সরানো হচ্ছে মাওয়া ফেরিঘাট!

মোজাম্মেল হোসেন সজল: পদ্মা সেতু নির্মাণে বাধাগ্রস্থ হওয়ায় মাওয়া-কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটসহ লঞ্চ ও সিবোট ঘাট সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। আগামী বছরের মার্চের মধ্যে ঘাট সরিয়ে নেয়া হবে বলে জানা গেছে। ঘাটগুলো সরিয়ে নিলে পদ্মা সেতু নির্মাণে সহজ হলেও যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়ে যাবে এ আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

মাওয়া ঘাট থেকে পূর্বদিকে প্রায় পৌনে ২ কিলোমিটার দূরত্বে একই উপজেলার কুমারভোগ ইউনিয়নের চন্দ্রবাড়ি অথবা পশ্চিম দিকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরত্বে মেদেনী মল ইউনিয়নের কান্দিপাড়া এলাকায় ঘাট স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তবে পদ্মার ভাঙন অস্বাভাবিক না হলে ফেরিঘাটটি সরানো হচ্ছে না বলে বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-সচিব (প্রশাসন) এ কে এম আরিফউদ্দিন জানান।


কারণ এ সময়ের মধ্যে ঘাট অন্যত্র সরিয়ে না নিলে মূল সেতুর কাজ শুরু করতে দেরি হতে পারে।

এ বিষয়টি সেতু বিভাগ নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে বলে স্ত্রূ জানিয়েছে।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে, পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য সহসাই কান্দিপাড়া অথবা চন্দ্রবাড়ি এলাকায় মাওয়া ফেরিঘাটসহ অন্যান্য ঘাট সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

সূত্র আরও জানিয়েছে, এজন্য আন্ত:মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করে পরিকল্পনা ঠিক করা হবে। ঈদের পর সম্ভাব্য এলাকার মাটি পরীক্ষা ও জরিপের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন জায়গায় ঘাট স্থাপন করা হবে।

বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-সচিব (প্রশাসন) এ কে এম আরিফউদ্দিন বলেন, গত মাসে সেতু বিভাগকে নৌ-মন্ত্রণালয় থেকে নদী শাসন করে দেয়ার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নদী ভাঙন অব্যাহত ও অস্বাভাবিক পর্যায়ে চলে গেলে ফেরিসহ অন্যান্য ঘাটগুলো অন্যত্র সরানো হবে।

উপ-সচিব জানান, ভাঙন বেশি না হলে ফেরিঘাট সরানো হবে না।

উল্লেখ্য, ২৯০ কোটি ডলারে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের ১২০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার কথা ছিল।

এছাড়া এডিবি ৬১ কোটি, জাইকা ৪০ কোটি ও আইডিবি ১৪ কোটি ডলার ঋণ দিতে চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে।

এরপর এ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে বিশ্বব্যাংক ঋণ চুক্তি বাতিল করলে পর্যায়ক্রমে অন্য দাতা সংস্থাগুলোও চুক্তি বাতিল করে।

এমটিনিউজ২৪