অন্য রোগীদের চিৎকারে আঁতকে ওঠেন আলমগীর

alamgirহঠাৎ আগুন দেখেই চিৎকার দেন আলমগীর। আগুনের তাপ আর ধোঁয়া। দাউ দাউ করে আগুন আসছে বাসের ভেতর। কিছুই মনে নেই। বাঁচাও বলে চিৎকার। ‘আমার শরীর জ্বইল্লা যাইতাছে। আমারে বাঁচান’। চিৎকার শুনে এক দারোয়ান ছুটে এসে দরজা ভেঙে বের করে তাকে। এর মধ্যে তার শরীরের বেশির ভাগ অংশই আগুনে ঝলসে যায়। বাঁচার চেষ্টা করেছেন নিজেও। দরজা খুলতে গিয়ে হাত পুড়ে গেছে। কাঁচের আঘাতে হয়েছেন ক্ষত-বিক্ষত। তখন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান সেই দারোয়ান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে পাঠিয়ে দেন কর্তব্যরত ডাক্তার। পরে ভোর ৪টায় ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে গতকাল রাত ২.৩০ মিনিটে মাওয়া ফেরিঘাটে। আলমগীরের ভাই আনিস জানান, তিনি ঢাকা-মাওয়া রুটের গ্রেট বিক্রমপুর গাড়ির হেলপার ছিলেন। গত এক বছর ধরে এই কাজ করেন। এর আগে নিজের ফার্নিচারের ব্যবসা ছিল। সেই ব্যবসায় ক্ষতি হওয়ায় হেলপারের কাজ শুরু করেন। তিনি জানান, গত ৪-৫ দিন যাবৎ আলমগীর বাড়িতে যেতেন না। এ জন্য তাদের কিছু জানা ছিল না তার সম্পর্কে। তবে জানতেন যে তিনি গাড়িতেই থাকতেন।

এ ঘটনার পর অন্য হেলপাররা তাদের বাড়িতে খবর দেন। এই খবর পেয়ে বড় ভাই আনিস আসেন ভাইকে দেখতে। আলমগীরের খালা জানু বেগম বলেন, ‘বাবার সঙ্গে রাগ করে ৪-৫ দিন আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে এসেছিলো আলমগীর। তার বাবা বলেছিলেন, এখন তো হরতাল-অবরোধ চলছে। তোমার কাজে যাওয়ার দরকার নেই। ভাইয়ের বিয়ে এক সপ্তাহ পর। বাড়িতে অনেক কাজ তোমার যাওয়ার দরকার নেই। বাইরে গেলে বিপদ হতে পারে। বাবার কথা শোনেনি সে। বাড়ি থেকে বের হয়ে আসে। আর রাগ করায় অবরোধেও বাড়ি যায়নি। ইচ্ছা করে গাড়িতে ঘুমিয়েছে।’ অবরোধের আগুনে এবার তাকেও পুড়তে হলো। এখন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন তিনি। শরীরের প্রায় ২০ শতাংশ আগুনে ঝলসে গেছে। তার নাম আলমগীর শেখ (২৩), পিতা ইউনুস শেখ। তারা তিন ভাই ও এক বোন। ভাইদের মধ্যে আলমগীর ছোট। আলমগীরের পাশে বসে আছে তার খালা। আর বার্ন ইউনিটের সিটে শুয়ে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন আলমগীর। মাঝে মাঝে অন্য রোগীদের চিৎকারে ভয়ে আঁতকে উঠছেন। নাকের ভিতরে নল দেয়ায় কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে তার। তবে ইশারায় উত্তর দিচ্ছেন সব কিছু।


বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন পার্থশঙ্কর পাল বলেছেন, আলমগীরের শরীরের ২০ শতাংশ পুড়ে গেছে। আমরা তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। তার শ্বাসনালি তেমনটা ক্ষতি না হওয়ায় আশা করছি তিনি ভাল হয়ে যাবে। যতক্ষণ পর্যন্ত একটা রোগী হাসপাতাল থেকে চলে না যান ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা বলতে পারি না যে, তিনি সুস্থ। কারণ আগুনে পোড়া রোগীদের ব্যাপারে কিছু বলা যায় না, কখন যে কি হয়!

মুন্সীগঞ্জ বার্তা