সম্পত্তি লিখে না দেয়ায় জবাই করে হত্যা

jabaiসম্পত্তির জন্যই মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে অটোবাইক চালক আবুল হোসেনকে (৪৫) জবাই করে হত্যা করেছে বোন জামাই ওসমান ও তার লোকজন। বৃহস্পতিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নিহত আবুল হোসেনের বাবা নান্নু শেখ ও মা মালেকা বেগম এ অভিযোগ করেন।
এদিকে, মামলার বাদী আসলাম শেখের এজাহারে হত্যাকারী ৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু থানার এফআইআরএ আসামিদের নাম অজ্ঞাতনামা দেখানো হয়েছে।

অন্যদিকে, হত্যাকাণ্ডের এক মাস ৭দিন পেরিয়ে গেলেও মূল আসামি ওসমানকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ অবস্থায় গত ১১ সেপ্টেম্বর এ হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরে আইনমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছে বাদীপক্ষ।


সংবাদ সম্মেলনে নান্নু শেখ জানান, মেয়ের জামাতা ওসমান ১৪ শতাংশ সম্পত্তির জন্য তার একমাত্র ছেলেকে জবাই করে হত্যা করেছে। এ হত্যার ঘটনায় জড়িত শাজাহান ও তার ছেলে মনিরকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও এখন পর্যন্ত মূল হত্যাকারী মেয়ের জামাতা ওসমানকে গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ।
jabai
তিনি আরো বলেন, আমি ও আমার স্ত্রী জীবিত থাকার পরও বিয়ের পর থেকেই সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল ওসমান।

নিহত আবুলের ছেলে ও মামলার বাদী আসলাম শেখের অভিযোগ, সিরাজদিখান থানায় দাখিল করা অভিযোগে ওসমান, শাজাহান ও মনিরের নাম উল্লেখ করা হলেও পুলিশ তা মামলায় নথিভুক্ত করার সময় এফআইআর-এ ওই তিন জনের নাম বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি উল্লেখ করে। এতে এ মামলার অগ্রগতি ও বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-নিহত আবুল হোসেনের মা মালেকা বেগম, স্ত্রী রোখসানা বেগম, ছেলে আসলাম শেখ, বোন মিনারা বেগম, রহিমা বেগম ও আইনজীবী নাহিদ হাসান।

উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট রাতে সিরাজদিখানের জৈনসার ইউনিয়নের খিলগাঁও কুসুমপুর নওপাড়া ব্রিজের নীচে অটোবাইক চালক আবুল হোসেনকে (৪৫) জবাই করে হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আসলাম শেখ বাদী হয়ে সিরাজদিখান থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই রাতেই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শাহজাহান ও তার ছেলে মনিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ১৯ আগস্ট গ্রেফতারকৃত বাবা-ছেলেকে ৫দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঢাকারির্পোটটোয়েন্টিফোর