শ্রীনগরে গরু-ছাগলের হাট ক্ষমতাসীন সিন্ডিকেটদের দখলে!

aaaMunshigonjমোজাম্মেল হোসেন সজল: মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের ৩টি অস্থায়ী গরু-ছাগলের হাটের ইজারা চলে গেছে ক্ষমতাসীন সিন্ডিকেটদের দখলে। শ্রীনগর ইউএনও, সচিব ও উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের লুকোচুরিতে অন্তত ৩০-৪০ জন ইজারাদার মঙ্গলবার টন্ডার ক্রয়ের শেষ দিনেও সিডিউল ক্রয় করতে পারেননি। উপজেলা ইউএনও সকাল ৯ টার পর থেকে অফিস থেকে বেরিয়ে পড়েন। দুপুর ১২ টার দিকে অফিসে ঢুকে সিডিউল ক্রয়কারীদের ভিড় দেখে দ্রুত চলে যান অফিস থেকে। সচিব মো. নাসির সিডিউলে ইউএনও’র স্বাক্ষর নেই অজুহাতে দরপত্র ক্রয়কারীদের ফিরিয়ে দেন। আগত সিডিউল ক্রয়কারীরা বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ইউএনও’র অপেক্ষা করে ফিরে যান। উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সেলিম আহম্মেদও আসেননি উপজেলা পরিষদে। তার বক্তব্য-এ দায়িত্ব তার নয়। এটি স্থানীয় সংসদ সদস্য’র পরামর্শক্রমে ইউএনও করছেন।


এদিকে, শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহানারা বেগমকে না পেয়ে ও সচিব তাদের সিডিউল না দেয়ায় তারা সিডিউল পাওয়ার জন্য শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে ওই গরু-ছাগলের হাটের ইজারাদারের দরপত্র ক্রয় করার আবেদন করে তার রিসিভ কপি নিয়ে বাড়ি ফিরে যান তারা। কাল বুধবার দুপুর ১টায় কোরবানির ওই অস্থায়ী গরু-ছাগলের হাটের সিডিউল ড্রপ হচ্ছে। সাধারণ ইজারাদারসহ বিএনপি সমর্থিত কোন ইজারাদার ওই হাটের সিডিউল ক্রয় করতে পারেনি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে শ্রীনগরের বাঘরা বাজার, ভাগ্যকুল-মান্দ্রা ও কেদারপুর হাটসহ নবারুন সংসদ এলাকায় প্রতি বছর গরু-ছাগলের অস্থায়ী হাট বসে। এসব হাট সিন্ডিকেটদের দখলে চলে যায়। উম্মুক্ত ডাক না হওয়ায় সিন্ডিকেটরা মিলে ওই হাট ৩টির ডাক নামমাত্র মূল্যে নিয়ে যায়। এতে সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।


সিডিউল ক্রয় থেকে বঞ্চিত বাঘরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, ভাগ্যকূল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন তালুকদার ও একই ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি সিরাজুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, দরপত্র ফরম ক্রয়ের জন্য সারাদিন ইউএনও’র জন্য অপেক্ষা করেছি। উপজেলা পরিষদের সচিব মো. নাসিরের কাছে সিডিউল ক্রয় করতে গেলে তিনি আমাদের বলেন-সিডিউলে ইউএরও’র স্বাক্ষর নেই। পরে সিডিউল না দেওয়ায় সিডিউল পাওয়ার জন্য বাধ্য হয়ে শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত আবেদন করেছি।
এ ব্যাপারে শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহানারা বেগম বলেন-সিডিউলে আমি স্বাক্ষর করে মুন্সীগঞ্জে সরকারি মিটিংয়ে গেছি। কেউ সিডিউল পায়নি এ কথা ঠিক নয়।

ঢাকা নিউজ এজেন্সি