ট্রান্সফরমার চুরি ঠেকানোর যন্ত্র

transformar1বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি রোধে একটি যন্ত্র তৈরি করেছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক প্রকৌশলী। কেউ ট্রান্সফরমার চুরি করার চেষ্টা করলেই ওই যন্ত্রের হলুদ বাতি জ্বলে উঠবে। বিকট শব্দে আওয়াজ হবে। শব্দ শুনে বোঝা যাবে ট্রান্সফরমারে চোরের হাত পড়েছে।


ওই প্রকৌশলীর নাম মো. হাসানুজ্জামান। তিনি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আঞ্চলিক শাখায় কনিষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা ও গ্রাহকেরা জানান, একেকটি ট্রান্সফরমারের দাম তিন থেকে সাত লাখ টাকা। প্রথম দফায় ট্রান্সফরমার চুরি হলে গ্রাহকদের অর্ধেক টাকা দিতে হয়। দ্বিতীয় দফায় চুরি হলে দিতে হয় পুরো দাম। আর ট্রান্সফরমার পেতে দিনের পর দিন ভোগান্তি তো আছেই। ট্রান্সফরমার স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত থাকতে হয় বিদ্যুৎবিহীন। এসব কথা ভেবে কয়েক মাস আগে যন্ত্রটি তৈরি করেছেন হাসানুজ্জামান। নাম দিয়েছেন ‘ট্রান্সফরমার নিরাপদ যন্ত্র’।
transformar1
সম্প্রতি টঙ্গিবাড়ীর সদর ইউনিয়নের মারিয়ালয় গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের পাশেই একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে চারকোণা আকৃতির ট্রান্সফরমার নিরাপদ যন্ত্র। যন্ত্রের নিচে একটি হলুদ বাতি। প্রথমেই যন্ত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখান হাসানুজ্জামান। সমিতির এক কর্মী একটি বিশাল লাঠি দিয়ে ট্রান্সফরমারটি স্পর্শ করা মাত্র বাতি জ্বলে ওঠে, বিকট শব্দে আওয়াজ শুরু হয়। প্রায় ৩০ সেকেন্ডের মতো ওই আওয়াজ হয়। এ সময় আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে বোঝার চেষ্টা করছিলেন কোত্থেকে শব্দ আসছে।

হাসানুজ্জামান (নির্মাতা প্রকৌশলী) হাসানুজ্জামান (নির্মাতা প্রকৌশলী) হাসানুজ্জামান জানালেন, সাধারণত বিদ্যুৎ চলে গেলে বা ট্রান্সফরমারের তার কেটে বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর চোরেরা চুরি করে। নয়তো বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাবে। এ কারণে বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রান্সফরমার নিরাপদ যন্ত্র চালু হবে। তখন কেউ ট্রান্সফরমার বা যন্ত্রটি স্পর্শ করলেই সংকেত বেজে উঠবে। শব্দ শুনে লোকজন এগিয়ে আসবে।


হাসানুজ্জামান বলেন, যন্ত্রটি ট্রান্সফরমারের সঙ্গে ঝালাই করে সংযুক্ত করতে হবে, যাতে এটি পড়ে না যায়। আর যন্ত্রের ভেতরে রিচার্জেবল ব্যাটারি আছে। তা ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ হতে থাকে। ফলে যন্ত্রটি অকার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
transformar2
নিরাপদ যন্ত্রে যা আছে: একটি ২৪০/১২ ভোল্টের এডাপ্টর, ১২ ভোল্টের ব্যাটারি, একটি অটোসার্কিট, ক্যাপাসিটর, ক্যাপাসিটর ফিল্টারিং, একটি সিগন্যাল পাওয়ার গেইন, রেজিস্ট্রার, ডায়োড, পিএন জাংসন, সাইলেন্সার স্পিকার, অটো রেকর্ডার, একটি টাইমার টিপ, একটি এলামাইন স্টিলবক্স, একটি প্যানেল বোর্ড ইত্যাদি। একটি রিমোট কন্ট্রোলও রয়েছে।

ট্রান্সফরমার চুরি ও ভোগান্তি: মুন্সিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী মহাব্যবস্থাপক সাহারুল ইসলাম বলেন, ‘গত ২০১২-১৩ অর্থবছরে জেলায় ৮৬টি ও ২০১১-১২ অর্থবছরে ৪১টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এতে গ্রাহক ও আমাদের অনেক টাকা ক্ষতি হচ্ছে।’

জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক মো. মাহবুব রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ট্রান্সফরমার চুরি ঠেকাতে আমরা লোহার খাঁচা তৈরিসহ অনেক উপায় অবলম্বন করেছি। কোনো পদ্ধতিই তেমন কার্যকর হয়নি। এবার আমাদেরই এক প্রকৌশলী এমন একটি যন্ত্র তৈরি করেছেন যে ট্রান্সফরমার চুরি করা মাত্রই সাইরেনের মতো শব্দ হবে। আমরা দুটি জায়গায় ওই যন্ত্র বসিয়েছি। আরও কিছু স্থানে বসানোর চেষ্টা করছি এবং লোকজনকে ওই যন্ত্রের সঙ্গে পরিচিত করার চেষ্টা করছি।’

তানভীর হাসান – প্রথম আলো