বৃদ্ধ বাবাকে নির্যাতনের দায়ে মুন্সীগঞ্জে ইমাম গ্রেপ্তার

Munshiganj-Fatheমোজাম্মেল হোসেন সজল: টানা ১০ মাস বৃদ্ধ বাবাকে আটক ও মসজিদের ভেতর নির্যাতন করার দায়ে মুন্সীগঞ্জ শহর জামে মসজিদের পেশ ঈমাম মুফতি শহীদুল্লাহকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃদ্ধ বাবা আরজু উল্লাহকে (৮৩) মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল সড়ক থেকে ওই ঈমামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুফতি শহীদুল্লাহর ছোট সৎ ভাই খালিফ সাইফুল্লাহ বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। দুপুর আড়াইটার দিকে ঈমামকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার এসআই মো. মোশারফ জানান, চুয়াডাঙ্গার দামুরহুদা উপজেলার কারপাশ ডাঙ্গা গ্রাম থেকে বৃদ্ধ বাবা আরজু উল্লাহকে ডেকে এনে মুফতি শহীদুল্লাহ কৌশলে ১০ মাস আগে ঘরবন্দি করে রাখে। মুফতি শহীদুল্লাহ শহর জামে মসজিদ সংলগ্ন নিজের বাস ভবনে বৃদ্ধ বাবা আরজুকে আটক করে রাখছিল। গত ২ দিন আগে মুন্সীগঞ্জ শহর জামে মসজিদে জোহরের ফরজ নামাজ শেষ হওয়া মাত্রই আরজু উল্লাহ দাঁড়িয়ে উপস্থিত মুসল্লিদের কাছে ছেলের বিরুদ্ধে তাকে আটক করে রাখার সংবাদ জানায়। এতে পেশ ঈমাম বাবাকে পাগল বলে মন্তব্য করে লাথি মেরে ফেলে দেয়। মাথায় গুরুতর আঘাত পান তার বাবা। তাকে মুসল্লিরা মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করায়। তিনি আরো জানান, বৃদ্ধ আরজু উল্লাহর দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার সন্তানরা যাতে গ্রামের বাড়ির সহায়-সম্পত্তি লিখে নিতে না পারে সেজন্য বৃদ্ধ বাবাকে ওই ঈমাম ১০ মাস ধরে আটকে রেখেছেন। এদিকে, ওই ঈমামকে মসজিদ থেকে চাকুরিচ্যুত করা হচ্ছে বলে মসজিদ কমিটির একাধিক সদস্য জানিয়েছেন।

ঢাকা নিউজ এজেন্সি
=============

মুন্সিগঞ্জ মুফতি সাবের কান্ড বাবাবে পাগল বানিয়ে আটকিয়ে রাখে ১৩ মাস ॥ বাবার মাথা ফাটিয়ে গ্রেফতার মুফতি মু. শহিদুল্ল্যাহ॥

