ড্রেজিংয়ে মাওয়া-কাওড়াকান্দি – নৌপথ সচল রাখার চেষ্টা

mawa-padma-polরাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের ২৩ জেলার সড়ক পথে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌপথে পদ্মায় পানি কমে যাওয়ায় নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। নিয়মিত ড্রেজিং করে নৌপথ সচল রাখার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

ফেরি চলাচলের চ্যানেলের চারটি পয়েন্টে রাত দিন ২৪ ঘণ্টা ড্রেজিং করে চলছে নদীর তলদেশ থেকে পলি অপসারণের কাজ। পদ্মায় আশঙ্কাজনক পানি কমতে শুরু করলে চ্যানেলের কয়েকটি পয়েন্টে পলি জমে ডুবোচর দেখা দেয়। ভরা বর্ষায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে পদ্মায় প্রচণ্ড স্রোতের কারণে পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে চ্যানেলের গভীরতা কমতে শুরু করে। সে কারণে নৌপথ সচল রাখতে তিন মাস আগে থেকেই ড্রেজিং শুরু করা হয়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

এদিকে, বর্তমানে পানি অতিমাত্রায় কমে যাওয়ায় ড্রেজিং করেও নৌপথ সচল রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফেরি ও অন্য নৌযান চলাচল সচল রাখতে নৌপথের হাজরা, মাগুরখণ্ড, কাঠালবাড়ী ও মাঝিকান্দি টানিং পয়েন্টে নিয়মিত ড্রেজিং চলছে। তবে পানি স্বল্পতার কারণে নৌরুটে রো রো ফেরিগুলো চলছে ঝুঁকি নিয়ে। পলির কারণে চ্যানেলের গভীরতা কমে যাওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। রো রো ফেরি চলাচলের জন্য নৌরুটে আট ফুটের অধিক নাব্যতার প্রয়োজন হয়। পলি জমে চ্যানেলের দীর্ঘ এলাকায় আট ফুটের কম পানি বিরাজ করছে। এতে ফেরি চলাচল সচল রাখতে নিয়মিত ড্রেজিং করতে হচ্ছে। চ্যানেলের প্রবেশ পথ সরু হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো।

লঞ্চ মালিক সমিতির নেতা হুমায়ূন কবীর জানান, চ্যানেল সরু ও চাপা হওয়ায় ফেরির পাশাপাশি লঞ্চ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। ডুবোচরের কারণে নৌপথের কয়েকটি স্থানে লঞ্চ আটকে যাচ্ছে।

ড্রেজিং কাজে নিয়োজিত ড্রেজারের লিভারম্যান মহসীন মিয়া জানান, নাব্য সঙ্কটের আশঙ্কায় গত তিন মাস ধরে রাতদিন ২৪ ঘণ্টা ড্রেজিংয়ের কাজ অব্যাহত রয়েছে। এতে করে প্রতিদিন এই নৌপথের পৃথক চারটি পয়েন্টে প্রতিদিন ৩২ থেকে ৩৫ হাজার ঘনফুট পলি চ্যানেল থেকে অপসারণ করা হচ্ছে। তবে অতিমাত্রায় পানি কমে যাওয়ায় ড্রেজিং করেও নৌপথ সচল রাখা কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে।

বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশলী মো. সুলতান উদ্দিন জানান, ড্রেজিং অব্যাহত থাকায় নৌপথে ফেরিসহ অন্য নৌযান চলাচলে আপাতত তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে ড্রেজিং অব্যাহত না থাকলে নৌপথে যে কোনো সময় বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। নিময়মিত ড্রেজিং অব্যাহত থাকলে নাব্য সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি।

বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক (বানিজ্য) সিরাজুল ইসলাম নতুন বার্তাকে জানান, নৌপথ সচল রাখতে নিয়মিত ড্রেজিং অব্যাহত রয়েছে। পলি ও ডুবোচরের কারণে চ্যানলের কোনো পয়েন্টে সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

নতুন বার্তা