হতাশ পিস্তল মহিউদ্দিন-আউট ইদ্রিস আলী-ইন মৃণাল কান্তি

mrinalমোজাম্মেল হোসেন সজল: দলীয় সিদ্ধান্তে হতাশ-বিষন্ন মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের দ-মু-ের কর্তা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি এবারও মুন্সীগঞ্জ-৩ সংসদীয় আসনে নমিনেশন পাননি। পলাতক জীবনযাপনের কারণে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নমিনেশন পাননি। এরআগে ১৯৭৮ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে তিনি মুন্সীগঞ্জ সাবেক ৪ বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে দলীয় নমিনেশন পেয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাইয়ের সঙ্গে পরাজিত হয়েছেন।

এদিকে, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির সঙ্গে পাতানো নির্বাচনে তিনি এ আসনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। এরপর ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেন সরকারের জমানায় পিস্তল মহিউদ্দিন টাইটেল পেয়ে ৫০ শীর্ষ দুর্নীতিবাজের তালিকায় তার নাম এলে তিনি আতœগোপনে চলে যান দেশের বাইরে। এ সুযোগে প্রথম বারের মতো মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে দলীয় নমিনেশন পেয়ে সংসদ নির্বাচিত হন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এম ইদ্রিস আলী। নির্বাচনের পর দেশে ফিরে জেলা আওয়ামী লীগকে আবারো কুক্ষিগত করে রাখার চেষ্টা চালায় মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।


এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে শক্তিশালী হয়ে উঠে বর্তমান সংসদ সদস্য এম ইদ্রিস আলী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-দপ্তর এডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস ও মহিলা এমপি মমতাজ বেগম গ্রুপ। এরপর মহিউদ্দিনকে ঠেকাতে বর্তমান সংসদ সদস্য এম ইদ্রিস আলী ও মৃণাল কান্তি দাস মহিউদ্দিনের আপন ছোট ভাই সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামাকেও সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। কিন্ত মহিউদ্দিনের দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না তারা।

পরবর্তীতে তারা মুন্সীগঞ্জে আওয়ামী লীগের কর্মকা- ছেড়ে হাই কমা-ের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে থাকেন। পরবর্তীতে এম ইদ্রিস আলী ও মৃণাল কান্তি দাস জোটবদ্ধ হয়ে একজন নমিনেশন নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আর সে সিদ্ধান্তের মত আসে মৃণাল কান্তি দাসের পক্ষে।

এদিকে, শুক্রবার মুন্সীগঞ্জের ৩টি আসনে দলীয় নমিনেশন প্রাপ্তির সংবাদ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রচার নিয়ে মুন্সীগঞ্জে বিভ্রাট দেখা দেয়। মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে মোহাম্মদ মহিউদ্দিন দলীয় নমিনেশন পেয়েছেন সংবাদ প্রচার করে তার সমর্থকরা বৃহস্পতিবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবে এসে কয়েকজন সাংবাদিককে মিস্টিমুখ করান।

এরপর আবার রাতে জানানো হয় এই আসনে আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস দলীয় নমিনেশন পেয়েছেন। ওই পক্ষটিও সাংবাদিকদের মিস্টিমুখ করায়। শুক্রবার বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের এ সংক্রান্ত খবর পরে মুন্সীগঞ্জবাসী বিভ্রান্ত হয়। দিনভর এ নিয়ে চলে আলাপ-আলোচনা। তবে, শনিবারের পত্রিকা পড়ে ধুয়াশা কেটে গেছে মুন্সীগঞ্জবাসীর। এ রকম পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার-প্রচারণা চললেও বৃহস্পতিবার রাত থেকেই জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মহিউদ্দিল লীগ সমর্থিতরা চুপসে গেছেন। তার সমর্থিত স্থানীয় মিডিয়া কর্মীরাও মুষড়ে পড়েছেন। এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের প্রতিক্রিয়া ও আগামী নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কিনা- তার অভিমত নেয়ার জন্য গত ২দিন ধরে তার ব্যবহ্নত ২টি মোবাইল ফোনে কল করে তা বন্ধ পাওয়া যাওয়াই তা নেয়া সম্ভব হয়নি।


