টোকিও দূতাবাসের কূটনীতিকের কাণ্ড

রাহমান মনি
দূতাবাস নিয়ে প্রবাসীদের অভিযোগের অন্ত নেই। দূতাবাস এবং প্রবাসীদের সম্পর্ক সাপ আর নেউলের মতো। দূতাবাস মনে করে, তারা সরকারি প্রতিনিধি, তাই তারা এলিট শ্রেণী বা আমলা। আর প্রবাসীরা হচ্ছে রুটি রোজগারের জন্য আসা খেটে খাওয়া মানুষ বা কামলা।

প্রবাসীদের চোখে, দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে তারাই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে, সেই অর্থেই সরকার চলে, দূতাবাস চালায়। অর্থাৎ দূতাবাস প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থেই চলে, তাই প্রবাসীদের প্রতি দূতাবাসের দায়িত্ব ও কর্তব্য অপরিসীম। সব প্রবাসীর প্রতিই তাদের দায়িত্ব সমান রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে।

কিন্তু কিছু কিছু অদক্ষ কূটনীতিক মাঝেমধ্যে এমন সব কাণ্ড করে বসেন, যা বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণœ হয়। অযথা হয়রানির শিকার হতে হয় প্রবাসী নাগরিকদের। তবে এই ক্ষেত্রে পেশাদার কূটনীতিকদের চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় চাকরিতে নিয়োগ প্রাপ্তরা বেশি অগ্রগামী। কারণ প্রবাসীদের স্বার্থের চেয়ে, দেশের স্বার্থের চেয়ে দলীয় চেলাচামুণ্ডাদের স্বার্থ দেখতে হয় বেশি। তাই অনেক সময় অনৈতিক কাজ করতে হয়। অনেক সময় বাধ্য হয়ে জড়িয়ে পড়ে। আমি সব কর্মকর্তার ঢালাওভাবে দোষ দিচ্ছি না। ভালো অবশ্য আছেন।


তেমনি একটি অনৈতিক কাজ করে গেছেন টোকিওতে নিয়োগপ্রাপ্ত কাউন্সেলর (প্রাক্তন, বর্তমানে দুবাইতে কনস্যুলার জেনারেল হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত) মাসুদুর রহমান। তিনি দুইজন অপরাধীকে (যাদের মধ্যে একজন দাগি অপরাধী) চারিত্রিক সনদ দিয়ে গেছেন যারা ফৌজদারি মামলায় আটক অবস্থায় ছিলেন। জাপান পুলিশ তদন্তে অপরাধের প্রমাণ মিলায় মাসুদুর রহমান প্রদত্ত চারিত্রিক সনদ গ্রহণ করেনি।

ঘটনার বিবরণ, ২১ আগস্ট ২০১১ জাপান আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস পালন এবং ইফতার পার্টি আয়োজনে যোগদানের অনুরোধ পেয়ে জাপান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত সাংবাদিক সাপ্তাহিক টোকিও প্রতিনিধি (এই প্রতিবেদক) রাহমান মনি খবর সংগ্রহের জন্য সেখানে উপস্থিত হলে পূর্ব থেকে প্রস্তুত কয়েকজন দুষ্কৃতকারীর প্রত্যক্ষ নির্দেশে যুবলীগ কর্মী নুরুল আমীন রনি এবং মাজহার মিলন তাকে বিএনপিপন্থি সাংবাদিক আখ্যা দিয়ে অশোভন আচরণ করেন। কোনো প্রতিবাদ না করে রাহমান মনি সেখান থেকে বেরিয়ে দায়িত্বে বাধা প্রদানের অভিযোগ এনে জাপান পুলিশে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে জাপান পুলিশ তদন্ত শেষে প্রমাণ সাপেক্ষে দীর্ঘ ৪০ দিন পর ১ অক্টোবর ২০১১ রনি এবং মিলনকে আটক করে রিমান্ডে নেয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জাপানে ছাত্রাবস্থায় রনি বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল এমনকি স্কুল শিক্ষকের সঙ্গেও চরম দুর্ব্যবহারের কথাও। তবে মিলনের তেমন কোনো অপকর্ম ছিল না।

