নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

শহরে মঙ্গলবার রাতে অবহেলার কারনে প্রসূতি মায়ের সদ্য প্রসব করা নবজাতকের মুত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রসূতি মায়ের অবস্থাও আশংকাজনক। মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে শহরের সুপার মার্কেট এলাকাস্থ মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র তথা মাতৃ-সদনে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর সেখানে দায়িত্বরত সেবিকা-কর্মচারীরা পালিয়ে গেছেন। মাতৃ-সদনের একমাত্র গাইনী ডাক্তার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে থাকেন। মঙ্গলবারও তিনি দুপুর ২ টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফিরে যান। এতে রাতে সেখানে শুধু মাত্র কয়েকজন সেবিকা ও কর্মচারীরা দায়িত্ব পালনরত ছিলেন। প্রসূতি মায়ের নাম আলো আক্তার (৩৮)।

তিনি সদর উপজেলার চরাঞ্চল চরকেওয়ার ইউনিয়নের উত্তর চরমুশুরা গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী নজরুল ইসলামের স্ত্রী। প্রসূতি মা আলোর ভাসুর মুসা সরকার দাবী করেন- প্রসূতি মায়ের প্রসব বেদনা দেখা দিলে মঙ্গলবার বিকেল ৪ টার দিকে শহরের মাতৃ-সদনে ভর্তি করা হয় তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী আলোকে।

এ সময় তার শারিরিক অবস্থায় অবনতি হলে স্বজনরা তাকে অন্যত্র রেফার্ড করার জন্য সেখানে কর্তব্যরত পরিবার কল্যান ভিজিটর সুরাইয়া আক্তারের কাছে অনুরোধ জানান। কিন্তু মাতৃ-সদনের ভিজিটর সুরাইয়া প্রসূতি মায়ের স্বজনদের অনুরোধের কোন পাত্তা দেননি।

বরং প্রসূতি মায়ের অস্ত্রপচারের পদক্ষেপ না নিয়ে নরমাল ডেলিভারীর অপেক্ষা করতে থাকে। এক পর্যায়ে সন্ধ্যা ৮ টার দিকে প্রসূতি মা একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেন। এর ১ ঘন্টা পর নবজাতক ও প্রসূতি মায়ের শারিরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি থেকে আরো অবনতি হতে থাকে।


এরপরও সেখানে কর্তব্যরত সেবিকাদের টনক নড়েনি। পরে রাত ৯ টার দিকে ওই নবজাতক মৃত্যু কোলে ঢলে পড়ে। আর প্রসূতি মা মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করে চলেছে। এ ব্যাপারে মাতৃ-সদনের পরিবার কল্যান কেন্দ্রের ভিজিটর সুরাইয়া আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

মাতৃ-সদনে তাকে না পাওয়া গেলে শহরের বাগমামুদালী পাড়া এলাকার বাড়িতে গিয়েও তার দেখা মিলেনি। আর মাতৃ-সদনের কর্তব্যরত সেবিকা ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পালিয়ে গেছ।

যমুনা নিউজ