আদালাতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিরাজদিখানে জমি দখল

courtআদালাতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিরাজদিখানে জমি দখল নিরাপত্তাহীনতায় অসহায় কয়েকটি পরিবার। বেপরোয়া ভূমি দস্যুদের হাত থেকে রক্ষাপেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে অসহায় একটি পরিবার। জমি দখলকে কেন্দ্রকরে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ বেঁধে যেতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কুসুমপুর গ্রামে।

থানায় অভিযোগকারী দক্ষিন কুসুমপুর গ্রামের মোঃ আলী মোল্লার স্ত্রী হেলেনা বেগম (৪০) জানান, গত ২৮ ও ৩০ নভেম্বর আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে ভূমি দস্যু নাফিজ প্রায় অর্ধশত ভাড়া করা লোক দিয়ে দখলের চেষ্টা করে। তারা আমার ৩৬ হাজার টাকা খরচ করে চাষের সারে ৩৬ শতাংশ ক্ষেতের বড় হয়ে যাওয়া সরিষা গাছ উঠিয়ে ফেলে। আদালতে মামলা, থানায় সাধারন ডাইরী করা তবুও রাতের অন্ধকারে লাইট জ্বেলে জমিতে আলু চাষ করে। বার বার থানায় জানানোর পর পুলিশ আসলে তারা কেটে পরে। আমার স্বামী মোঃ আলী মোল্লা ও দেবর মোস্তফা মোল্লা বাদী হয়ে, নুর মোঃ মোল্লা, দীন মোঃ মোল্লা, আয়শা বেগম ও খাদিজা বেগম সহ ৮ জন বিবাদীর বিরুদ্ধে যুগ্ন জেলা জজ আদালতে দেওয়ানী মামলা (৩২২/১৩) করেন। পরিপ্রেক্ষিতে আদালত থেকে ২৬ নভেম্বর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার কাগজ পাঠায়। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তারা জমি দখল করে এবং কেউ বাঁধাদিলে খুন করে ফেলবে বলে হুমকী দেয়। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। বিবাদী পক্ষের আয়শা বেগম একটি পিটিশন মামলা (৮৪৭/১৩) করেছেন। পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সিরাজদিখান থানা থেকে নোটিশ প্রদান করে সেখানে খুনসহ শান্তি ভঙ্গের আশংকা করা হয়। তাই উভয় পক্ষকে শান্তি বজায় রাখার নোটিশে নির্দেশ দেওয়া হয়। তবুও তারা শান্তি ভঙ্গ করেই চলছে।

আলেয়া আরও বলেন, চন্দনধুল মৌজার, আর এস ৪৩ খতিয়ান ২০৮ দাগের ৭৩ শতাংশ জমির অর্ধেক আমাদের আর বাকী অর্ধেক বিবাদীদের। কিন্তু তারা সম্পূর্ন জমি দখলের পায়তারা করছে। আর ভুমিদস্যু নাফিজ বিবাদীদের মদদ দিচ্ছে। বিবাদীদের একটি জমি পাওয়ার নিয়াছে আমাদের জমি দখল কওে দেওয়ার শর্তে।এই ভুমিদস্যুর ভয়ে এলাকার মানুষ তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায়না। এই ভুমিদস্যুর বিরুদ্ধে আদালতে অনেক মামলা রয়েছে।

এ ব্যাপারে নাফিজ জানান, আমি কোন ভূমিদস্যু বা জমি দখলে জরিত না, তাদের ভাই বোনদের জমি নিয়ে সমস্যা, আয়শাদের নিকট থেকে কোন জমি নেই নাই। আমার রাজনৈতিক একটি মামলা ছাড়া আর কোন মামলা নাই। আয়শাদের আলু উঠায় ফেলেছে মোঃ আলীরা অথচ তিন দিন ধরে থানায় ঘুরলেও পুলিশ মামলা নিচ্ছে না। আমি আগামিতে নির্বাচন করব, তাই আমার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ লেগেছে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রদিবাদ করতে গিয়ে আজ আমি কোন ঠাসা হয়ে পরছি।

সিরাজদিখান থানার ওসি (প্রশাসন) আবুল বাসার জানান, শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়েছি। আমরা বুঝতে পেরেছি তৃতীয় একটি পক্ষের হাত রয়েছে। শৃংখলা ভংগের কারণে আয়শা বেগমকে আদালতে প্রেরণ করেছি, সে একদিন পর জামিনে এসেছে। নাফিজকে সাবধান করেছি সে এব্যাপারে আর আসবে না।

বাংলাপোষ্ট২৪