আটকের খবর পেয়ে রনি এবং মিলনের গডফাদাররা দিশেহারা হয়ে বিভিন্ন স্থানে ধরনা দিয়েও পুলিশের মন গলাতে না পেরে বাংলাদেশ দূতাবাসে যায় সাহায্যের জন্য। সেই সময় রাষ্ট্রদূতের পদ খালি থাকায় চার্জ দ্য এফেয়ার্স (সিডিএ) ছিলেন জীবনরঞ্জন মজুমদার। তিনি তার সহকর্মী, দূতালয় প্রধান (এইচওসি) মাসুদুর রহমানকে দিয়ে দূতাবাসের পক্ষ থেকে অপরাধী দুইজনকে চারিত্রিক সনদ প্রদান করে, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক তো বটেই বেআইনিও। এই অনৈতিক কাজটি করার পুরস্কার হিসেবে মাসুদুর রহমান দুবাই মিশনের কনস্যুলার জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি পান। বর্তমানে সেখানে কর্মরত আছেন।

দুইজন বাংলাদেশির মধ্যে যখন বিবাদ হয় এবং সেটা যদি আদালত পর্যন্ত পৌঁছায় তখন এক পক্ষকে ভালো বলে সার্টিফিকেট দেয়ার অর্থই হচ্ছে আরেক পক্ষকে ঘায়েল করার পাঁয়তারা। দূতাবাস তার দেশের একজন নাগরিককে বিদেশের মাটিতে ঘায়েল করার অধিকার রাখেন কি?
দ্বিতীয়ত ফৌজদারি মামলায় তদন্ত শেষে প্রমাণ সাপেক্ষে জাপান পুলিশ কর্তৃক আটক হওয়া দাগি আসামি নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত দূতাবাস কর্তৃক চারিত্রিক সনদ প্রদানের নৈতিকতা কি কেবলই দলীয় বিবেচনায় চাকরি এবং নিয়োগের পুরস্কার? কূটনীতিক সেটা পারেন কি?
একজন কূটনীতিক যখন মিশনে নিয়োগ পান, পেশাদার কূটনীতিক হলে তিনি প্রথমে সেই দেশ সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেন। সেই দেশের আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কে ধারণা নিতে হয়। আর উন্নত দেশ জাপানের মতো দেশের পুলিশের কর্মপন্থা সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে সেই কূটনীতিকের সফলতার মুখ আশা করা দুরূহই বটে। হয়েছেও তাই। পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে জাইকার সঙ্গে লিয়াজোঁর বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত মাসুদুর রহমান সুপার ফ্লপ হয়েছে। জাইকা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে পদ্মা সেতু থেকে। ব্যর্থতার দায় মাসুদ সাহেবের।


মাসুদ সাহেব রাজনৈতিক বিবেচনায় নিজে নিয়োগ পেয়েছিলেন বলে, বাংলাদেশের এলাকাভিত্তিক বিশেষ বিবেচনায় পুলিশ নিয়োগের সঙ্গে জাপান পুলিশকে মিলিয়ে ফেলার নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়েছেন। জাপানে একজন পুলিশ অফিসার নিয়োগ পেতে তার নিজ যোগ্যতার প্রমাণ তো রাখতেই হয়, সেই সঙ্গে তার তিন পুরুষের কেউ অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল না সেই প্রমাণও দিতে হয়।

জাপানে ইচ্ছা করলেই হয়রানি করানোর জন্য পুলিশকে ব্যবহার করা যায় না। একবার সেই চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন ড. শেখ আলীমুজ্জামান। ২০১০ সালে তিনি তার ঘনিষ্ঠ এক পুলিশ অফিসারকে দিয়ে রাহমান মনিকে হয়রানি করার হীন চেষ্টা করেছিলেন। সেই পুলিশ অফিসারের কাছে লিখিত মিথ্যা নালিশ করেছিলেন। রাহমান মনির বক্তব্য শোনার পর সেই পুলিশ অফিসার আর এগোয়নি।

