পদ্মার পানি শোধন শেষে সরবরাহ হবে রাজধানীতে

aaaMunshigonjপদ্মার পানি পরিশোধন করে রাজধানীতে সরবরাহ করা হবে। এজন্য মুন্সীগঞ্জের জশলদিয়ায় একটি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বসানো হবে। প্ল্যান্টে দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার পানি পরিশোধন করা হবে। এ লক্ষ্যে ৩ হাজার ৫০৯ কোটি টাকায় “পদ্মা (জশলদিয়া) ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ফেইজ-১)” নামের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় মঙ্গলবার প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়।

সভা শেষে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ভুঁইয়া শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ওয়াসায় ৪৫ কোটি লিটার অতিরিক্ত পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। সংস্থাটি বর্তমানে রাজধানীতে ২২০ কোটি লিটার পানির চাহিদার বিপরীতে ২০০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করছে। মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে ২ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা চীনা এক্সিম ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ আকারে যাবে। এতে ওয়াসার ২২ কোটি টাকার নিজস্ব অর্থায়নও রয়েছে। জুন ২০১৬ নাগাদ প্রকল্পটি শেষ হবে।


সভায় “জাতীয় প্রতিবন্ধী কমপ্লেক্স নির্মাণ, মিরপুর, ঢাকা নামের অপর একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এর আওতায় প্রতিবন্ধীদের সেবা প্রদানের জন্য ঢাকার মিরপুরে একটি জাতীয় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। এটি জেলা পর্যায়ের প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমপ্লেক্স হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ শিক্ষাকেন্দ্র এবং স্কুল কমপ্লেক্স ছাড়াও এখানে প্রতিবন্ধী বিষয়ক গবেষণা, উচ্চতর সেবা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকবে। ২০১০ সালের ২ এপ্রিল ১৩-তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস ও ৩য় বিশ্ব অটিজম দিবস উত্যাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার আলোকে জাতীয় প্রতিবন্ধী কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ভুঁইয়া শফিকুল ইসলাম জানান, গতকালের সভায় মোট ১১টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এতে প্রায় ১৬ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। প্রকল্প ব্যয়ের ৯ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন (জিওবি) এবং ৬ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা প্রকল্প সাহায্য থেকে মেটানো হবে।

সভায় অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্প হল, ৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘জাটকা সংরক্ষণ, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও গবেষণা’ প্রকল্প, ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে চাষী পর্যায়ে উন্নতমানের ডাল, তেল ও পেঁয়াজ বীজ উত্পাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্প, ১৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বিএডিসি’র বিদ্যমান সার গুদামসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ, পুনর্বাসন ও সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রকল্প, ৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে মির্জাপুর-ওয়ার্সি-বালিয়া সড়ক নির্মাণ প্রকল্প, ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে শিপ পার্সোনেল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্প, ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পাবনা বিসিক শিল্প নগরী সমপ্রসারণ প্রকল্প, ৩ হাজার ২২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০০/২৩০/১৩২ কেভি গ্রীড নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রককল্প, ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃহত্তর নোয়াখালী (নোয়াখালী, ফেণী ও লক্ষ্মীপুর জেলা) পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২, সড়ক বিভাগের “জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভ্যাট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনলাইন ভিত্তিক একটি প্রকল্প রয়েছে।

বাংলাপোষ্ট