এছাড়া, তিনি মুন্সীগঞ্জেও নেই। এদিকে, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসন ছাড়া মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে মহিউদ্দিন শিবিরের হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি ফের দলীয় নমিনেশন পেয়েছেন। এদের মধ্যে সুকুমার রঞ্জন ঘোষ গত ৫ বছরে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ ও বিরোধী দলকে হটিয়ে নিজের অবস্থান সুসংহত রেখেছেন। গত ৫বছরে তিনি মুন্সীগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকায় প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে মাঠেই দাঁড়াতে দেননি। হুইপ এমিলিও চেষ্টা করেছেন যথাসাধ্য উন্নয়নমূলক কাজ করার।

তবে, তাকে দলীয় কোন্দল আর বিএনপির তুমুল শক্তিশালী প্রার্থী সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা অনেকটা দিশেহারা করে তুলেছেন। আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ করলে আওয়ামী লীগের অনেকেই প্রকাশ্যে না এলেও গোপনে কাজ করে যাবেন বলে দলীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। আবার মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি দলীয় নমিনেশন পেয়ে নির্বাচন করলে আওয়ামী লীগের কোন্দলে ফলাফল মৃণাল কান্তির ঘরে আসার সম্ভবনা একেবারেই নেই বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কারণ এ আসনে বঙ্গবন্ধুর চিফ সিকিউরিটি গার্ড ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ১৯৭৮ সালে শিশু আবদুল হাইয়ের সঙ্গে পরাজয় বরন করলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আবদুল হাইকে দেখতে লোকজন ছুটে আসেন মুন্সীগঞ্জে। তারপর থেকে বারবার চেষ্টা করেও মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ২০০১ সাল পর্যন্ত আবদুল হাইয়ের সঙ্গে এ আসনে পরাজিত হয়েছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আবদুল হাইকে ঢাকা-৪ আসনে নিয়ে নমিনেশন দেয়া ও এই আসনে প্রথম বারের মতো বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম শামসুল ইসলামকে নমিনেশন দিলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এম ইদ্রিস আলী প্রথম বারের মতো নমিনেশন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

ওদিকে, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি কয়েক গ্রুপের বিভক্ত হয়ে পড়া এবং দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা জাতীয় পার্টি থেকে আগত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনকে মনে প্রাণে মেনে না নেয়ায় এবং শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন পুনরায় দলীয় নমিনেশন পেলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সুকুমার রঞ্জন ঘোষ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন বলে ওই নির্বাচনী এলাকার ভোটাররা মনে করছেন। এদিকে, বিএনপি বিহীন নির্বাচন হলে এখানে ৩ আসনেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয় লাভ করবে-এটা প্রায় নিশ্চিত। তবে, দলের মধ্যে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে ফলাফল অন্যরকমও হতে পারে।

এদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সময়ে এডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস সমর্থিতরা মুন্সীগঞ্জ শহরে আনন্দ কয়েক দফায় মিছিল বের করেন।

মুন্সীগঞ্জ বার্তা

One Response

Write a Comment»
  1. Mohiuddin ke bola hoy Bongobondhur prodhan nirapotta kormokorta / Kon promaner vittite ei opoprochar kora hoy ? Mohiuddin senabahinir kon pode chilen ? sadharonoto rastro prodhaner prodhan nirapotta kormokorta ekjon ucchopodostho samorik kormo korta hoye thaken /

    Mohiuddin chilen bongobondhur ekjon body guard er beshi kichui noy / R tokhon bongobondhu chilen Sk Mujibur Rahman / ekjon rajnoiteek neta / eitai oitihasik sotto