ইদ্রাকপুর দুর্গের অন্য স্থাপনা অপসারণের সিদ্ধান্ত

মুন্সিগঞ্জ শহরের ইদ্রাকপুর দুর্গের সীমানার ভেতর ও এর আশপাশে যেসব স্থাপনা গড়ে উঠেছে, তা অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্গ সংস্কার ও সংরক্ষণবিষয়ক পরামর্শক কমিটি। সোমবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে কমিটির আহ্বায়ক প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শিরিন আখতারের নেতৃত্বে অন্য সদস্যরা দুর্গ ও এর আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন।

সভায় পরামর্শক কমিটি দুর্গের আদি কাঠামো ঠিক রেখে নতুন যেসব স্থাপনা নির্মিত হয়েছে, তার সব কটি অপসারণের পরামর্শ দেয়। এর মধ্যে দুর্গের ওপর মহকুমা প্রশাসকদের জন্য নির্মিত বাংলো, দুর্গের সীমানার ভেতরে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কার্যালয় ও তাদের কর্মীদের বাসস্থান রয়েছে। কমিটি দুর্গের সীমানার ভেতর স্থাপিত মুন্সিগঞ্জ জেলখানা (বর্তমানে অব্যবহূত) ভবনটিকে জাদুঘর হিসেবে নির্মাণের পরামর্শ দিয়ে ভবনের দ্বিতীয় তলার অংশটি ভেঙে ফেলতে বলেছে।


সড়ক থেকে দুর্গটি দেখার জন্য কমিটি দুর্গের পাশে জেলা পরিষদের নির্মিত ডাকবাংলো (পরিত্যক্ত) ও কর্মচারীদের থাকার ঘরবাড়ি, গাড়ির গ্যারেজ, লেডিস ক্লাব, পৌরসভার নির্মিত শৌচাগার ও আবর্জনা ফেলার স্থাপনা অপসারণ করতে বলেছে।

কমিটি রাজা শ্রীনাথ ক্লাবের পুরোনো ভবনের (ইতিমধ্যে তা ভাঙা হয়েছে) স্থানে নতুন ভবন নির্মিত করতে বারণ করেছে। দুর্গের ভেতরের পুকুর ভরাট করে ঘাস লাগানোর (লন) পরামর্শ দিয়েছে এবং চারদিকে হাঁটার পথ তৈরি করতে বলেছে। পরে ওই সব পরামর্শ সিদ্ধান্ত হিসেবে গৃহীত হয়।

মহাপরিচালক শিরিন আখতার জানান, সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আদি কাঠামোবহির্ভূত সব স্থাপনা অপসারণের জন্য জেলা প্রশাসককে আনুষ্ঠানিক পত্র দেওয়া হবে।

কমিটির সদস্য ও মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বলেন, ‘ইদ্রাকপুর কেল্লাকে জাদুঘরের পাশাপাশি বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। যেসব স্থাপনা কেল্লার সৌন্দর্য বিনষ্ট করবে, তা অপসারণের জন্য অচিরেই কাজ শুরু করব।’

কমিটির অপর সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আবদুল মমিন চৌধুরী জানান, ইদ্রাকপুর দুর্গের সীমানার ভেতরে নির্মিত মহকুমা প্রশাসকদের ডাকবাংলোটি কোনো অবস্থাতেই রাখা সম্ভব নয়। এই বাংলোটি দুর্গের সঠিক অবকাঠামোর অন্তরায়।

প্রথম আলো