যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করে বিপাকে এক ব্যবসায়ী

পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাঙচুর ও লুটপাট করার দায়ে মামলার প্রধান আসামি শহর যুবলীগের সভাপতি ও শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম এলানসহ আসামিদের পুলিশ দুইদিনেও আটক করতে পারেনি। এ ঘটনায় মামলা করেও আতঙ্কে দিন যাপন করছেন মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী অপর ব্যবসায়ী স্বপন।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে শহরের জুবলী রোডস্থ মাঠপাড়া এলাকার মনির হোসেনের হাইস্পিড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ ও অপর ব্যবসায়ীক পার্টনার মতিউর রহমান স্বপনের নতুনগাঁও এলাকার সম্্রাট ডেকোরেটর ও শামীম স্টোরে যুবলীগ নেতার লোকজন সশস্ত্র হামলা চালায়। এ সময় ৩টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। ৩টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে ৩ লাখ টাকা লুটে নেয়া হয় বলে ক্ষতিগ্রস্থ দু’ব্যবসায়ী দাবি করেছেন।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শহর যুবলীগের সভাপতি ও শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম এলানসহ ৩ জনকে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা আরো ১০-১২ জনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন ব্যবসায়ী পার্টনার মো. মনির হোসেন।

ব্যবসায়ী মনির হোসেন ও মতিউর রহমান স্বপন জানান, শহরের কোর্টগাঁও এলাকায় ৩৬ লাখ টাকা দিয়ে যুবলীগ নেতা এলান ও তারা ২ জন মিলে সাড়ে ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। কোন টাকা ইনভেস্ট না করেই এলান তাদের দু’জন থেকে জমির মালিকানা নেয়।

পরবর্তীতে এ জমিতে গরুর ফার্ম করার জন্য তার অংশের টাকা বাদ দিয়ে এলান ওই জমি ২৭ লাখ টাকা দিয়ে তাদের কাছ থেকে কিনে নেয়। গেল ঈদের পর এ টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্ত টাকা না দেয়ায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সদর থানার পুলিশ এলানকে তা সমঝোতার করার জন্য সোমবার রাত ৮টার দিকে থানায় তলব করে। কিন্ত ওই দু’ব্যবসায়ী পার্টনার নির্ধারিত সময়ে থানায় উপস্থিত হলেও এলান উপস্থিত হননি বলে সদর থানার ওসি (প্রশাসন) মো. শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, এ বিরোধের জের ধরে গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে প্রথমে শহরের জুবলী রোডস্থ মাঠপাড়া এলাকার মনির হোসেনের হাইস্পিড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে এলান বাহিনী ৩টি মোটর সাইকেলযোগে হামলা চালায়। এ সময় তার প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করে ক্যাশ থেকে ৮০ হাজার টাকা লুটে নেয়। পরে দুপুর ১২ টার দিকে একই বাহিনী একই স্টাইলে অপর ব্যবসায়ীক পার্টনার মতিউর রহমান স্বপনের শহর লাগোয়া নতুনগাঁও এলাকার সম্্রাট ডেকোরেটর ও শামীম স্টোরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও ২ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। মনির হোসেন ও স্বপন জানান, হামলাকালে কোর্টগাঁও এলাকার রিয়াদ ও রিয়েল ছাড়া বাকিদের মুখ বাঁধা ছিল। তাদের সঙ্গে পিস্তল, পাইপগান, হকিস্টিক ও চাপাতি ছিল। এর আগে গত ৩ মাস আগে এলান মনিরকে হত্যা করার হুমকি দেয় বলে মনির হোসেন জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় ওই সময় তিনি এলানের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি জিডি করেন।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার সেকেন্ড অফিসার সুলতানউদ্দিন জানান, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ বিষয়ে থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এলানসহ বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার পরপরই তারা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে গেছে বলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেছেন।

এ ব্যাপারে যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম এলান মোবাইল ফোনে জানান, সোমবার সকালে মনির ও স্বপনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আমার ডেইরি ফার্মে গিয়ে ফার্ম ভাঙচুর করে।

এ ঘটনায় থানায় আমাকে বসার আহ্বান করলেও আমার স্ত্রী নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় আমি উপস্থিত থাকতে পারছি না বলে থানাকে অবহিত করেছি। তার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে তিনি দাবি করেন।

ঢাকা নিউজ এজেন্সি