মাওয়া-কাওড়াকান্দি ঘাটে তীব্র যানজট

প্রচন্ড স্রোতের কারণে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে ফেরি চলাচলে দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা। ফলে মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে এ নৌরুটে ১১টি ফেরি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ফেরি কর্তৃপক্ষ।

বুধবার নৌরুটে রানিং ১টি মিডিয়াম, একটি কে টাইপ ও ১টি রো রো ফেরি দিয়ে চলাচল সচল থাকলেও মাঝ নদীতে ও মাওয়া ঘাটের কাছে পানির স্রোতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফেরিগুলো চ্যানেলের ৪-৫ কিলোমিটার বাইরে লৌহজং নামার দিকে চলে যাচ্ছে। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় আটকা পড়েছে প্রায় ৮ শতাধিক যানবাহন ।

এদিকে ২৬টি যাত্রীবাহী যানবাহন নিয়ে ২৩ ঘণ্টা ধরে পদ্মায় প্রচন্ড স্রোতের তোড়ে ভেসে গিয়ে নৌ চ্যানেলের বাইরে আটকা পড়ে রয়েছে বিআইডব্ল্লিউটিসির ফেরি টাপলো।


উজান থেকে ধেয়ে আসায় পদ্মায় হু হু করে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। মুন্সীগঞ্জের ভাগ্যকুল পয়েন্টে বিপদসীমার মাত্র ৩০ সে.মি. উপরে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি। মাওয়া পয়েন্টেও বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে পানি। এতে করে পদ্মায় প্রচন্ড স্রোত দেখা দিয়েছে।

বুধবার গত ৪৮ ঘণ্টায় শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৬ দশমিক ৪৮ মিটার থেকে ৬ দশমিক ৬০ মিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে এবং মাওয়া পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৫ দশমিক ৯৬ মিটার থেকে ৬ দশমিক ০৬ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে।

রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন, ফেরি ফরিদপুর, কনকচাঁপা নামে ৩টি ফেরি নৌরুটে চলাচল করছে। পানির স্রোতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ৬টি ডাম্প, ২টি রো রো, একটি মিডিয়াম, একটি কে টাইপ ও একটি ভিআইপি ফেরিসহ ১১টি ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে রানিং ৩টি ফেরি আগের তুলনায় নদী পারাপারে সময় বেশি নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। স্রোতের তীব্রতায় ফেরিগুলো চ্যানেলের ৪-৫ কিলোমিটার বাইরে লৌহজং নামার দিকে চলে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় স্রোত অব্যাহত থাকলে ফেরি ঘাটটি কুমারভোগ এলাকায় হস্তান্তর করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ জানিয়েছেন।

মাওয়া বিআইডব্লিউটিসির মেরিন অফিসার মো. শাহাজাহান জানান, পদ্মায় প্রচন্ড স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে নৌরুটের লৌহজং টার্নিয়ের কাছাকাছি পয়েন্টে মাঝ নদীতে ও ঘাটের কাছে ফেরিগুলো চলাচলে মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকেই নৌরুটে ১১টি ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

মাওয়া বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. আশিকুজ্জামান জানান, স্রোত কমছে না। তাই আপাতত ৩টি ফেরি দিয়েই যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করতে হচ্ছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া ফেরিগুলো কাওড়াকান্দি ঘাটে নোঙরে রাখা হয়েছে।


বিআইডব্লিউটিসির কাওড়াকান্দি ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক এমএ বাতেন জানান, পদ্মা নদীর মাওয়া পাড়ে প্রচন্ড স্রোত দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল থেকেই মাওয়া-কাওরাকান্দি নৌরুটে ফেরি চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান ড. খন্দকার শামসুদ্দোহা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বুধবার ৫ ঘণ্টা মাওয়া এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পরিদর্শনকালে তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পদ্মার স্রোত না কমলে যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনে নতুন ফেরিঘাট এলাকাটি কুমারভোগ এলাকায় স্থানান্তরের কথা জানানো হয়।

জাস্ট নিউজ