পরিচয় মিলেছে মুন্সীগঞ্জের অজ্ঞাত লাশের

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার একটি খাল থেকে অজ্ঞাতনামা (২৫) যুবকের উদ্ধারকৃত লাশের পরিচয় মিলেছে। মঙ্গলবার সকালে নিহতের মামা ও ভাই এ লাশ সনাক্ত করেন। উদ্ধারকৃত লাশটি জেলার সিরাজদিখান উপজেলার আকবর নগর গ্রামের গোলাম হোসেনের ছেলে মো. উজ্জল হোসেনের। ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্বে পার্টনারদের হাতে গত ২৮শে আগস্ট রাতে উজ্জল নিখোঁজ হয়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলার কাশিপুরস্থ কলেজ রোডের নজরুল ইসলামের ভাড়া বাড়ি থেকে উজ্জল নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. মিলন হোসেন গত ১লা সেপ্টেম্বর রাতে একই এলাকার আকবর নগর গ্রামের তাছির আলীর ছেলে ব্যবসায়ী পার্টনার আবুল হাশেম ও তার সহযোগী রাজবাড়ি জেলার সাথী (২৭)-কে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই আবুল হাশেমকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এরপর তাকে দু’দফায় পুলিশ রিমান্ডে আনা হয়েছে। সর্বশেষ সোমবার আবুল হাশেমকে ৪দিনের রিমা-ে আনা হয়েছে বলে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মো. ফজলুল হক জানিয়েছেন। এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে উজ্জলের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে আকবর নগর গ্রামে জানাযা শেষে লাশ দাফন করা হয়েছে।


নিহতের ভাই মিলন হোসেন ও মামা গিয়াসউদ্দিন জানান, আকবর নগর গ্রামের আবুল হাশেম ও উজ্জল ৬ লাখ করে ১২ লাখ টাকা দিয়ে ফতুল্লার কাশিপুরে মোমবাতি ও নেট ব্যাগ ব্যবসার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা দু’জন একই ফ্লাটে ভাড়া থাকতো। গত দেড় মাস আগে উজ্জল বাড়ি থেকে ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা এনে আবুল হাশেমের হাতে দেয়। আবুল হাশেম ব্যবসায় কোন টাকা বিনিয়োগ না করে উজ্জলের টাকা দিয়ে দু’জনে ব্যবসা শুরু করেন। কিন্ত এ টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও ব্যবসা ছিল আবুল হাশেমের নিয়ন্ত্রণে। ব্যবসায় কোন টাকা বিনিয়োগ ও হিসাব না দেয়ায় উজ্জলের সঙ্গে তার বিরোধ দেখা দেয়। এ বিরোধের জের ধরে গত ২৮ শে আগস্ট দিবাগত রাতের যে কোন সময় উজ্জলকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়। সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে গজারিয়া উপজেলার দড়ি বাউশিয়া এলাকার নয়াকান্দি নামক খাল থেকে পুলিশ উজ্জলের লাশ উদ্ধার করে।

এদিকে, ফতুল্লা মডেল থানায় এসআই মো. ফজলুল হক জানান, লাশটি চেনা যাচ্ছে না। নিহত উজ্জলের স্ত্রী নিলা আক্তার জানিয়েছেন এ লাশ তার স্বামীর নয়। আর এ কারণেই তা সনাক্তের জন্য ডিএনএন টেস্ট করতে হবে। ডিএনএন টেস্টের জন্য মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জনের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে তিনি জানান। নিহতের ভাই মিলন হোসেন ও মামা গিয়াসউদ্দিন জানান, আমরা আমাদের স্বজনের লাশ সনাক্ত করেছি। উজ্জলের স্ত্রীকে সংবাদ দেয়া হয়েছিল-তুমি চিন্তা করো না। উজ্জল বেঁচে আছে। এতে তিনি আবেগে আপ্লুত ও দিশেহারা হয়ে হয়তো ওই মন্তব্য করেছেন।

ঢাকা নিউজ এজেন্সি