শ্রীনগর বিএনপি সভাপতিসহ ৮০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

courtমুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ত্রিমুখী সংঘর্ষ ও পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ পুলিশ কনস্টেবল দ্বগ্ধ হওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মমিন আলীকে প্রধান আসামি করে ৮০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও অনেক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় পুলিশকে মারধোরসহ একাধিক অভিযোগে এ মামলা দায়ের করেন।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৬০ ঘণ্টার হরতালের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের শ্রীনগর ছনবাড়ি এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ত্রিমুখী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ ৫০ জন আহত হয়।

এ সময় পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ শ্রীনগর থানায় কর্মরত মো. মনিরুজ্জামান নামের এক পুলিশ কনস্টেবল দগ্ধ হন। এছাড়া সংঘর্ষে পুলিশ ৩৯ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ ও গুলি ছুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।


এ মামলায় শ্রীনগর বাজারের বটতলা থেকে আবুল কালাম (৩৩) নামে মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আবুল কালাম ঢাকার দোহার উপজেলার মইতপাড়া আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক। তিনি শ্রীনগর উপজেলার উত্তর বালাশুর গ্রামের হজরত আলীর ছেলে।

শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. মাহবুবুর রহমান জানান, মামলায় শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মমিন আলীকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ৮০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও অনেকে (বিএনপি নেতাকর্মী) এ মামলার আসামি।

পুলিশের অপর একটি সূত্র নিশ্চিত করে জানান, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের দুই থেকে তিন হাজার নেতাকর্মী লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ায় মামলায় সংখ্যা না লিখে এজাহারে অজ্ঞাত পরিচয় অনেকে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সূত্রের মতে, ‘অজ্ঞাত পরিচয় অনেকে’ এ শব্দ ব্যবহারে ১০ জনও হতে পারে আবার হাজার হাজারও হতে পারে বুঝায়।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর
=============

শ্রীনগরে বিএনপি অফিস ভাংচুর ও ৮০ নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

আরিফ হোসেন: হরতালের দ্বিতীয় দিনে বিএনপি কর্মীদের সাথে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষের জের ধরে বুধবার সকাল দশটার দিকে আওয়ামী লীগ কর্মীরা শ্রীনগর বাজারের বিএনপি অফিসে ভাংচুর চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতা কর্মী হরতাল বিরোধী মিছিল নিয়ে শ্রীনগর বাজারে প্রবেশ করে। এসময় তারা বিএনপি কার্যালয়ের দরজা-জানালা, চেয়ার-টেবিল ও টেলিভিশন ভাংচুর করে। অপরদিকে ত্রিমুখী সংঘর্ষের এই ঘটনায় প্রেট্রোল বোমায় পুলিশ কনষ্টেবল আহত হওয়ায় গত মঙ্গলবার রাতে শ্রীনগর থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

এতে উপজেলা বিএনপি সভাপতি আলহাজ্ব মমিন আলীকে প্রধান আসামী করে ৮০ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাতনামা বিএনপি নেতাকর্মীদের আসামী করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের ছনবাড়ী পয়েন্টের নিয়ন্ত্রন নিয়ে এ ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এক পুলিশ কনষ্টেবল ও গুলিবিদ্ধ সহ বিএনপির ২৫ নেতা কর্মী আহত হয়। শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ৬ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ৩৯ রাউন্ড ফাকা গুলি ছুড়ে।

===============

শ্রীনগরে বিএনপির অফিস ভাঙচুর, মামলা

মোঃ রুবেল ইসলাম: মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা বিএনপি-যুবদলের অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে শ্রীনগর উপজেলা সদরের বাজারের দলীয় কার্যালয়টি ভাঙচুর করা হয়। শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, আওয়ামী লীগ নেতা তোফাজ্জল হোসেনের নেতৃতে বিএনপি-যুবদলের অফিসের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে অফিস ভাঙচুর ও তছনছ করে। এ ব্যাপারে শ্রীনগর থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিএনপি অফিসের দরজা ধাক্কা দেয়ার পর একপাট খুলে যায়। পরে অফিসের ভেতরে থাকা কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করা হয়েছে।

এদিকে, মঙ্গলবার সকালে শ্রীনগরের ছনবাড়ি চৌরাস্তা সংলগ্ন রাস্তায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় মামলা করেছেন। মঙ্গলবার রাতে শ্রীনগর থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ মমিন আলী, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনসহ ৮০জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। এদিকে, একই দিন সিরাজদিখানের কুচিয়ামোড়া ব্রিজ এলাকায় সহিংস ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ন-আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, আবু তৈয়ব সনেটসহ ৪৩ জনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন সিরাজদিখান থানার এসআই মো.আরব আলী।

বুধবার সকালে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের বাউশিয়া এলাকায় গজারিয়া পরিবহনের একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় পিকেটাররা। সকাল পৌনে ১০ টার দিকে জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাইয়ের নেতৃত্বে মিছিল বের হলে দলীয় কার্যালয় চত্বরে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতন্ডতা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এছাড়া, শহরে শহর বিএনপির সভাপতি একেএম ইরাদত মানু, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে খ- খ- মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন-জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন-সম্পাদক আতোয়ার হোসেন বাবুল, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আজিম স্বপন, সাবেক ভিপি শাহীন মিয়া, জেলা যুবদলের সভাপতি তারিক কাশেম খান মুকুল, সহ-সভাপতি মোখলেছুর রহমান বকুল, শহর যৃবদলের সভাপতি এনামুল হক, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুদ রানা, জেলা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের আহ্বায়ক মাহবুব-উল আলম স্বপন, সদস্য সচিব সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন সজল, বিএনপি নেতা শাহআলম, মোহাম্মদ আলী লিটন, ইব্রাহিম পারভেজ হীরা, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম জসীম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো.মহিউদ্দিন, শহর ছাত্রদল সভাপতি আরিফ আহাম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন প্রমুখ।

বুধবার সকালে সিপাহীপাড়া এলাকায় রামপাল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম শওকত ও গজারিয়ার রসুলপুর খেয়াঘাট থেকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস মিয়াজী মহনের নেতৃত্বে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের হয়।