মুন্সিগঞ্জ শহর জামের মসজিদের খতিব ও মুফতি মু. শহিদুল্যাহ তার বাবা আরজুল্ল্যাহকে মসজিদের চেয়ার থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে তার মাথা ফেটে যায় এতে ৩টি সিলি দিতে হয়েছে। বর্তমানে মুফতি সাহেবের বাবা মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ফলে এলাকায় টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে বিষয়টি। জমাজমি ও ভাগভাটোয়ারার বিষয়কে কেন্দ্র করে এই ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে। মুফতি মু. শহিদুল্ল্যাহ এর বাবা দুটি বিবাহ করেছেন প্রথম সংসারে ৫ছেলে ৫মেয়ে। ৫জন ছেলে হলো (১) আব্দুল্লাহ, (২) মেজ ছেলে শহীদুল্লাহ, (৩) ইলিয়াস, (৪) ওয়ালি উল্লাহ, (৫) মহিবুল্লাহ, ৫জন এই সংসারের মেঝে ছেলে মুফতি মু. শহিদুল্লাহ। দ্বিতীয় সংসারে ১ছেলে ১ মেয়ে। দ্বিতীয় সংসারের ছেলে খালিদ সাইফুল্লাহ (৩০), মেয়ে সালমা (২২)। প্রথম স্ত্রী নুরুন নাহার, দ্বিতীয় স্ত্রী আমিনা বেগম।
দ্বিতীয় সংসারের ছেলে খালিদ সাইফুল্লাহ জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ তার বাবা বাড়িতে না যাওয়ায় মুন্সিগঞ্জে খোঁজ নিতে আসেন এসে দেখেন তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি। বাবা আরজুল্ল্যাহ (৮২) হাসপাতালের বেড থেকে জানান, তার ছেলে মুফতি মু. শহিদুল্ল্যাহ রবিবার যহুরের ফরজ নামাজ আদায় শেষে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে চান। মহুর্তের মধ্যে মুফতি সাহেব বাবার কাছে গিয়ে ধাক্কা দেন। ধাক্কা দিলে তিনি মসজিদের ফ্লোরে পড়ে যান এবং চেয়ারে আঘাত লেগে তার মাথা ফেটে যায়।
Munshiganj-Fathe
তিনি আরো জানান, ১২/১৩ মাস ধরে তাকে আটকে রাখা হয়েছে তার বাড়িতে কোথায় বের হতে দেয়া হতো না। জোর করে সাদা স্টিমে বাবার স্বাক্ষর নিয়ে গৃহবন্দী করে রেখেছে মুফতি শহীদুল্লাহ। বাবাকে পাগল বলে দীর্ঘদিন যাবৎ আটকিয়ে রাখার পর অবশেষে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। বাবার দ্বিতীয় সংসারের ছেলে-মেয়েকে যাতে জমি জমা লিখে দিতে না পারে তার জন্য এই ব্যবস্থা করেছেন মুফতি সাহেব। মানুষিক ও শারিরীক নির্যাতনের অভিযোগ করেন তিনি। নির্যাতনে তার চোখের নীচে কালো দাগ হয়েছে। রমজান মাসেও তাকে ৭দিন মসজিদে যেতে দেয়া হয়নি। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে। এমনকি তাকে তালাক দেওয়ার জন্যও চাপ প্রয়োগ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

গোপনে জেলা প্রশাসক মহোদয় ও এসপি মহোদয় বরাবর অভিযোগ দায়ের করলে এস.আই মোশাররফ হোসেনকে পাঠিয়ে সোমবার রাত আটটার পরে বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বাবাকে পাগল ও ধাক্কা দিয়ে মসজিদের চেয়ার থেকে ফেলে দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন মুফতি সাহেব এই খবরে সোমবার সারা শহর জুড়ে আলোচনা করতে দেখা যায়। অনেকে শুনে হতবাক হয়ে পড়েছেন। মুফতি সাহেবের বাবা আরজুল্লাহ হাসপাতালের বেডে বসে আটকিয়ে রেখে নির্যাতন এবং মসজিদের চেয়ার থেকে ফেলে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার সুষ্ঠু বিচার প্রার্থণা করেছেন।

এ বিষয়ে মুফতি শহীদুল্লাহ সাহেবের সাথে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় খালিদ সাইফুল্লাহ বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দাখিল করছেন।

মসজিদের ভিতরে বৃদ্ধ পিতাকে মারধর ও রক্তাক্ত জখম অবস্থায় অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় মুন্সিগঞ্জের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মো. শহীদুল্লাহকে (৫০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে হাসপাতালের প্রধান ফটক থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের জন্য আদালতের পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া পেশ ইমামের বৃদ্ধ পিতা মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সদর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সুলতানউদ্দিন জানান, এ ঘটনায় সোমবার রাতে মামলা হওয়ার পর মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে পেশ ইমাম মো. শহীদুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। আওয়ামী লীগ নেতাদের সহায়তায় জামিনে মুক্ত হন তিনি। আদালতে মুফতি সাহের পক্ষে জামিন আবেদন করেন এড, নুরুল ইসলাম, এড. সিরাজুল ইসলাম পল্টু, এড. মজিবুর রহমান শেখ।

ইউনাইটেড প্রেস অব বাংলাদেশ