মুক্তিপন নিয়েও হত্যা করা হলো লৌহজংয়ের মজিবরকে

roki২৭ লাখ টাকা মুক্তিপন দিয়ে ও শেষ রক্ষা হলো না গ্রীসে প্রবাসী বাংলাদেশী মজিবর রহমান খান রকির। দুই মাস পর তাকে হত্যা করার খবর পাওয়া গেলেও রকির মরদেহ কবে বাংলাদেশে আসবে-তাও জানেনা রকির পরিবার। গ্রীসে নিহত রকি মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার মাহামুদপট্টি গ্রামের প্রয়াত আব্দুল লতিফ খানের ছেলে।

জানা গেছে, রকি দীর্ঘ ৯ বসর যাবত গ্রীসের প্রেসতারি এলাকায় অবস্থান করছিলেন। গত ৫ই সেপ্টেম্বর দুপুরে মজিবর তার স্ত্রী আখিনুরকে মুঠোফোনে জানায় এ মুহুর্তে গ্রীসে তার ৬ লাখ টাকার প্রয়োজন । টাকাটা যোগার করে রাখতে বলেছে মজিবর। দুইদিন পর ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অবস্থানরত জনৈক গিয়াসউদ্দিন মোল্লার ইসলাম ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড মতিঝিল শাখা, ঢাকার একাউন্ড নংÑ৭৪১৭৯ একাউন্ডে দ্রুত ৪ লাখ টাকা জমা দেয়ার জন্য তার স্ত্রীকে ফোন করে বলেন। জনৈক গিয়াসউদ্দিন মোল্লার একাউন্ডে ৪ লাখ টাকা জমা দেন স্ত্রী আখিনুর। ঠিক একদিন পর ১০ সেপ্টেম্বর মজিবর আবারো ফোন করে তার স্ত্রীকে গিয়াসউদ্দিন মোল্লার একাউন্ডে আরো ২ লাখ টাকা জমা দেয়ার কথা বলেন।

ওইদিন বিকেলে আখিনুরের মুঠোফোনে গ্রীস থেকে ফোন করে জানানো হয় তার স্বামী মজিবরকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে জীবিত অবস্থায় ফেরত পেতে চাইলে গিয়াসউদ্দিন মোল্লার একাউন্ডে আরো ২০ লাখ টাকা দিতে হবে। অন্যর্থায় আপনার স্বামীকে খুন করা হবে এই বলে হুমকি দেয় । রকির পরিবারের অভিযোগ জনৈক বড় ভাই গিয়াসউদ্দিন মোল্লার সহযোগীতায় ছোট ভাই আলউদ্দিন মোল্লা গ্রীসে একটি চক্র গড়ে তুলেছে। তারা প্রবাসী বাংলাদেশীদের খোঁজখবর নিয়ে তাদের অপহরণ করে মুক্তিপন দাবি করে। ঠিক একই কায়দায় মজিবর রহমানকেও আলাউদ্দিন তার সহযোগীতায় নিয়ে অপহরণ করে গ্রীসের অঞ্জাত স্থানে নিয়ে আটকে রাখে। তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে এবং তার পরিবারের কাছে দুই দফায় ২৭ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করেন। মুক্তিপনের টাকা না পেলে মজিবরকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়।


অপহরণের সংবাদ পেয়ে অনেকটা ভেঙ্গে পড়ে স্ত্রী আখিনুর। সহায় সম্বল বিক্রি করে এবং আতœীয় স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে আরো ১৯ লাখ টাকা তাদের কথানুযায়ী বাংলাদেশের গাজীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়। এরপরও শেষ রক্ষা করা গেলো না মজিবর রহমান খান রকিকে। ২৭ লাখ টাকা নেয়ার পর অপহরণকারী চক্রটি মজিবরের পরিবারের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় । মজিবরের আর কোন খোঁজখবর না পাওয়ায় তার স্ত্রী আখিনুর লৌহজং থানায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর একটি সাধারণ ডাইরি করেন। এরপর মজিবরের ছোট ভাই আব্দুল মতিন খান বাদী হয়ে ঢাকার মতিঝিল থানায় গিয়াসউদ্দিন মোল্লাকে আসামী করে আরো একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ গিয়াসউদ্দিন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেন।

কিছুদিন পর ছাড়া পেয়ে আসামী পক্ষের লোকজন মজিবরের পরিবারকে বিভিন্ন সময় হুমকি দামকি দেয়ায় মজিবরের পরিবার ডিবির কাছে বিষয়টি নিয়ে সহযোগিতা চায়। মজিবরকে উদ্ধারের ব্যাপারে তেমন কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন মজিবরের পরিবার। এরপর মামলাটি দেয়া হয় সিআইডিতে। তাদের সহযোগিতায় গ্রীসের পুলিশের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশী ৩ ঘাতক রাসেল মিয়া, মোর্শেদ আলম ও জামাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হলে তারা মজিবরকে অপহরণ করে হত্যার কথা স্বীকার করেন। আসামীদের স্বীকারোক্তি মতে, গ্রীসের একটি বাগান থেকে গত ৪ ডিসেম্বর মজিবরের লাশ উদ্বার করা হয়। পলাতক রয়েছে প্রধান ঘাতক আলাউদ্দিন মোল্লা।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়, গ্রীসে ময়নাতদন্ত শেষে এ মাসের যে কোন দিন মজিবরের লাশ বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। এদিকে বারবার মুর্ছা যাচ্ছেন মজিবরের মা, স্ত্রী আখিনুরসহ পরিবারের সবাই। পরিবারের ৮ভাই ২ বোনের মধ্যে রকি ছিলো ৬ নম্বর। তার দুই মেয়ে শাওন রহমান, সুমাইয়া মেঘলা ও এক ছেলে রাইয়ান খাঁন।

মুন্সীগঞ্জ বার্তা