নদী ভাঙনে মাওয়া-দোহার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ : তীব্র যানজট

বিধ্বস্ত মাওয়ায় আবারো ভাঙন দেখা দিয়েছে। শুক্রবার সকালে লৌহজং উপজেলার মাওয়ার পুরাতন দুই নম্বর ফেরিঘাট এলাকার মাওয়া-ভাগ্যকুল সড়কের ২০ ফুট পাকা রাস্তাসহ ৫০-৬০ ফুট এলাকা পদ্মার পেটে চলে গেছে। এতে মাওয়া-ভাগ্যকুল-দোহার সড়কের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

একসঙ্গে ফেরি চলাচলে অচলাবস্থা দেখা দেয়ায় মাওয়া ঘাট এলাকায় সাত কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে আকস্মিক এ ভাঙনে দক্ষিণ মেদেনী মন্ডল এলাকার স্থানীয় সাংবাদিক গোলাম মঞ্জুরে মাওলা অপু ও তার স্বজনদের ৬টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন সিকদারের ত্রিতল ভবনসহ ৬টি ঘরবাড়ি পদ্মার পেটে চলে গেছে। একেবারে ভাঙনের মুখে রয়েছে সাংবাদিকের ২টি বিল্ডিংসহ ৬টি বসতঘর ও ভিটাসহ ২০-২৫টি ঘরবাড়ি-ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও ৫০-৬০ গাছ-গাছালি। ভাঙনের ১শ’ গজ দূরত্বে রয়েছে মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ি। ভাঙন আতঙ্কে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ১০-১৫টি দোকানঘর।


মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটের মাওয়া প্রান্তে পদ্মার স্রোত থামেনি। কাটেনি ওই নৌরুটের অচলাবস্থা। শুক্রবার স্রোত আরো বেড়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার পর থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ১০টি ফেরি চলাচল করছে। বন্ধ রয়েছে ৬টি ফেরি।

মাওয়াস্থ বিআইডব্লিটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক এসএম আশিকুজ্জামান জানান, স্রোত আগের চেয়ে বেড়েছে। টাগ জাহাজ দুর্বারের সহযোগিতায় যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে ১০টি ফেরি চলাচল করছে।

এদিকে ফেরি চলাচলে অচলাবস্থা দেখা দেয়া মাওয়া ও কাওড়াকান্দি ঘাটের উভয় পাড়ের সড়কে কয়েকদিন ধরে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকে রয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাওয়া প্রান্তে পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যা আরো বেড়ে গেছে। মাওয়া চৌরাস্তা থেকে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের শ্রীনগরের ষোলঘর এলাকা পর্যন্ত দীর্ঘ ৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পণ্যবাহী ট্রাক সারিবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এদের অধিকাংশ ট্রাকই গত ৪-৫ দিন ধরে আটকে রয়েছে।

এ সুযোগে মাওয়াস্থ বিআইডব্লিউটিসি, নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি, আনসার সদস্যরা সিন্ডিকেট করে হাতিয়ে নিচ্ছে অবৈধ টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, আগে সিরিয়াল দেয়ার নামে ট্রাকপ্রতি দেড় হাজার থেকে ১ হাজার ৭শ’ করে টাকা আদায় করছে ওই সিন্ডিকেটটি। যেসব ট্রাকচালক তাদের ওই টাকা দিতে সক্ষম হয় তাদের আগে সিরিয়াল দেয়া হচ্ছে।

জাস্ট নিউজ