কোনো অভিযোগ পেলে জাপান পুলিশ আমলে নিয়ে সূক্ষ্ম তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। অনেক সময় মশা মারতে কামান দাগার মতো কাজও করে থাকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে। এই ক্ষেত্রেও হয়েছে তাই। রাহমান মনির অভিযোগ পেয়ে বিভিন্ন তদন্ত করতে ৪০ দিন সময় নিয়ে থাকে। তারপর আটক করে অপরাধীদের।

জাপান পুলিশের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষকে একের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, খণ্ডায়ন, আত্মপক্ষ সমর্থন একেরটা অন্যকে সরবরাহ করে থাকে। জাপান আদালতও একই পন্থা অবলম্বন করে। সূক্ষ্ম এবং সঠিক বিচারকার্য পরিচালনা করার জন্য এই ব্যবস্থা। কোনোভাবেই যেন নিরপরাধী কোনো ব্যক্তি সাজা না পায় তার জন্য সচেষ্ট থাকে জাপান আদালত এবং পুলিশ। সেই মোতাবেক মাসুদ সাহেব প্রদত্ত চারিত্রিক সনদের কথা রাহমান মনি জানতে পারে। যদিও জাপান পুলিশ দূতাবাস প্রদত্ত চারিত্রিক সনদ গ্রহণ করেনি। কারণ, পুলিশ তদন্তে অপরাধের প্রমাণ মিলেছে।

পুলিশ মহলে ধরনা দিয়ে, চারিত্রিক সনদ জমা দিয়ে, আইনজীবী নিয়োগ দিয়েও রনি এবং মিলনের মুক্তি মিলে না। বরং দ্বিতীয় মেয়াদে আবারও ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হলে পুলিশ স্বীকারোক্তি আদায়ের পর ইমিগ্রেশনের হাতে তুলে দেয়ার উদ্যোগ নিলে, উপায়ন্তর না দেখে রনির বড়ভাই জাপান প্রবাসী নেতৃবৃন্দের শরণাপন্ন হয়। প্রবাসী নেতৃবৃন্দের অনুরোধে রাহমান মনি সমঝোতা বৈঠকে বসতে সম্মত হন। সমঝোতা বৈঠকে প্রবাসী সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে (৯ অক্টোবর, কোইওয়া) রনির বড় ভাই মাজহারুল ইসলাম মাছুম অপরাধ স্বীকার করে করজোড় নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে লিখিত দিলে রাহমান মনি ক্ষমা করে দেন। এবং লিখিত কপি পুলিশে দিলে বিভিন্ন আইনি জটিলতা শেষে কিছুদিন পর রনি এবং মিলন মুক্তি পায়।

অবাক করা ব্যাপার হলো, তারপর এরা সাকুরা সাবেরকে দিয়ে জাপান আদালতে ১৫ মিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ১২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করেন রাহমান মনির বিরুদ্ধে। নিজেকে যে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দাবি করে থাকেন সেসহ মোট সাতজনের মান নাকি মাত্র ১২ লাখ টাকা। হাস্যকরও বটে। আরও হাস্যকর হলো এই মামলাতেও তারা দূতাবাস প্রদত্ত চারিত্রিক সনদ দুটি দাখিল করেন আলামত হিসেবে। এতে প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, তাদের যে মান আছে দূতাবাসও তার সনদ দিয়েছেন। কিন্তু তারা ভুলে গেছেন যে, এইটা হলো জাপান আদালত। আদালত তা গ্রহণ না করে ফিরিয়ে দেয়।

