মুন্সীগঞ্জে আ.লীগ কর্মী সভায় হৈচৈ : এমপিসহ দুই নেতা অপদস্থ

sajeda2হৈচৈ, বিক্ষোভ ও স্থানীয় এমপিসহ দু’শীর্ষ নেতাকে অপদস্থ করার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদের উপনেতা, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর উপস্থিতিতে জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কর্মী সভা সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার সকাল থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত শহরের জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এ কর্মী সভায় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মূলদলসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। শিল্পকলার হলরুমে ও বক্তব্য প্রদানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন অনুসারীরা প্রাধান্য পায়। দুপুর ১টায় মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এম ইদ্রিস আলী বক্তব্য শুরু করার দু’মিনিটের মাথায় মহিউদ্দিন ও তার অনুসারীরা তাকে বক্তব্যের ডায়াস থেকে অপদস্থ করে আর বক্তব্য দিতে দেননি। এরপর দুপুর ১টা ৫মিনিটে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস বক্তব্য দিতে ডায়াসে আসা মাত্রই মহিউদ্দিন অনুসারীরা অশালীন মন্তব্য করে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে।


পরে মহিউদ্দিনের হস্তক্ষেপে তিনি বক্তব্য রাখেন। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বালু খেকো হিসেবে পরিচিত মহিউদ্দিন অনুসারী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফসারউদ্দিন ভুঁইয়া আফসু স্থানীয় সংসদ সদস্য এম ইদ্রিস আলীর সমালোচনা করে বক্তব্য দিলে সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিনসহ কয়েকজন নেতা তাকে মারতে উদ্যত হয় এবং মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়।

এদিকে, এ সময় কর্মী সভায় উপস্থিত স্থানীয় সংবাদকর্মীদের ছবি তুলতে দেয়া হয়নি।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি, কারো দয়ায় কিংবা মায়ায় নয়। আওয়ামী লীগের ইতিহাস এতো সস্তা নয়, কঠিন ইতিহাস। শেখ রাসেল, জাতির পিতা ও তার পরিবার পরিজনসহ ৩০ লাখ শহীদের রক্তে ভেজা এই বাংলাদেশ। জাতির ইতিহাস, জাতির বাবার ইতিহাস ও ছয়দফা কিভাবে আসলো এটা জানতে হবে।

দেশ পরিচালনায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ভুল-ক্রটি হলে ক্ষমা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যে কয়দিন বেঁচে আছি আওয়ামী লীগেই থাকবো, আওয়ামী লীগের কর্মী হয়েই থাকবো। দেশ রক্ষার সংগ্রামে থাববো।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা বেগম ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা এমপি বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ দেখতে চাই। ঐক্যবদ্ধ ছাড়া এ মুহূর্তে আমাদের আর কোনো পথ নেই। ঐক্যবদ্ধ হয়েই খালেদাকে বর্জন করতে হবে।

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ডাবলু বলেন, কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকতে হবে। আগামীতে ক্ষমতায় আসতে না পারলে আমরা কেউ বেঁচে থাকতে পারবো না। দেশে তালেবান-জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটবে। জামায়াত দেশের প্রতিটি এলাকা বোমা মেরে ধ্বংস করে দেবে।

জাতীয় সংসদের হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি বলেন, আমরা ষড়যন্ত্র করা মানে খালেদা জিয়াকে এগিয়ে দেয়া। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ চাই। আগামীতে মুন্সীগঞ্জের ৩টি আসনে জয়লাভ করতে না পারলে কোনো লাভ নেই।

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস বলেন, আমি এমপি ইদ্রিস আলী নই। রাজনীতিতে আমি ভেসে আসিনি।

জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিনকে উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি এগুলো বন্ধ করেন। এসবে আমি ভীত নই। আগামীতে আমি এ আসনে দলীয় নমিনেশন চাইবো। যারা আমার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেন- তারা কোথায় কখন বসবেন-আমার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ তার জবাব আমি দেবো।

এম ইদ্রিস আলী বলেন, আমাকে নিয়ে এ সভায় সমালোচনা করা হচ্ছে। আমার নির্বাচনী এলাকার দু’উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

তিনি বলেন, আমি সমালোচিত এই জন্যই যে- আমি সন্ত্রাসী, টে-ারবাজ, বালু ডাকাত, বালু খোরদের খবর নেই না।

তার এ বক্তব্য চলাকালে মহিউদ্দিন ও তার অনুসারীরা হৈচৈ শুরু করে। তিনি আর বক্তব্য দিতে পারেননি। ২ মিনিটের মাথায় আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন তাকে অপদস্থ করে মঞ্চে বসিয়ে দেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ লুৎফর রহমান, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক গোলাম সারোয়ার কবির, লৌহজং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফকির আব্দুল হামিদ, সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, গজারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আশাদুজ্জামান সুমন প্রমুখ।

জাস্ট নিউজ