মুন্সীগঞ্জে ২৫২ মণ্ডপে পূজা

kumariকাশ বনে লাগল হাওয়া, সাদা মেঘের ভাসল ভেলা নীল আকাশের কোলে। বাংলার প্রকৃতি এখন শ্বেতশুভ্র শরৎকাল। নদীর ধার, কাশের বনে, বাতাসের দোলায় শরতের আগমন যেন প্রকৃতির সৌন্দর্য আরো সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগাম বার্তা নিয়ে আসে শরৎ।

দুর্গাপূজা বা দুর্গোৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের বৃহত্তর ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। হিন্দু ধর্মের শাস্ত্রীয় নিয়মানুসারে আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষে দুর্গাপূজা পালন করা হয়। আর এ পূজা শরৎকালে হয় বলে একে শারদীয় দুর্গাপূজা বলে।

এ বৎসর আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠ দিন অর্থাৎ ২৩ আশ্বিন (১০ অক্টোবর) থেকে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব চলবে ২৭ আশ্বিন (১৪ অক্টোবর) বিজয়া দশমী পর্যন্ত। এই পাঁচটি দিন যথাক্রমে দুর্গাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্ঠমী, মহানবমী ও বিজয়া দশশী নামে পরিচিত। তবে সমগ্র এ পক্ষটিকে শাস্ত্রীয় মতে দেবীপক্ষ বলা হয়।

এবার দেবী মা দুর্গা মর্ত্যে আগমন করবেন দোলা (দোলনায়) আর কৌলাশে ফিরবেন গজে (হাতি) চড়ে। দেবীর আগম ও গমন নিয়ে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নানা বিধ বিশ্বাস রয়েছে। আর এ বিশ্বাসের যোগসূত্র প্রকৃতিক ঘটনাবলী থেকে খুঁজে পেয়েছে জ্যোতিষীরা।
kumari
শাস্ত্রীয় বিধান মতে, এবার দেবীর দোলায় আগমনের অর্থ হলো পৃথিবীতে ঝড়, বন্যা, খরা, ভূমিকম্প, ধ্বংস-প্রলয় আর মড়কের ইঙ্গিত। তবে এবার দেবীর গজে গমনকে আর্শ্বীবাদ বলা হয়েছে শাস্ত্রীয় বিধানে। কারণ আগমন ভঙ্কর হলেও দেবী গমনে সময় শস্যপূর্ণে ভরপুর থাকবে এ বসুন্ধরা। হাতি ও দোলা ছাড়াও আরো দুটি বাহন আছে দুর্গা দেবীর, ঘোড়া ও নৌকা।

বর্তমানকালে এ দেশে দুইভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে- ব্যক্তিগতভাবে পারিবারিক স্তরে ও সমষ্টিগতভাবে পাড়া বা মহল্লা স্তরে। মহল্লা বা পাড়ায় যৌথ উদ্যোগে যে দুর্গোৎসব আয়োজন করা হয় তাকে বারোয়ারি বা সার্বজনীন দুর্গাপূজা বলে।

শারদীয় এ উৎসবকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জে সনাতন ধর্মালম্বীদের ঘরে ঘরে এখন আনন্দময় আলোর রোশনাই। স্বর্গলোক থেকে মর্তলোকে ভক্তদের দর্শন দিতে আবারো আসছেন দুর্গতিনাশীনি দেবী দুর্গা।

সারা দেশের মতো মুন্সীগঞ্জে সাড়ম্বরে পূজা উদযাপনের জন্য পালন হচ্ছে মাসের মাঝামাঝি। মুন্সীগঞ্জ সদর, শ্রীনগর, লৌহজং, সিরাজদীথান, টঙ্গীবাড়ি ও গজারিয়া উপজেলাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মোট ২৫২টি পূজা মণ্ডপে সার্বজনীন দুর্গোৎসবের অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের চেয়ে এ বছর আটটি পূজা মণ্ডপ বেশি হয়েছে। তবে এর মধ্যে কয়েকটি ব্যক্তিগত বা পারিবারিক পূজাও রয়েছে। এ অঞ্চলের মণ্ডপগুলোতে আলোকসজ্জা, মঞ্চ তৈরিসহ দুর্গা দেবীকে তুলির আচড়ে রাঙ্গিয়ে তোলা হয়েছে।

২৩ আশ্বিন (১০ অক্টোবর) বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টায় অধিবাসের মধ্যদিয়ে দেবীর বোধন বা আগমন শুরু। জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে চার দিন পেরিয়ে গেলে ২৭ আশ্বিন (১৪ অক্টোবর) সোমবার সকাল নয়টায় দেবীর দশমী বিহিত পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জণ। এদিকে, পূজা শেষে প্রতিদিন সকালে প্রত্যেক পূজা মণ্ডপে অঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ ও সন্ধ্যায় ভোগ আরতি অনুষ্ঠিত হবে।


মুন্সীগঞ্জ কেন্দ্রীয় জয়কালী মাতা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সমর কুমার ঘোঘ জানান, প্রতিবারের মতো এবারো জাকজমকপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা পালন করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো ধরনের অপ্রিতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে প্রতি বছর পূজার মণ্ডবের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও এ বছর আটটি পূজা বেশি হচ্ছে।

মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, ঈদের মতোই হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচাইতে বড় ধর্মীয় উৎসব এ শারদীয় দুর্গাপূজা। এ পূজাকে শান্তিপূর্ণভাবে পালন করার লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রতিবারের মতো কয়েক স্থরে ভাগ করা হয়েছে। পুলিশ, র্যা বসহ থাকবে গ্রাম্যপুলিশ। মুন্সীগঞ্জে ২৫২টি পূজা মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। আর এ মণ্ডপ কমিটির সঙ্গে সকল থানার ওসিদের স্ব স্ব স্থানের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া প্রতিটি পূজা মণ্ডপে মোবাইল টিম হিসেবে একাধিক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

নতুন বার্তা