাগুফতা ইয়াসমিন।


মহাজোট সরকারের পাঁচ বছরে বার্ষিক আয়, অস্থাবর সম্পদ ও স্থাবর সম্পদ সবই বেড়েছে বহু গুণে। তবে পাঁচ বছর আগে তার চেয়ে তার স্বামীর সম্পদ বেশি থাকলেও এই পাঁচ বছরে সবক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়েছেন তিনি। নির্বাচন কমিশনে দেয়া হলফনামা অনুযায়ি ২০০৮ সালে তার বার্ষিক আয় ছিল ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। আর বর্তমানে তা প্রায় ১০ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদও বেড়েছে ৯ গুণ। বার্ষিক আয়, অস্থাবর সম্পদের পাশাপাশি বেড়েছে স্থাবর সম্পদের পরিমাণও। ২০০৮ সালের হলফনামায় তার নামে কোন স্থাবর সম্পদ না থাকলেও মহজোট সরকারের পাঁচ বছর পর তিনি জমি ও বাড়ির মালিক হয়ে গেছেন।

হলফনামা থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালে সাগুফতার বার্ষিক আয় ছিল ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। এসময় অস্থাবর সম্পদ ছিল ১২ লাখ ৩ হাজার ৬০০ টাকা। এর মধ্যে নগদ টাকায় ছিল ১১ লাখ ১৮ হাজার টাকা। তবে এ সময় তার স্বামীর অস্থাবর সম্পদ ছিল ৪১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। ২০০৮ সালে সাগুফতার নামে কোন স্থাবর সম্পদ ছিল না। স্বামীর নামে মিরপুর, নাখালপাড়া ও লালমাটিয়াতে তিনটি ফ্ল্যাট ছিল। যার মূল্য ছিল ২৩ লাখ ২১ হাজার ৮৫০ টাকা। আর এ সময় সাগুফতার পেশা ছিল কৃষি পণ্য মজুদ। তবে মহাজোট সরকারের পাঁচ বছর পর স্বামীর অস্থাবর সম্পদ মাত্র দ্বিগুণ এবং স্থাবর সম্পদ অপরিবর্তিত থাকলেও বেড়েছে সাগুফতার সম্পদ। কৃষিপণ্য মজুদ পেশার পরিবর্তে এ সময় তার পেশা হয়েছে জাতীয় সংসদের হুইপ ও সমাজসেবা। এই পেশা থেকে তার বার্ষিক আয় আগের চেয়ে প্রায় ১০গুণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা।

অস্থাবর সম্পদও ৯ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১ কোটি ৯ লাখ ২৯ হাজার টাকা। তবে তার স্বামীর আয় ২০০৮ সালে ৪১ লাখ টাকা থাকলেও বর্তমানে এই আয় বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৮০ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। আর ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে সাগুফতার মুন্সিগঞ্জে ৩৯ দশমিক ৫ শতকের একটি কৃষি জমি বৃদ্ধি পেয়েছে। যার মূল্য ৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এছাড়া উত্তরায় ৫ কাঠা জমির উপর একটি বাড়ি নির্মাণাধীন রয়েছে বলে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। যার মূল্য ২১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। যদিও ২০০৮ সালে তার নামে কোন স্থাবর সম্পদ ছিল না।

মুন্সীগঞ্জ বার্তা