অভিনয়ে ফিরছেন বাঁধন

badhonওই দূরের আকাশের মতোই মিডিয়ার আকাশেও অনেক তারা জ্বলে। তেমনই ছোটো পর্দায় জ্বলে ওঠা একটি উজ্বল তারকার নাম বাঁধন। পুরো নাম আজমেরী হক বাঁধন।

অভিনয় গুনেই অল্প সময়ে হয়েছেন দর্শক নন্দিত। প্রাণখোলা অভিনয় করে দর্শকের মন কেড়েছেন। বরাবরই নিজের কাজের প্রতি যত্নবান দেখা গেছে তাকে। কখনোই অনেক কাজের ভিড়ে হারিয়ে ফেলেননি নিজেকে। হাতে গোনা কাজ করেও দর্শক নন্দিত তিনি।

কিছু দিন অভিনয় থেকে দূরে সরে থাকলেও আবারো অভিনয়ে নিয়মিত হচ্ছেন বাঁধন। এরই মধ্যে একটি খণ্ড নাটকের শুটিং শেষ করেছেন তিনি। নাটকটির নাম ‘সংক্রমন’। পরিচালনা করেছেন সোলায়মান জুয়েল। এছাড়া আরও কয়েকটি খণ্ড নাটকে অভিনয় করতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি অভিনয় করেছেন মির্জা গালিবের ‘পরস্পর’ শিরনামের একটি টেলিফিল্মেও।


নাটকে অভিনয় প্রসঙ্গে বাঁধন বলেন, আমি ববাবরই খুব বেছে কাজ করি। আমি চাই কাজ অল্প হোক কিন্তু সেটা যেনো মনের মতো হয়।

ধারাবাহিক নাটকেও নিয়মিত হয়েছেন এরই মধ্যে। এনটিভিতে প্রচার হচ্ছে বাঁধন অভিনীত কচি খন্দকার পরিচালিত ধারাবাহিত নাটক ‘ইয়েস বস নো বস’। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রযোজনায় ‘নিঝুম অরণ্যে’ নামের একটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন বাঁধন। মুশফিকুর রহমান-পরিচালিত এ চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে ছিলেন সজল। ‘নিঝুম অরণ্যে’ বাঁধন অভিনীত একমাত্র চলচ্চিত্র। এর পরে আর কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি তিনি।

২০০৬ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় ২য় রানার আপ হন বাঁধন। এর পরপরই হূমায়ূন আহমেদ’র দারুচিনি দ্বীপ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর দারুচিনি দ্বীপে অভিনয় করা হয়নি তার। যদিও পরে হুমায়ূন আহমেদ’র অনেক নাটকে অভিনয় করেছেন বাঁধন।

এ প্রসঙ্গে বাঁধন বলেন, আসলে আমার পরীক্ষার কারণে দারুচিনি দ্বীপ চলচ্চিত্রে অভিনয় করা হয়নি। কিন্ত পরে স্যারের অনেক নাটকে অভিনয় করেছি। স্যারের অনেক নাটকের মূল চরিত্রে অভিনয় করেছি। সেসব দিন এখন শুধুই স্মৃতি। আর ফিরে আসবেন না স্যার। কিন্তু তার শিল্পকর্ম, নাটক, চলচ্চিত্র বেঁচে থাকবে।


খণ্ড নাটক, ধারাবাহিক নাকি টেলিফিল্ম কোনটিতে অভিনয় করতে সাচ্ছন্দবোধ করেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে বাঁধন বলেন, আসলে এখন হাতে নির্দিষ্ট সময় নিয়ে কাজ করতে হয়। এখন ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করতেই বেশি সাচ্ছন্দতবোধ করি। কারণ, ধারাবাহিকে ধীরে সুস্থে হাতে সময় নিয়ে কাজ করা যায়। কিন্তু একক নাটক সাধারনত দুই দিনের মধ্যেই শুটিং শেষ করতে হয়। অনেক সময় তা শেষ করা সম্ভব হয় না। তখন পরে আবারো শুটিংয়ে নামতে হয়। কাজের চাপ বেড়ে যায়। এছাড়া ভালো বিজ্ঞাপনের মডেল হতেও ভালো লাগে।

বাঁধনের অভিনীত দর্শকপ্রিয় নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বুয়াবিলাস’, ‘শুভ বিবাহ’। ধারাবাহিক নাটক- চাঁদ ফুল অমাবশ্যা, বিজি ফর নাথিং, এয়ারকম, চৈতা পাগল, রঙ।

অভিনয়ের বাইরে বাঁধন একজন দন্ত চিকিৎসক। ২০০৯ সালে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের অধীনে দন্ত চিকিৎসা বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেন। পেশা হিসেবে চিকিৎসাকে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে বাঁধনের।badhon

বাঁধন বলেন, ২০১১ সালে ডেন্টিস্ট্রির পড়াশোনা শেষ করেছি। এরপর বন্ধু সুরাইয়া ইকবালকে নিয়ে ভাবতে শুরু করি, নিজেরাই চেম্বার খুলব। অনেক ঝক্কি-ঝামেলায় তা হয়ে ওঠেনি। এবার সে ফুরসত মিলেছে। দুই বন্ধুর এ স্বপ্ন এবার সত্যি হতে চলেছে। আশা করি ২০১৪ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যেই গুলশান-২ এ নিজেদের চেম্বার খুলতে পারবো।

নিজেকে চিকিৎসক ও অভিনেত্রী দুটো পরিচয়ই ধরে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চান বাঁধন।

এমটিনিউজ২৪