সিরাজদিখানে প্রকাশ্যে ছুড়িকাঘাতে প্রকৌশলী খুন

asadSDআপডেট
ইমতিয়াজ বাবুল: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে আসাদ খন্দকার (৩৮) নামে একজন প্রকৌশলী প্রকাশ্যে খুন হয়েছেন। তিনি রাজানগনর ইউনিয়নের তেঘড়িয়া গ্রামের মরহুম খালেক খন্দকারের পুত্র। রাজনৈতিভাবে তিনি সিরাজদিখান থানা জাসাসের যুগ্ম আহবায়ক বলে জানা গেছে। নিহত আসাদ খন্দকার একজন সিভিল ইঞ্চিনিয়ার। তিনি রাজানগরে একটি বেসরকারী ভোকেশনাল টেনিং ইনিস্টিটিউটের সাবেক অধ্যক্ষ ছিলেন। তার খুন সম্পর্কে এলাকায় ভিন্ন মত পাওয়া গেছে। কেউ বলছে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আবার কেউ বলছে উদিয়মান এই প্রকৌশলীর অবস্থান নিজের এলাকায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠায় একটি মহল তা সহ্য করতে না পেরে তাকে হত্যা করেছে। তবে হত্যার পেছনে জমিজমার বিষয়টিই মূল কারণ বলে জানা গেছে।


নিহত আসাদ খন্দকারের ভাগ্নে আল মামুন খান অপু জানান, সোমবার রাত্র সোয়া নয়টার দিকে রাজা নগর বাজার হতে নিজ মোটর সাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে বাজারের শেষ প্রান্তে এক দল দুর্বৃত্ত তার মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে তার উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। এ সময় তাকে ধারালো ছুড়ি দিয়ে উপর্যপুরি আঘাতের ফলে সে মারাত্মকভাবে আহত হয়। এ সময় বাজারে উপস্থিত জনতা তাকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকার মিটফোর্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে নিয়ে গেলে সে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যায়।

মামুন আরো জানান, তার মামা এলাকায় অঙ্গিকার নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। সামাজিক কর্মকান্ডে তিনি এলাকাবাসীর নিকট বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এ কারণে ঈর্ষাপরায়ন হয়ে তাকে দমিয়ে রাখতে একটি প্রভাবশালী মহল তাকে হত্যা করিয়েছে।

নিহতের চাচাত ভাই মনির খন্দকার জানিয়েছেন, স্থানীয় রাজা নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জে ,আই চৌধুরী লিটনের নির্দেশে ১৫-২০ জনের একটি সংঘবন্ধ দল জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সোমবার রাতে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ওৎপেতে থাকে। আসাদ বাড়ি যাবার পথে বাজারের শেষ প্রান্তে আলমগীর (৫০) মহসিন (৪৮) সোহাগ (২৫) জুয়েল (২৭) ইলিয়াস (৩২) রিয়াজুল (৩২) মানিক খসরু (৩৮)সহ ১৫-২০ জন তাকে প্রকাশ্যে আক্রমন করে। এসময় তাদের উপর্যুপরি ধারালো ছুরির কুপে আসাদ আহত হলে বাজারে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে মিটফোর্ট হাসপাতালে প্রেরন করে।

প্রকৌশলী আসাদকে ছুড়িকাঘাতে আহত করে পালিয়ে যাবার সময় নিহতের বন্ধুবান্ধব একটি মাইক্রোবাসসহ ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের নীমতলা মানক স্থানে ছয়জনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। আটককৃতরা হলেন মহসিন, আজিজুল, সোহাগ, কাউছার, আক্কাছ ও জুয়েল।


এদিকে বিকেলে নিহত প্রকৌশলী আসাদের লাশ মিটফোর্ট হাসপাতাল মর্গ হতে তার বাড়িতে আনা হলে এখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। নয় বোনের এক ভাই আসাদ। ভাইয়ের লাশ দেখে বোনেরা সকলে বাড়িতে কান্নার ভেঙে পড়ে। কেউ কেউ বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন। আসাদের ৩ বছরের মেয়ে ফাতেমাতুজ জোহরা আবিভা শুধু বাবা বাবা বলে কান্না করছিল। বাড়িটে শোকের মাতন চলছিল।

সিরাজদিখান থানার ওসি মোঃ আবুল বাসার জানান, ঘটনার সাথে জড়িত মহসিন,আজিজুল, সোহাগ, কাউছার, আক্কাছ ও জুয়েল নামে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সিরাজদিখান থানায় নিহতের মা আনোয়ারা বেগম বাদি হয়ে আটককৃতদের ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ আরো অজ্ঞাত নামা ৫/৬ জনকে আসামী কের একটি হত্যা মমলা দায়ের করেছেন। মামলাটি তদন্তাধিন রয়েছে।(ছবিসহ)