পুলিশ নির্যাতনে যুবক মৃত্যুর প্রতিবাদে মানববন্ধন

basirMBমোজাম্মেল হোসেন সজল: মুন্সীগঞ্জে পুলিশের নির্যাতনে বছির (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ এনে পুলিশ কর্মকর্তার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ শহরের সুপার মার্কেটের অঙ্কুরিতযুদ্ধ চত্বরে এ মানববন্ধন করা হয়।

মানববন্ধনে নিহত যুবকের পরিবার, স্বজন ও তার বন্ধুরা অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় নিহত বছিরের পরিবার থেকে দাবি করা হয় মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে একটি মোবাইল চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বছিরকে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গ্রেপ্তার করে এসআই মো. সেলিম। গ্রেপ্তার করে হাসপাতাল কমপাউন্ডের ভেতরেই তাকে বেধড়ক মারপিট করে ওই এসআই। পরে থানায় নিয়ে কয়েকদফা মারপিটের পরেরদিনে আদালতে প্রেরণ করে। শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি বেধড়ক মারপিটের কারণে বছির গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারাগারে থাকা অবস্থায় চিকিৎসার অভাবে গত ২৯ জুলাই বছিরের মৃত্যু হয়।

নিহত বছিরের বড় ভাই চা বিক্রেতা মো. জহির মিয়া জানান, বছির শারীরিক অসুস্থতার কারণে ১৩ই জুলাই থেকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলো। ১৬ই জুলাই রাত ৯টার দিকে হাসপাতালে এক রোগীর স্বজনের মোবাইল চুরির ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে বছিরকে আটক করে সে সময়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় কর্মরত এসআই মো. সেলিম। বর্তমানে ওই এসআই মুক্তারপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে রয়েছেন।
basirMB
সেখানে তাকে বেধড়ক মারধরের পর সদর থানায় নিয়ে আসা হয়। থানাতেও কয়েক দফা মারপিটের কারণে বছির গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিন্তু বছিরের বিরুদ্ধে কোন মামলা না থাকায় একটি পেন্ডিং মামলায় আসামি দেখিয়ে পর দিন ১৭ই জুলাই বছিরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। আদালত তাকে জেল-হাজতে প্রেরণ করে।

চিকিৎসার অভাবে ২৮শে জুলাই বছির কারা হাজতবাস থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে কারাগার কর্তৃপক্ষ তাকে প্রথমে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে।

পরদিন ২৯শে জুলাই দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বছির মারা যায়।

নিহত বছির শহরের মানিকপুর সড়কে তার বড় ভাই জহিরের সঙ্গে চা বিক্রি করতো বলে জানা গেছে।

গত ৫ই আগস্ট দুপুরে বছিরের বৃদ্ধ মা জহুরা বেগম তার ছেলের মৃত্যুর বিষয়ে পুলিশ সুপারের কাছে দাখিল করা অভিযোগে এসআই মো. সেলিমের বিরুদ্ধে ছেলে হত্যার অভিযোগ করে লিখিত আবেদন করেন। এ নিয়ে গত ৮ই আগস্ট কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ ছাপা হলে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের টনক নড়ে।

মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান সদর সার্কেল তারিকুল ইসলামকে এ বিষয়ে তদন্তভার দেন। বর্তমানে এ ঘটনার তদন্ত চলছে।

এ বিষয়ে এসআই মো. সেলিম বলেন, তাকে গ্রেপ্তারে আমার কোন স্বার্থ নেই। এ বিষয়ে আমার কোন মন্তব্যও নেই। ওটা ওসি সাহেবের ব্যাপার।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর