মুন্সীগঞ্জবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা…

আজ পবিত্র ঈদুল আজহা। বিশ্ব মুসলিমের প্রধান দুই ধর্মীয় উত্সবের একটি দিন এটি। প্রতিবছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ত্যাগ ও আনন্দের বার্তা নিয়ে মুসলমানদের দুয়ারে হাজির হয় এ ঈদ। এদিন সকালে ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের পর আল্লাহর বিধান অনুযায়ী তার নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট পশু কোরবানি করবেন সামর্থ্যবান মুসলমানরা।

‘ইন্নাসালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহইয়ায়া ওয়া মামাতিলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ অর্থাত্ আমার সব নামাজ ও কোরবানি এবং আমার জীবন ও মৃত্যু সবকিছুই মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের জন্য। পবিত্র কোরআনের এ আয়াত মুখে ও মনে রেখে ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে দিনটি পালন করা হবে সারাদেশে।

বাংলাদেশের মানুষের কাছে ঈদুল আজহা কোরবানির ঈদ হিসেবে পরিচিত। এদিন সামর্থ্যবান জামাতে নামাজ আদায় করেন এবং মুসলমানরা সাধ্য অনুযায়ী গরু, ছাগল, ভেড়া, উট ইত্যাদি পশু কিনে কোরবানির মাধ্যমে মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের চেষ্টা করেন। এ দিনে সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর নির্দেশে তার সন্তুষ্টি লাভের জন্য হজরত ইব্রাহিম (আ.) পৃথিবীতে তার সবচেয়ে প্রিয় সন্তান হজরত ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি করতে উদ্যত হয়ে আল্লাহর রাস্তায় আত্মত্যাগের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে আল্লাহর ইশারায় একটি দুম্বা কোরবানির মাধ্যমে সে নির্দেশ বাস্তবায়িত হয়। এরপর থেকেই মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর নিদর্শন হিসেবে প্রতিবছর গৃহপালিত পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আত্মত্যাগের প্রতীকী পরীক্ষা দেয়ার বিধান চালু হয়। পরে সাইয়েদুল মোরসালিন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ মহাপুরুষ ও সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাধ্যমে এ কোরবানি প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়। পবিত্র জিলহজ মাসের ১০ তারিখ এ দিনটি পালিত হয়। তবে ধর্মীয় বিধান অনুসারে পবিত্র এ মাসের ১০, ১১ এবং ১২ তারিখের যে কোনোদিনই পশু কোরবানি দেয়া যায়।

ঈদুল আজহা ত্যাগ-তিতিক্ষা ও আত্মসংযমের নিদর্শন নিয়ে আবার এসেছে। যার যার অবস্থান থেকে নিজেদের পাশবিক বৃত্তিগুলো উৎখাতের মধ্য দিয়ে এ ঈদে সবাই মুক্ত ও পবিত্র হোক।

সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।