মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সঙ্কটে গৃহিনীরা চরম দুর্ভোগে

gas1মুন্সীগঞ্জ শহর-শহরতলিতে তীব্র গ্যাস সঙ্কটে রান্না-বান্না নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন গৃহিনীরা। তারা এখন গ্যাসের চুলো ছেড়ে রান্না করছে লাকড়ি-খড়ি ও কেরোসিনের চুলোয় রান্না-বান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার অনেকে রান্না করছেন দিনগত মধ্য রাতে। এ নিয়ে গৃহিনীদের বিরক্তির যেন শেষ নেই, তাদের মধ্যে এখন চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এছাড়া গত কয়েক বছরের ন্যায় এ চলতি মাসেও গ্যাস সঙ্কটের কারনে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন শহরসহ আশপাশের হাজার হাজার পরিবার। তারা দিন দিন বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন।

অন্যদিকে গ্যাসের দাবিতে মুন্সীগঞ্জবাসী মানববন্ধন কর্মসূচীসহ আন্দোলনে রাজপথে নামলেও তার উন্নতি দুরে থাক বর্তমানে সরবরাহে আরো অবনতি হয়েছে। এখন মুন্সীগঞ্জবাসীর সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে এ গ্যাস সঙ্কট। এ বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা অবগত হলেও তাদের কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি।

জানা গেছে, রাত ১২ টা থেকে ভোর ৫ টা পর্যন্ত মোটামুটি গ্যাস পাওয়া গেলেও দিনের বেলায় গ্যাসের অভাবে চুলো জ্বালাতে পারছে না গৃহিনীরা। তাই তারা রাতের ঘুম হারাম করে দিনের রান্না আগের দিন রাতে করে রাখছেন। এ অবস্থায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন গৃহিনীরা। চুলোয় গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়েই গৃহিনীরা খড়ি ও কেরোসিনের চুলায় জ্বালিয়ে রান্ন-বান্না করতেদেখা গেছে।


শহরের মধ্য কোটগাঁও এলাকার চাকরিজীবী গৃহিনী জান্নাতুল ফেরদৌস শাম্মি জানান, সকালে অফিসে যেতে হয়, তার মধ্যে রাত জেগে রান্না করে নির্ঘুম চোখ নিয়ে অফিস করতে হচ্ছে প্রায় সময়ই। দিনের বেলাতে গ্যাস একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে গ্যাস সরবরাহের আরো বেহাল অবস্থা। তিনি আরো জানান, প্রতিদিন রাত ১১টার পর থেকে ভোর রাত পর্যন্ত চুলোয় কিছুটা গ্যাস পাওয়া যায়। এ কারনে দিনের রান্না রাতে করতে হচ্ছে।

বাগমামুদালী পাড়ার স্কুল শিক্ষিকা খালেদা আক্তার জানান, গ্যাস সঙ্কটের কারনে খাবার তৈরী করতে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা থাকলেও তা নিরসনে কোন উদ্যোগ না থাকায় চরম তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

তিতাস গ্যাসের এক ঠিকাদার জানান, শিল্প কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বেশী দেওয়ায় বাসা বাড়িতে গ্যাস কম পাওয়া যাচ্ছে। কয়েকটি শিল্প কারখানায় গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দিলে এ সঙ্কট থাকতো না বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ঠিকাদার মনে করেন।


গ্যাস অফিস সূত্র জানায়, মুন্সীগঞ্জে গ্যাসের চাহিদা ৫ দশমিক ২৫ এমএমসিএম (মিলিয়ন ঘন মিটার), কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে কত মিলিয়ন ঘন মিটার তা জানা নেই কর্তৃপক্ষের। মুন্সীগঞ্জে আবাসিক প্রায় সাড়ে ৯ হাজার ও ৪৫ টি শিল্প ও বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সংযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে তিতাস গ্যাসের মুন্সীগঞ্জ কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মাধব চন্দ্র বিশ্বাস গ্যাস সঙ্কটের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্যাস সঙ্কট নিরসনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তবে এখনো বরাদ্ধ বৃদ্ধি করা হয়নি। যার দরুন প্রয়োজনীয় সরবরাহ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এবিনিউজ