কর্মসূচি এলে আত্মগোপনে!

bnpমোজাম্মেল হোসেন সজল: বিএনপিশূন্য হয়ে পড়েছে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান। গত ৩ দিনের হরতাল কর্মসূচিতে উপজেলার দু’শীর্ষ নেতার দেখা মেলেনি রাজপথে। বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের কোনো কর্মসূচি এলেই উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস ধীরণ ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. আব্দুল্লাহ চলে যান আত্মগোপনে। নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তারা।

বন্ধ হয়ে যায় তাদের মোবাইল ফোনও। তারা অজুহাত দেখিয়ে কর্মসূচি পালন করা থেকে বিরত থাকছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্যতা থাকার কারণেই সরকারের শেষ সময়েও তারা বিরোধী আন্দোলনে নামছেন না বলে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অভিযোগ।

আর এসব কারণে দল থেকে জেলা বিএনপি তাদের বহিষ্কারও করেছিল। পরে হাইকমাণ্ড তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিলেও দলীয় কর্মকাণ্ড ও বিএনপিসহ ১৮ দলীয় কোনো কর্মসূচি তাদের পালন করতে দেখা যায়নি, অভিযোগ নেতাদের।

এ অবস্থায় হরতালের প্রথমদিন টঙ্গীবাড়ি উপজেলা এলাকার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর মল্লিক রিপন, টঙ্গীবাড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি খান মনিরুল মনি পল্টন, সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন দোলন, টঙ্গীবাড়ি উপজেলা যুবদলের সভাপতি শামীম মোল্লা ও সিরাজদিখান এলাকার জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সম্র্রাটের নেতৃত্বে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সিরাজদিখানের নিমতলায় হরতাল কর্মসূচি পালন করেন।

টঙ্গীবাড়ি ও শ্রীনগর উপজেলার দলীয় নেতাকর্মীদের গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওই উপজেলার ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে হরতাল কর্মসূচি পালন করতে হয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টাব্যাপী পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।

এসময় দুই পুলিশসহ বিএনপির অন্তত ৩৫ নেতাকর্মী আহত হয়। সংঘর্ষকালে সিরাজদিখান থানার পুলিশ ৮০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পরে রোববার রাতে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর মল্লিক রিপন, সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আওলাদ হোসেন চেয়ারম্যান, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সম্র্রাটসহ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের ৫২ জন নেতাকর্মীকে এজাহারনামীয় ও আরো শতাধিক কর্মীকে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে সিরাজদিখান থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার বাদী হয়েছেন সিরাজদিখান থানার দারোগা মো. আতিয়ার রহমান। এদিকে হরতালের প্রথমদিন ২৭ অেেক্টাবর দিবাগত রাতভর যুবদল নেতা ইকবাল হোসেন সম্রাটের কেয়াইনস্থ বাড়িসহ অন্যান্য নেতাকর্মীদের বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালায়।

ওই ঘটনার পর বিএনপির ডাকা হরতালের দ্বিতীয় ও তৃতীয়দিন সিরাজদিখানে বিএনপি ও ১৮ দলীয় জোটের কোন নেতাকর্মীদের মাঠে দেখা যায়নি। নেতৃত্বশূন্য থাকার কারণেই এমনটি হচ্ছে বলে বিএনপি কর্মীরা দাবি করছে।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস ধীরণ অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যোগ দিচ্ছেন না আর সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. আব্দুল্লাহ ব্যবসায়ী কারণে রয়েছেন দেশের বাইরে। তাই নেতৃত্বশূন্যের কারণে বিএনপির আন্দোলন ভাটা পড়েছে বলে বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর মল্লিক রিপন বলেন, বিএনপির শেষ মুহূর্তের কর্মসূচিতেও তাদের পাওয়া গেল না। কর্মসূচি আসলেই তারা অজুহাত দেখিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সভাপতি, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্থানীয় সরকার ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আবদুল হাই বলেন, সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস ধীরণকে বহুবার চেষ্টা করেও হরতালে মাঠে নামানো যায়নি।

তিনি বলেন, হরতালের প্রথমদিন দুপুর পর্যন্ত তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। রাস্তাঘাট না চেনায় অন্য উপজেলা থেকে দলীয় নেতারা সিরাজদিখানে হরতাল কর্মসূচি করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী ও পুলিশের হামলার শিকার হতে হয়েছে। এতে আহদের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়।

এমটিনিউজ২৪