নষ্ট রাজনীতি সস্তা সাংবাদিকতা

আরিফ হোসেন: গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো বিএনপির ডাকা হরতাল অবরোধ মুন্সীগঞ্জেও পালিত হচ্ছে। তফাৎ শুধু দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন, জ্বালাও পোড়াও রেল লাইন বিচ্ছিন্ন, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পরও পত্রিকা বা ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় যতটা না কভারেজ পাচ্ছে তার চেয়ে বেশী কভারেজ পাচ্ছে মুন্সীগঞ্জের আন্দোলন! এই আন্দোলন দেখে কারা? না কেউ দেখেনা, দেখে সস্তা সাংবাদিকরা। শুধু কি তাই, কোন নেতা কর্মী মাঠে নেই তো আন্দোলন করলো করা? শুরু হয়ে গেল ফোন আর ফোন ঐখানে নাকি গাড়ি ভাংছে, অবরোধ চলতাছে? এ জাতীয় ফোন। জ্বালাও-পোড়াও কোন মানুষ তো দেখেইনি আকাশ বাতাসেও এর কোন অস্তিত্ত্ব নেই। কিন্তু টিভি স্ক্রলে উঠছে গাড়ি ভাংচুর,অবরোধ। সে খবর পরদিন পত্রিকায়ও ।

এগুলো সম্ভব কিভাবে? সত্যটা একটু টক কিন্তু মজাদার। শ্রীনগরে হরতালের সমর্থক এক নেতার ভাষ্য থেকেই জানা গেল এর শানে নজুল। তিনি যা বললেন তা এরকম, গত দু সপ্তাহে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক ও শ্রীনগরে কোন বিএনপি নেতা আন্দোলনে নামেনি। এর ফলে মহাসড়কে গাড়ি চলছে তা পত্রিকায় আসলে, নেতাদের উপর দায় চাপে! আবার আন্দোলন করলেও মামলা হামলার স্বীকার হতে হবে। এ থেকে উত্তোরণের সহজ উপায় কি? সহজ উপায় একটা আছে। কিছু না করে বা সামান্য কিছু করে স্থানীয় সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে দূরের সাংবাদিকদের প্যাকেট পাঠিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট খবর প্রকাশ করতে সহায়তা করা। এতে হাই কমান্ড জানল নেতারা সক্রিয়। আবার হামলা-মামলাও হলো না। হায়রে নষ্ট রাজনীতি হায়রে সস্তা সাংবাদিকতা। এতে শুধু বিপাকে পরতে হয় স্থানীয় সাংবাদিকদের। কারন বেশীর ভাগ জনগন শুধু জানে কোন পত্রিকায় খবরটি এসেছে। কোন সাংবাদিক লিখেছে তা দেখেন পরে। এমন খবরে জনগন থুতু দেয়। ওহ,্ এই দেশেতো আবার জনগন নাই। এটা আমার কথা না এক বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধার কথা। তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনে দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আরেক মুক্তিযোদ্ধাকে আক্ষেপ করে বলেন, এদেশেতো জনগন নাই। কেউ বিএনপি, কেউ আওয়ামী লীগ!

গতকাল উপজেলা পরিষদের সামনে বসে চা খাচ্ছি, এক সহকর্মী রাগে গজগজ করতে এসে বলল। ইন্দুরের গর্তে ঢুইক্কা বইসা ধাইক্কা বলব গাড়ি ভাংচি, অবরোধ করছি আর আমরা এইডাই লেখুম। একবারও দেখুমনা এর সত্যতা আছে কিনা। রাস্তা দিয়া গেলে মানুষ গালিগালাজ করে। এ লাইনে আর ধাকুম না…………………………………..