মাদকের কালো থাবায় মুন্সীগঞ্জ

মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে মুন্সীগঞ্জ। মাদকের কালো থাবায় গ্রাস করে ফেলছে মুন্সীগঞ্জ সদরসহ এ জেলার ৬টি উপজেলা। শহরের প্রাণকেন্দ্রসহ এর আশপাশ এলাকার বিভিন্ন অলি-গলিতে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় যে কোনো ধরনের প্রাণঘাতি মাদক দ্রব্য। আর এতে করে প্রতিনিয়ত হু হু করে বেড়ে চলছে মাদক সেবীর সংখ্যা। বিশেষ করে স্কুল কলেজ পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীরা মারাত্মকভাবে আসক্ত হচ্ছে মাদকের মরণ নেশায়।

চোখের সামনে এসব মাদক বিক্রি হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন কোনো তৎপরতা নেই। আর যতটুকু রয়েছে তা আবার আইনের ফাঁকফোঁকর দিয়ে সহজেই বের হয়ে যায় বিক্রেতা ও সেবনকারীরা।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় হাত বাড়ালেই ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, স্পিরিট, বাংলা মদ গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক দ্রব্য মিলছে অহরহ। এদিকে মাদকের সহজলভ্যতার কারণে যুব সমাজ ধ্বংসের সম্মুখীন হচ্ছে। এতে উদ্বিঘœ হয়ে পড়েছেন অভিভাবক মহল। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।


একাধিক সূত্র জানায়, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দুটি পৌরসভাসহ বিভিন্ন গ্রামে প্রতিনিয়ত খোলামেলা বিক্রি হচ্ছে ইয়াবাসহ কয়েক লাখ টাকার মাদক দ্রব্য। জেলা শহরে মাদক বিক্রি ছড়াছড়ি সহজেই চোখে পড়ার মতো ।

শহরের মালপাড়া এলাকার সদর রোড়ে অবস্থিত হেমিওপ্যাথিক ওষুদের দোকানে, প্রশাসনের চোখের সামনে স্পিরিট নামের ওষুধ বিক্রি করছে অসাধু ব্যাবসায়ীরা। গত কয়েক বছরে বিষাক্ত এ স্পিরিট সেবনে পঙ্গুত্ব বরণ ছাড়াও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে অনেকে।

তাছাড়া মুন্সীগঞ্জ শহরের ইসলামপুর, কোটগাঁও, দেওভোগ, নয়াগাঁও, নতুনগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় ফোন সার্ভিসের মাধ্যমে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা বিক্রি হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

অন্যদিকে মুন্সীগঞ্জ শহরের মাঠপাড়া এলাকায় অবস্থিত স্টেডিয়াম মার্কেটে কয়েকটি ওষুধের দোকানে খোলামেলা বিক্রি হচ্ছে ঘুমের ট্যাবলেটসহ ঠান্ডার বিভিন্ন সিরাপ। যা মাদকসেবীরা নেশার উপকরণ হিসেবে ব্যাবহার করে।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা ছাড়াও গজারিয়া, টঙ্গিবাড়ি, সিরাজদিখান, শ্রীনগর উপজেলাসহ লৌহজং উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত লাখ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে।


বিভিন্ন সূত্র থেকে জানান যায়, মুন্সীগঞ্জ জেলা নদী বেষ্টিত এলাকা হওয়ায় খুব সহজে এ জেলার উপর দিয়ে মাদক পাচারকারীরা মাদক পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করে। তা ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার মাদক দ্রব্য পাচার হয় বলে জানা যায়।

পুলিশ সূত্র থেকে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মাহাসড়কের বিভিন্ন স্পটে অভিযান চালিয়ে গত কয়েক মাসে প্রায় অর্ধশত মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের গ্রেফতার করেছে গজারিয়া থানা পুলিশ। এছাড়া বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে এ পর্যন্ত কয়েক কোটি টাকার ইয়াবাসহ ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।

মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান শীর্ষ নিউজকে জানান, দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণের আইন রয়েছে। কিন্তু মাদক নির্মূলের কোন আইন নেই। ফলে মাদক বিক্রেতা ও সেবীরা ছাড়া পেয়ে যায়। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ একযোগে কাজ করলে মাদক নির্মূল করা অনেকাটই সহজ হবে।
তিনি আরো জানান, আগে যেখানে গোটা জেলায় মাদক নিয়ে মামলা হত ৬০-৭০টা, বর্তমানে মামলা হয় ১৬০-১৭০টি। ঈদ ও পুজোকে কেন্দ্র করে মাদক বিরোধী অভিযানে ডিবি, ডিএসবিসহ পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এবং জেলার প্রবেশ মুখের বিভিন্ন পয়েন্টে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিনিয়ত কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

শীর্ষ নিউজ