দুইটি রিপোর্টের কোথাও সাকুরা সাবেরের নাম ছিল না। ১১ মার্চ ২০১১ ভয়াবহ বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত জাপান যখন পুনর্গঠনে মনোযোগ দেয় তখন একটি শ্রেণী ঘোলা জলে মাছ শিকার করতে গিয়ে নিজেদের প্রচারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। পালিত একজনকে তা প্রচারের দায়িত্ব দেয়া হয়। কিছু দক্ষিণার বিনিময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে আদাজল খেয়ে লেগে পড়েন, তিনি অতিরিক্ত প্রচারে নেমে পড়েন। প্রচারে তিনি দুইটি আশ্রয় কেন্দ্রের নাম উল্লেখ করেন। যার একটিতে ৫০০ আশ্রয়কারী এবং একই দিনে আরেকটি আশ্রয় কেন্দ্রে রাতে ১ হাজার লোকের পেটপুরে খাওয়ানোর কথা বলেন। যা বাস্তবসম্মত নয়। কল্পনাতেই কেবল সম্ভব।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঐ নামের কোনো আশ্রয় কেন্দ্রের অস্তিত্ব নেই প্রশাসনের নথিতে। একটির নামের কাছাকাছি একটি আশ্রয় কেন্দ্রের সন্ধান পাওয়া যায় যেটিতে তিনি ৫০০ লোকের উপস্থিতির কথা বলেছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, ঐ সময় ঐ আশ্রয় কেন্দ্রে মোট ১৬৫ জন আশ্রিত ছিলেন এবং কোনো রকম কোনো সাহায্য তারা গ্রহণ করেনি। আর যেটিতে ১ হাজার লোকের কথা উল্লেখ করেছেন। সেই নামে বা তার কাছাকাছি কোনো আশ্রয় কেন্দ্রের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এই সত্য কথাটি রিপোর্টে উল্লেখ ছিল।

প্রায় দুই বছর মামলা চলার পর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক, তথ্যউপাত্তের ভিত্তিতে জাপান আদালত রাহমান মনির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ খারিজ করে দেয় এবং মামলার যাবতীয় খরচ সাকুরা সাবেরকে বহন করার আদেশ দেন। সাকুরা সাবেরের পক্ষে মোট তিনজন আইনজীবী মামলায় লড়েন। পক্ষান্তরে রাহমান মনি কোনো আইনজীবী নিয়োগ না দিয়ে তিনি নিজেই মামলা পরিচালনা করেন।

এখন প্রশ্ন হলো সাকুরা সাবেরের বিপক্ষে যে রায় গেল তা কি কেবলই সাকুরা সাবেরের বিপক্ষে? এটা কি তার পক্ষে সাফাই গাওয়া, সনদ প্রদানকারী সবার বিপক্ষে যায়নি? রাষ্ট্রের প্রতীক সম্বলিত দূতাবাসের বিপক্ষে যায়নি? তাহলে কি মামলা হয়েছিল রাহমান মনি বনাম রাষ্ট্র? রাষ্ট্র কি তার দেশের একজন নাগরিকের বিরুদ্ধে বিদেশের আদালতে মামলা করে হেরে গেল? কিন্তু এমনটি তো হওয়ার নয়। মাসুদুর রহমানদের মতো কূটনীতিকদের কুকর্মের জন্য সরকার কেন হেনস্তা হবে? কোন নৈতিকতার বলে মাসুদ সাহেবরা কাদেরকে এই সনদ দেন?

