লৌহজংয়ে ৬ হাজার বর্গমিটার এলাকা নদী গর্ভে

padma3vমাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়ায় আকস্মিক ভাঙনে তিনদিনে মাওয়া পুরাতন ফেরিঘাটের প্রায় ৬ হাজার বর্গমিটার এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এ সময় পদ্মার পেটে চলে গেছে ১০টি দোকান, ৬ ঘরবাড়ি, মসজিদসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।


এছাড়া পদ্মার তাণ্ডবে মাওয়া পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় সড়কে অসংখ্য ফাটল দেখা গেছে। সেটাও যেকোনো সময় পদ্মা গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে খণ্ড খণ্ড ভাবে ছোট ছোট ফাটল গুলো ভেঙে আঁছড়ে পড়ছে পদ্মায়। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা রয়েছে আতঙ্কে।

শনিবার সন্ধ্যায় পদ্মার রুদ্রমূর্তি ধারণ করায় গত বছরের মতো এবারো বিপন্ন হয়ে উঠেছে মাওয়া ঘাটের পুরনো এ ফেরি ঘাট এলাকা।
padma3v
এদিকে তিনদিন ধরে মাওয়া পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন অব্যাহত থাকায় হুমকির মুখে রয়েছে মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ি, মাওয়া পুরাতন বাস র্টামিনালসহ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

মঙ্গলবার সরেজমিন মাওয়া ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র স্রোতের পাশাপাশি নদীর তীর থেকে ৩০ থেকে ৪০ ফুট অদূরে প্রচণ্ড ঘূর্ণাবর্তের ফলে পদ্মায় রুদ্রমূর্তি অবস্থা বিরাজ করছে।

এর ফলে নদীর তলদেশের মাটি সরে গিয়ে শনিবার ও সোমবার সন্ধ্যায় দুই দফা ভূমি ধসে পুরাতন ফেরিঘাট এলাকার ৬ হাজার বর্গ মিটার এলাকা চলে যায় পদ্মা পেটে। রেখে গেছে আশপাশ এলাকায় অসংখ্য ফাটলের চিহ্ন।

পুরাতন সড়কের বিভিন্ন স্থানে ২০টি ফাটলের চিহ্ন সনাক্ত করেছে স্থানীয়রা। শত শত মানুষ তীরে দাঁড়িয়ে রাক্ষুসী পদ্মার রুদ্রমূর্তি প্রত্যক্ষ করছেন।


অপরদিকে পদ্মার ছোবল থেকে বাঁচতে বসত-ভিটে ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয়ে ছুঁটছেন শতাধিক পরিবার। সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে অর্ধশত দোকানপাট।

মাওয়া ফাঁড়ির উপ পরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, ভাঙন এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশের টহল ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি আরো জানান, যেভাবে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে, এতে মাওয়া পুলিশ ফাঁড়িসহ সরকারি স্থাপনা ও অর্ধশতাধিক দোকানপাট হুমকির মুখে রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অহিদুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, গত তিন দিনের ভাঙনে মাওয়া পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় দৈর্ঘে ৫০০ মিটার ও প্রস্থে ১৩ মিটার এলাকা বিলীন হয়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, বিলীন ও দোকানপাট, ঘরবাড়ি ভেঙে নেওয়ায় ১৩৪ জন ক্ষতিগ্রস্তের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

তবে ভাঙন প্রতিরোধে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর

========

মাওয়ায় আবারো ২৫ ফুট এলাকা ধসের আশঙ্কা

মাওয়া ফেরিঘাট এলাকায় আরো ২৫ ফুট ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোনো সময় এ ফাটলটি পদ্মাগর্ভে চলে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। ফাটলের আশপাশের স্থাপনা সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সেখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিপজ্জনক এরিয়া হিসেবে লাল নিশান টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়ার পরিত্যক্ত পুরাতন ফেরিঘাট এলাকা।

সোমবার বিকাল ও সকালে দু’দফা মাওয়ার পুরাতন ৩ নং রো রো ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। বিকাল ৫টার দিকে পুরাতন ফেরিঘাটের ফাটল এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা শতাধিক লোক নিয়ে ৩০ ফুট ফাটলটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ সময় অজ্ঞাতনামা ২ শিশুসহ কয়েকজন আহত হয়। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা ১৬ ব্যক্তি নিখোঁজ থাকার কথা জানালেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মঙ্গলবারও বলা হয়েছে কেউ নিখোঁজ নেই।

এদিকে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল ভাঙনকবলিত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, সেখানে আরা ২০-২৫ ফুট এলাকায় ফাটল রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে- ১৩৪টি পরিবার। লৌহজং ইউএনও মো. অহিদুর রহমানের মাধ্যমে তাদের নগদ ১০ হাজার করে টাকা ও ২ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে। লৌহজংয়ের পুনর্বাসন এলাকায় তাদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। নদীগর্ভে চলে যাওয়া সরকারি জায়গায় তারা বসতি স্থাপন করেছিল বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে মাওয়াস্থ বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক এসএম আশিকুজ্জামান জানান, ভাঙন আতঙ্কে লোকজন অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। তবে সচল ফেরিঘাট এলাকায় কোনো সমস্যা নেই। হুমকির মুখেও নেই।

জাস্ট নিউজ