এস, আই সিদ্ধার্থ সাহা একজন আইনজীবির আক্রোশের শিকার

Policeমুন্সীগঞ্জ সদর থানা
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বানিয়াল মহেশপুর এলাকার অমর রঞ্জন বাছার ছেলে অনন্ত বাছার সাথে মুন্সীগঞ্জ হাটলক্ষীগঞ্জ নিবাসী মাখন চন্দ্র দাসের মেয়ে রীতা রানী দাসের ২০০৯ সালের ১০ ডিসেম্বর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের কোল জুড়ে একটি বাচ্চা আসে। নিম্ম মধ্যবিত্ত সংসারে স্ত্রীর সাথে অনন্ত বাছার কিছু কথা কাটাকাটি হয়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে রীতা রানী দাস। তার কথা হলো সে আর গ্রামের থাকবে না। সে বাপের বাড়ীতে স্বামীকে নিয়ে থাকবে। কিন্তু স্বামী অনন্ত বাছার পেশা মিস্ত্রী। সে গ্রামে টিনের ঘর তৈরী করে থাকেন। শহরে এ পেশায় কাজ করার সুযোগ না থাকার কারনেস্ত্রীর কথা মতো শহরে এসে তার পক্ষে বসবাস করা সম্ভব নয়। স্বামীর-স্ত্রীর মধ্যে মনোমানিল্য হয়ার কারনেই রীতা রানী দাস বাপের বাড়ীতে চলে আসে। দাদার বাড়ীতে থাকাকালীন বাচ্চা আপন ছিল সবার আদরের।


কিন্তু তারা আসলে বাচ্চা ছাড়া এক মূহুর্ত থাকতে পারে না। তাই তারা আইনগত ভাবেই বাচ্চাটি বাবার কাছে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মা রীতা রানী দাস মুন্সীগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট,আমলী ১নং আদালতে ১৩/১৩ একটি যৌতুক নিরোধ আইনের মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে টিআর ২০২/১৩ হিসেবে বিচারের জন্য রয়েছে। সে মামলায় রীতা রানী দাসের স্বামী অনন্ত বাছা সি.ডব্লিউ মূলে জেল হাজতে রয়েছে। এ মামলায় গত ৮/১০/১৩ তারিখে ধার্য্য তারিখ ছিল।

এ মামলায় আসামী অনন্ত বাছার পিতা অমর রঞ্জন বাছা আদালতে শুনানী শেষে বাচ্চাটি কোলে করে কোর্ট চত্ত্বর দিয়ে যাওয়ার পথে মায়ের সাথে আপনের দেখা হয়ে যায়। মা বাচ্চাটি কোলে নিলে সেখানে ধস্তাধস্তি বাঁধে। এ সময় অনেক মানুষ সেখানে জড়ো হলে কয়েক জন আইনজীবি কাচ্চাটিকে মায়ের কাছে দিয়ে দেয়। বাচ্চাটি রীতা রাণী দাস আদালতের আদেশ ছাড়া কয়েকজন লোক নিয়ে জোরপূর্বক নিয়ে গেলে ওই দিনই আপনের দাদা বাচ্চাটির ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে এমনকি বাচ্চাটির কোন ক্ষতি সাধন করে আসামীর পরিবারকে ফাঁসিয়ে দিতে বলে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় একটি জিডি করেন। জিডি নং ৪২৩ তারিখ-৮/১০/১৩। জিডিটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এস, আই সিদ্ধার্থ সাহাকে। সিদ্ধার্থ সাহা মানবিক দিক বিবেচনা করে বাচ্চাটির যাতে করে কোন ক্ষতি হতে না পারে সে জন্য রাত এগারোটায় রীতা রাণী দাসের বাসায় অভিযোগকারীকে সাথে নিয়ে হাজির হয়। সেখানে পুলিশের পরিচয় পাওয়ার পর ঘরের দরজা খুলতে রীতা রাণী দাস অস্বীকার করেন। তাদেরকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে দরজা খোলায় পুলিশ। তখন বাচ্চাটি নিয়ে আসার আদালতের কোন আদেশের কাগজ বের করতে বললে তারা তা দেখাতে পারেনি।


রীতা রানী দাস বলেন, কাগজ পত্র আইনজীবির কাছে আছে বলে জানান। তখন পুলিশ আইনজীবির সাথে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আদালতের আদেশ আছে। কেন আপনি তাদের বাসায় গিয়েছেন বাচ্চাটি নিয়ে আসতে। সেখানে আইনজীবি এবং পুলিশের সাথে কিছু কথা কাটাকাটি হয়। পুলিশ তখন আইনজীজিকে জানান,বাচ্চা সংক্রান্ত একটি জিডির ভিত্তিতে সেখানে এসেছেন। আইনজীবি বলেন,আদালতের আদেশ ছাড়া আপনি আসতে পারেন না।

কিন্তু কোন বাচ্চা যখন জোর পূর্বক অহহরন হয় বলে জিডিতে উল্লেখ থাকে তখন তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিতে হয় পুলিশকে। তখন আদালতের আদেশ নেয়া সম্ভব হয় না। আইনজীবির সাথে কথাকাটাকাটির কারনে পুলিশকে দেখিয়ে দিবে বলে হুমকি প্রদান করেন বলে পুলিশ জানায়। আইনজীবি নিখিল চন্দ্র মল্লিক তার পরের দিন ৯/১০/১৩ তারিখে দাদা অমর রঞ্জন দাস এবং পুলিশ সিদ্ধার্থ সাহাকে বিবাদী করে ৩১৩ /১৩ নং সি আর মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে রীতা রাণী দাসের বাসায় গেলে, বাচ্চাটি তার কাছে আছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

এ ঘটনা এখন অন্য খাতে প্রবাহিত হচ্ছে। জটিলতা এখন আইনজীবি এবং পুলিশের মধ্যে গড়াচ্ছে। পুলিশকে হেনস্থা করতেই আইনজীবি মামলাটি রীতা রানীকে দিয়ে করিয়েছেন। তবে আইনজীবির সাথে এ ব্যাপারে কথা বলে জানা যায়, মামলাটি বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্র্র্র্র্র্র্র্র্র্রেট মামলাটি আমলে নিয়ে মুন্সীগঞ্জ পৌর মেয়রকে তদন্ত রির্পোট দেওয়ার জন্য ১১/১২/১৩ তারিখে ধার্য্য করেছেন।

অপরদিকে এ ব্যাপারে সিদ্ধার্থ সাহার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমি বিষয়টির জুডিসিয়াল তদন্ত চাই। বাচ্চা সংক্রান্ত বিষয়ে জোর পূর্বক কেউ নিয়ে গেলে পুলিশের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে আইন মেনেই তিনি বাচ্চাটির অবস্থা জানতে তিনি সেখানে হাজির হয়েছেন। বাচ্চাটির মা আদালতের আদেশ আছে বলার পর আদালতকে সম্মান করেই সেখান থেকে চলে আসি এবং আদালতের রায়টি নিয়ে পরের দিন দেখা করতে বলি। কিন্তু রীতা রানী দাস আমাকে বিবাদী করে যে মামলা করেছে সেটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া একান্ত প্রয়োজন।

মুন্সীগঞ্জ বাণী