সজল আছেন সজল নেই

sajal2সাড়ে চার মাস হলো সজল খালেদকে (মোহাম্মদ খালেদ হোসেন) হারিয়েছে তার পরিবার। সজল বিহনে পরিবারের কেহই আর আগের মতো ভালো নেই। বিশেষ করে সজলের অবুঝ ছেলে সুস্মিত মাঝেমধ্যেই বাবার জন্য এক রকম পাগল হয়ে পড়ে। তার আবদার বাবাকে চাই, বাবাকে এনে দাও। অপরদিকে সজল কোনওদিনই ফিরে আসবেন না তাও কোনওভাবেই মানতে পারছেন না তার পরিবারের সদস্যরা। বিশেষ করে সজলের স্ত্রী তাহমিনা খান শৈলী সারাক্ষণই থাকেন বিষণœ মন নিয়ে। সজলকে হারানোর দুঃখ তার পরিবার এভারেস্ট জয়ের সনদের মাধ্যমে ভুলে থাকতে চেষ্টা করেও পারছে না। পরিবারের একাধিক সদস্য জানান, সনদ দেখে মনে হয় সজল আছে, পরক্ষণেই মন কেঁদে বলে আমাদের সজলকে এনে দাও। উল্লেখ্য, সজল খালেদের এভারেস্ট জয়ের সনদ গত ৫ সেপ্টেম্বর নেপালের কর্তৃপক্ষ থেকে গ্রহণ করেন তার স্ত্রী তাহমিনা খান শৈলী। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সজলের বন্ধু বাবু।


পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাহমিনা খান শৈলী ছাড়াও পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং বন্ধুরা কোনওভাবেই মানতে পারছেন না সজল ফিরবেন না। আবার সজলের মৃত্যু নিয়েও তাদের মনে রয়েছে রহস্যের দানা। যা গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যক্তও করেছেন সজল খালেদের স্ত্রী তাহমিনা খান শৈলী। ‘এভারেস্টজয়ী সজল খালেদ কোথায়’ শীর্ষক ওই সংবাদ সম্মেলনে সজলের এভারেস্ট অভিযানের সবকিছু প্রকাশের দাবি জানানো হয়।

সজল খালেদের শ্যালক নাসির খান সৈকত এ প্রতিবেদককে জানান, তার (সজল) এভারেস্ট জয়ের সনদই বর্তমানে পরিবারের একমাত্র সম্বল।

তাহমিনা খান শৈলী জানান, ‘সনদের মধ্যেই সজলকে খুঁজে পাই। কিন্তু পুত্র সুস্মিতকে বোঝাতে পারি না।’

তিনি হতাশার স্বরে বলেন, আবারও ঈদ আসন্ন। ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আজহাও কি সজল বিহনে কাটাতে হবেÑ এমন প্রশ্ন করেন তিনি।

ভবিষ্যৎ জীবনের কথা জানতে চাইলে তিনি এখনও অন্য কোনওকিছুই ভাবতে পারেননি বলে জানান তিনি। জানালেন, সজলের স্মৃতি নিয়েই বেঁচে থাকতে চান। বেঁচে থাকতে চান পুত্রকে আগলে রেখে। তাছাড়া তার বিশ্বাস আছে, সজল ফিরে আসবেই।


প্রসঙ্গত, গত ২০ মে এভারেস্ট জয় শেষে ফেরার পথে মারা যান ৩৫ বছর বয়সী তরুণ চলচ্চিত্র পরিচালক মুন্সীগঞ্জের ছেলে সজল খালেদ। ছয় ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট সজলের সংসারে রয়েছে স্ত্রী শৈলী ও একমাত্র পুত্র সুষ্মিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সজলের মরদেহ উদ্ধার ও তা দেশে নিয়ে আসার জন্য কাজ করেও ব্যর্থ হয় নেপালে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস। বৈরী আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে সজলের মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হয়নি। আর সম্ভব হবে কিনা তা নিয়েও সংশয় থেকেই যায়। অবশ্য সজল খালেদের পরিবার মনে করছে, এটি হত্যাকাণ্ডও হতে পারে। এদিকে সজল খালেদ দুই বছর আগেও এভারেস্ট জয় করতে গিয়ে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফিরে আসেন। তিনি এভারেস্ট ছাড়াও হিমালয়ের মেরা পিক, চুলু ওয়েস্ট ও লান্সিসারি চূড়া জয় করেছিলেন। এছাড়া পর্বতারোহণ নিয়ে এডমন্ড ভিস্টর্সেলের লেখা ‘পর্বতের নেশায় অদম্য প্রাণ’ শিরোনামে একটি বই অনুবাদও করেন সজল।

আমাদের সময়