একটি ডাকাতির ঘটনা এবং পুলিশের কর্মকান্ডে বিপন্ন মানবতা

dakatমুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার খানকা দালাল পাড়া আমজাদ হোসেনের বাড়ীর ভাড়াটিয়া শিক্ষক দম্পত্তির ঘরে গত ৫ অক্টোবর মধ্য রাতে একদল ডাকাত হানা দিয়ে রামপাল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হেকমত আলী স্যারকে লোহার রড দিয়ে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে মারাত্মক ভাবে যখম করে এবং তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তারের কাছ থেকে আলমারীর চাবি নিয়ে নগদ টাকা এবং স্বর্ণলংকারসহ সাড়ে তিন লাখ টাকার মালামাল নিয় পালিয়ে যাবার পথে তাহমিনার আক্তারের চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এসে এক ডাকাতকে আটক করে ফেলে। তখন গণপিটুনীতে ডাকাতমারাত্মক যখম প্রাপ্তহয়। আটককৃত ডাকাতের নাম শাহাবুদ্দিন (৪৫)। তার বাড়ী নারায়নগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার চনপাড়া এলাকায়।

এ ঘটনার পর পুলিশ আহত ডাকাতকে চিকিৎসার জন্য মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে ভর্তির পর ডাকাত মারা যায়। এ ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েছে। গ্রেফতাকৃতদের মধ্যে রয়েছে (১) রোমান শিকদার, (২) রতন খাঁন (৩) নাগর সরদার। পুলিশ আসামী রোমানের কাছ থেকে ৯ হাজার পাঁচশত টাকা উদ্ধার করেছে বলে জানান। আসামী গ্রেফতারের বিষয়ে জানা যায়, হাতিমারা পুলিশ ফাঁড়ির এস,আই তাহেরকে অনেক লোক সম্মুখে ডাকাত শাহাবুদ্দিন তার সহযোগীদের নাম বলেছেন। তার মধ্যে গ্রেফতারকৃতদের নাম রয়েছে। অপরদিকে আটককৃত নাগর সুয়াপাড়ায় ২০০১ সালের ডাকাতির ঘটনায় চার্জশিটভূক্ত আসামী বলে জানা যায়। কিন্তু আটককৃতদের মধ্যে রতন খাঁন একজন ভ্যান চালক। তার বাড়ী রামপাল কলেজের পেছনে। নিরীহ রতনের একটি হাত ভাঙা এবং সে কানেও কম শোনে। হাতিমারা পুলিশ ফাঁড়ির এস,আই তাহের বাড়ী থেকে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে অন্য এক রতনের বাড়ীতে যায়।


কিন্তু তাকে আর ছাড়েনি। এ ঘটনায় এলাকার ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। যে ছেলে ভ্যান চালিয়ে সামান্য রুজি করে সংসার চালায় সে কিনা ডাকাতি মামলার আসামী? নিরীহ রতনের জন্য এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ওয়ার্ড কমিশনার গিয়েছিলেন ওসির কাছে। কিন্তু না কিছুতেই কাজ হয়নি। পুলিশ ইচ্ছা করেই বাহবা পেতে নিরীহ ও সহজ সরল রতনকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। তার সংসারে হাল ধরার এখন আর কেউ নেই। একটি মেয়ে নিযে এখন তার স্ত্রীকে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। এলাকার লোজন কোরবানীর চামড়ার টাকা উঠিয়ে কোন রকম সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। এ ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে রামপাল এলাকায় গেলে রতনের ব্যাপারে কোন খারাপ মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে পূর্বে কোন মামলা আছে এমন রেকর্ডও নেই।


এ দেশের পুলিশ সবই করতে পারে। তাদের অনেক কর্মকান্ড এখন প্রশ্নবিদ্ধ। একজন নিরীহ রতনকে যদি ডাকাতি মামলায় ফাঁসতে হয় তখন মানবতা বিপন্ন হয়ে যায়। পুলিশকে এখন যা করতে হবে তা হেলা প্রকৃত ডাকাতদের ধরে বিচারের মুখোমখি করা। তা নাহলে তারা আরো ভয়াবহ ডাকাতি সংঘটিত করবে। তখন অনেক নিরীহ মানুষ তাদের জীবনের নিরাপত্তা হারাবে। জানমাল বাঁচাতে পুলিশকে এগিয়ে আসার কথা। কিন্তু না তারা ডাকাতি রোধ করতে পারেনি। মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পারেনি। কিন্তু নিরীহ রতনকে ঠিকই ফাঁসাতে তাদের মুন্সিয়ানার জুড়ি নাই। এ ধরনের বাহাস বন্ধ করতে হবে।

মুন্সিগঞ্জের বাণী