প্রায় সমান শক্তিতে লড়বে বিএনপি-আওয়ামী লীগ

election123গতবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাদ দিলে স্বাধীনতা-উত্তর রাজনীতিতে মুন্সীগঞ্জে ছিল বিএনপির একক আধিপত্য। ৩০-৩৫ বছর বিদ্যমান ছিল তাদের এ আধিপত্য।

গতবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাদ দিলে স্বাধীনতা-উত্তর রাজনীতিতে মুন্সীগঞ্জে ছিল বিএনপির একক আধিপত্য। ৩০-৩৫ বছর বিদ্যমান ছিল তাদের এ আধিপত্য। গত নির্বাচনে জেলার তিনটি আসনই চলে গিয়েছিল আওয়ামী লীগের দখলে। গত সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জের চারটি আসন ভেঙে করা হয় তিনটি। প্রথমবারের মতো আসনবিন্যাসের সুফল ঘরে তুলে নেয় আওয়ামী লীগ।প্রায় সমান শক্তিতে লড়বে বিএনপি-আওয়ামী লীগ

নিজেদের প্রায় ঘরোয়া আসনগুলো পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি। তাই আগামী সংসদ নির্বাচন হবে বিএনপির মর্যাদার লড়াই। তবে বিএনপির চেয়ে একটু এগিয়ে আওয়ামী লীগ। তার পরও আগামী নির্বাচনী লড়াইয়ে দু’দলের শক্তির ব্যবধান খুব একটা কমবেশি হবে না।


জোট-মহাজোটের কারণে মুন্সীগঞ্জের তিনটি আসনেই বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রার্থিতা নিয়ে বড় ধরনের রদবদল হতে পারে। বিকল্পধারা বাংলাদেশ ও বিএনপির মধ্যে আসন ভাগাভাগি হলে মুন্সীগঞ্জের ভোটের রাজনীতির চেহারাই পাল্টে যাবে। বিএনপি-বিকল্পধারার মধ্যে জোট হলে মুন্সীগঞ্জের তিনটি আসনে প্রার্থী নির্বাচনেও চমক দেখা যেতে পারে। এখানে এরশাদের জাতীয় পার্টির প্রভাব রয়েছে সামান্য। ইতিমধ্যে জেলার তিনটি আসনে জাতীয় পার্টি প্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেলেছে। ভোটের অঙ্কে এখানে শক্তিহীন জামায়াত, জাকের পার্টি, জাসদ, বাসদ, কমিউনিস্ট পার্টিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল।
election123
মুন্সীগঞ্জ-১ (সিরাজদীখান ও শ্রীনগর উপজেলা) : এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ডাবলু ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-সম্পাদক গোলাম সরওয়ার কবীরের নাম শোনা যাচ্ছে।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকা বেশ বড়। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন_ সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, শ্রীনগর বিএনপির সভাপতি মমিন আলী, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হাসান ও সিরাজদীখান বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শিল্পপতি শেখ মো. আবদুল্লাহ।

জাতীয় রাজনীতিতে বিএনপি ও বিকল্পধারার মধ্যে জোট হলে এখানে বিকল্পধারা বাংলাদেশের মুখপাত্র মাহী বি. চৌধুরী প্রার্থী হবেন। এতে বিএনপিদলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কপাল পুড়বে। এতে চমক দেখা যাবে ভোটের রাজনীতিতে। এ আসনে জাপার কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ-২ (টঙ্গিবাড়ী ও লৌহজং উপজেলা) : এ আসনে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে ফিট প্রার্থী হচ্ছেন বর্তমান জাতীয় সংসদের হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি। দলীয় ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের হিসাব ধরলে তার বিকল্প নেই। মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে নূহ-উল-আলম লেনিনের নামও জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে। টঙ্গিবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার কাজী ওয়াহিদ ও লৌহজং উপজেলা চেয়ারম্যান ওসমান গনি তালুকদার আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইছেন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সিনহা ইতিমধ্যে উচ্চ পর্যায়ের গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে গেছেন। জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচন করলে এ আসনে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কুতুবউদ্দিন আহম্মেদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত।

মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর ও গজারিয়া উপজেলা) : এ আসনে আনকোরা এম ইদ্রিস আলী আওয়ামী লীগের টিকিট নিয়ে গত নির্বাচনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী এম শামসুল ইসলামকে পরাজিত করে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এমপি হন। বর্তমান এমপি ইদ্রিস আলীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন বঙ্গবন্ধুর চিফ সিকিউরিটি গার্ড, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মহিউদ্দিন। এ ছাড়া আছেন মৃণাল কান্তি দাস ও আনিছুজ্জামান।

বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম। তিনি মনোনয়ন দৌড়ে বেশ এগিয়ে রয়েছেন। আবার গজারিয়া-সদর আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুল হাইয়ের বিকল্প নেই বলেও একটি কথা সব সময় শোনা যায়। তিনি জেলা সদর ও গজারিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত আগের মুন্সীগঞ্জ-৪ আসনের পাঁচবারের নির্বাচিত এমপি। মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বাবুও।

এ আসনে জেলা জাপার সভাপতি আলহাজ কলিমউল্লাহর প্রার্থিতা চূড়ান্ত। বিকল্পধারার সঙ্গে বিএনপির জোট হলে এ আসনে সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মামুনুর রশীদ খোকা – সমকাল