বিদেশে দূতাবাসের কাজ কেবল কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সে দেশে বসবাসরত নিজ দেশের নাগরিকদের সর্বোচ্চ সেবা দানেও সচেষ্ট থাকতে হয়। দূতাবাস থেকে সব নাগরিকেরই সমান সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। প্রচলিত আইন মেনে নিয়মতান্ত্রিকভাবে দূতাবাসকে প্রতিটি নাগরিকের পাশে থাকা উচিত। তাহলে রাহমান মনির সঙ্গে দূতাবাস এমন বিমাতাসুলভ আচরণ করার মানে কি ছিল? রাহমান মনি ছিল ভিকটিম। কিন্তু দূতাবাস ভিকটিমকে সাপোর্ট না দিয়ে ফৌজদারি মামলায় আটককৃত অভিযুক্তদের চারিত্রিক সনদ প্রদান কূটনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না।

সেই সময় রাষ্ট্রদূত মহোদয়ের পদ শূন্য থাকায় সিডিএ জীবনরঞ্জন মজুমদার এবং টোকিও দূতাবাসের সবচেয়ে ব্যর্থ কমার্স কাউন্সেলর রাশেদুল ইসলাম মিলে উক্ত অপকর্মটি করেছে। নিজ যোগ্যতা থেকে পদবি যদি বড় হয়ে যায়, ভারী হয়ে যায় তখন সেই ভারে আর স্বীয় অবস্থানে অবস্থান করা যায় না। তারপর দলীয় আনুগত্য তো রয়েছেই। জীবন বাবুর ক্ষেত্রেও তাই-ই হয়েছে।

দূতাবাসে জীবন বাবুর কোনো সাফল্য নেই। সাফল্য কেবল বিভাজন তৈরিতে। ঠাণ্ডা মাথার চালবাজ হিসেবে ইতোমধ্যে প্রবাসীদের মাঝে পরিচিতি পেয়েছেন। বড় দুই দলের জাপান শাখায় পদবঞ্চিতদের নিয়ে সারাক্ষণ নিজ রুমে ফিসফাঁস করা ছাড়া আর কোনো কাজেই পারদর্শী নন।

জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, দূতাবাস এই কাজটি করেছে কিনা আমি জানি না, যদি করে থাকে তাহলে কাজটি ঠিক করেনি। কারণ এই ক্ষেত্রে দূতাবাস কোনো পক্ষ না নিয়ে চুপ থাকাটাই শ্রেয়। যদি দূতাবাস এই রকম কোনো সনদ দিয়ে থাকে তবে তা অনৈতিক। আমি আপনার কাছে দূতাবাস এবং আমার পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে সমবেদনা জানাচ্ছি।

জাপান আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বলেন, যদি এমনটি হয়ে থাকে তাহলে কাজটি ঠিক করেনি। হয়ত কোনো চাপে পড়ে মাসুদ সাহেব কাজটি করেছেন। তবে দূতাবাস কারও পক্ষ নিতে পারে না। যদি তারা সত্যিকারভাবেই আন্তরিক হতেন তাহলে উভয় পক্ষকে দূতাবাসে আমন্ত্রণ জানিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারতেন।

জাপান বিএনপি নেতৃবৃন্দ মনে করেন, মাসুদ সাহেব দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে এই গর্হিত কাজটি করেছেন। তিনি দূতাবাসকে দলের কিছু লোকদের প্রশ্রয়দাতা হিসেবে কাজ করেছেন। ঐ লোকগুলোকে সবসময় তার সঙ্গে দেখা যেত। তার প্রতিদানে প্রমোশন পেয়ে দুবাই পোস্ট পেয়েছেন কিনা দেখা দরকার।

প্রবীণ প্রবাসীরা জানান, দূতাবাস এই রকম কোনো সনদ দিতে পারে না। আর দিলেও সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না। কারণ দূতাবাস তার নিজস্ব তদন্তে যদি অপরাধের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায় তাহলে কোনো ছাড় দিবে না এটাই প্রকৃত সত্য। দলের প্রতি এমন আনুগত্য প্রকাশ কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন। কারণ জাপান বাংলাদেশি প্রবাসীদের কেবল বাংলাদেশি হিসেবেই চিনে। আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি হিসেবে নয়। তবে তাদের গোয়েন্দা রিপোর্টে সকলের ডাটাতে বিস্তারিত উল্লেখ থাকে।

rahmanmoni@gmail.com

সাপ্তাহিক