সম্ভাবনার হাতছানি মুন্সীগঞ্জে প্রস্তাবিত গার্মেন্টপল্লী

aaaMunshigonjসম্ভাবনার বাংলাদেশ
লাবলু মোল্লা: মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বাউশিয়া এলাকায় প্রস্তাবিত গার্মেন্টপল্লী হাতছানি দিচ্ছে বিপুল সম্ভাবনার। দেশের শীর্ষ রপ্তানি আয়ের এ খাতকে একটি শিল্পসহায়ক সুশৃঙ্খল পরিবেশে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের নিশ্চয়তা দেবে প্রস্তাবিত এ গার্মেন্টপল্লী। এটি বাস্তবায়িত হলে পরিকল্পিত নাশকতার তাণ্ডব থেকে রক্ষা পাবে গার্মেন্ট খাত। উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে রপ্তানি আয়। দেশ এগোবে অর্থনৈতিক মুক্তির পথে। তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেসরকারি সংস্থা ‘প্রত্যাশী’ সরকারের কাছে মুন্সীগঞ্জের এ গার্মেন্টপল্লীর প্রস্তাবনা পেশ করেছে। প্রস্তাবিত গার্মেন্টপল্লী বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণের কাজ করছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে বিজিএমইএর প্রায় ২৩০০ সদস্য, অর্থাৎ গার্মেন্ট মালিক আবেদন করেছেন প্লটের জন্য। প্রকল্পটিতে গড়ে তোলা হবে বিভিন্ন আকারের ৫৭৭টি গার্মেন্ট কারখানা। পাশাপাশি গড়ে উঠবে আরও কিছু লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি। গার্মেন্টস কারখানাগুলোর শ্রমিকদের জন্য প্রকল্প এলাকার ভেতরই গড়ে তোলা হবে আবাসন ব্যবস্থা। অপার সম্ভাবনার গার্মেন্ট শিল্পের কারখানাগুলো অপরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। বিশেষ করে রাজধানীর অলিতে-গলিতে গার্মেন্ট কারখানা গড়ে ওঠায় যানজট থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। বিঘি্নত হচ্ছে এ শিল্পের পরিকল্পিত বেড়ে ওঠা। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। কিন্তু এর পরও থেমে নেই পথচলা।

উদ্যোক্তারা বলছেন, এ শিল্পকে সামনে রেখেই একদিন বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পেঁৗছাবে। কারণ বাংলাদেশের রয়েছে সাহসী ও দক্ষ জনশক্তি। গজারিয়ার বাউশিয়া গার্মেন্টপল্লী হাতছানি দিয়ে ডাকছে সম্ভাবনা নিয়ে। এটি বাস্তবায়িত হলে লাখ লাখ মানুষের নতুন কর্মসংস্থান হবে। গার্মেন্ট খাতে ফিরে আসবে শৃঙ্খলা। এ খাত রক্ষা পাবে পরিকল্পিত নাশকতার তাণ্ডব থেকে। দেশ এগোবে অর্থনৈতিক মুক্তির পথে।


গার্মেন্ট শিল্পের উন্নয়নে ও এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বাউশিয়া এলাকায় প্রায় ৫৩০ একর জমি নিয়ে গার্মেন্টপল্লী গড়ে তোলার প্রস্তাব এনেছে বিজিএমইএ। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছরের শুরুতে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মাধ্যমে সরকারের কাছে বিজিএমইএ বাউশিয়ায় গার্মেন্টপল্লীর জন্য একটি প্রকল্পের অনুমোদন চেয়েছে। বিজিএমইএর ওই প্রকল্পের উদ্যোক্তা ইঞ্জিনিয়ার মো. সামসুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘এখানে গার্মেন্টপল্লীর জন্য মুন্সীগঞ্জের ডিসির মাধ্যমে সরকারের কাছে ৫৩০ একর জমি চেয়েছি। এখানে ৫৭৭টি গার্মেন্ট কারখানা গড়ে তোলা যাবে। এ ছাড়া গার্মেন্টপল্লীর পাশেই গড়ে তোলা হবে এখানকার শ্রমিকদের আবাসন প্রকল্প। সরকারি অনুমোদন পেলে এবং সব ঠিক থাকলে পরবর্তী সময়ে এর প্রাক্কলিত বাজেট বা আনুষঙ্গিক বিষয়াদি নির্ধারণ করবেন বিজিএমইএর কর্মকর্তারা।’


মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদল কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, গজারিয়ায় গার্মেন্টপল্লীর বিষয়টি বেসরকারি। তাই এটি অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক ভূমি মন্ত্রণালয়ে এটি অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছেন। এ-সংক্রান্ত ফাইলটি এখন ভূমি মন্ত্রণালয়ে আছে। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিজিএমইএ। এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী মাহাবুবুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এ খাতের বিশৃঙ্খল অবস্থায় বাউশিয়া গার্মেন্টপল্লীর বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। বিজিএমইএ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুন্সীগঞ্জের একমাত্র দৈনিক ‘মুন্সীগঞ্জের কাগজ’ সম্পাদক এবং নাসিব মুন্সীগঞ্জ জেলার সভাপতি, তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী মো. আরেফিন মোল্লা বলেন, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার বাউশিয়ায় গার্মেন্টপল্লী গার্মেন্ট শিল্পের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে। এখানে এ পল্লী গড়ে উঠলে তা গার্মেন্ট শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, গার্মেন্ট শিল্পের সম্ভাবনার এই বাংলাদেশ একদিন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পোশাক তৈরি ও রপ্তানির দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। এ শিল্পের হাত ধরেই দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়বে। দেশ হবে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধিশালী। পোশাক রপ্তানিতে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয়। বাউশিয়ায় গার্মেন্টপল্লী প্রতিষ্ঠিত হলে শীঘ্রই পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ পেঁৗছে যাবে প্রথম স্থানে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন