পুলিশ কর্মকর্তা খুনের ৫দিনেও উদঘাটন হয়নি ক্লু

fazlul karimপুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাবেক কর্মকর্তা ফজলুল করিম হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পরও কোনো আসামি গ্রেফতার ও ঘটনার ক্লু উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।

তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, মাদক সংক্রান্ত বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে রামপুরার ওয়াপদা রোডসহ আশপাশের এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দারা। এলাকার চিহ্নিত কিলার ও মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতেই চলছে বিশেষ এ অভিযান। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে।

সূত্রটির দাবি, কিছুদিন আগে রামপুরার মাদক ব্যবসায়ীদের হোতা কিলার রাসেল ১০ বছরের সাজা খেটে ছাড়া পেয়েছেন। গত ৮ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে পশ্চিম রামপুরার ওয়াপদা রোডে ফজলুল করিমরে বাসার সামনে জাহাঙ্গীর হোসেন নামে সাবেক এক যুবলীগ নেতাকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। ঘটনাটি ঘটায় কিলার রাসেল, রাজীব ও আদেলসহ ৫-৬ জনের অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ী।


ঘটনার পর ফজলুল করিম তার বাসার সামনের মাদকসেবীদের আখড়া ভেঙে দিতে তৎপর হন। এ নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার বিরোধ হয়। ওয়াপদা রোডই ছিল রাসেল গ্রুপের প্রধান ও নিরাপদ আড্ডাস্থল। প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী কিংবা পুলিশ রেইড দিলে তারা নিরাপদে দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, শনিবার রাতে কিলার রাসেলকে ধরতে গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ দলটি অভিযান চালায়। কিন্তু তারা রাসেলতে ধরতে ব্যর্থ হলেও এ সময় বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করতে সমর্থ হয় গোয়েন্দারা। ডিবি হাতে আটক রামপুরার মাদক ব্যবসায়ী কলা সেলিমের দেয়া তথ্যেই এ অভিযান চালানো হয়।

এসব অভিযানে কসাই ফরিদ, সুমন ও রাজনকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরা সবাই রামপুরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। এছাড়া স্থানীয় ছাত্রলীগ নামধারী তপু, আবুল খায়ের, ডিজেল, গুজা বাদশা, শাহজাদা, ঘাতক সুমনসহ বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ও ভাড়াটে খুনি ধরতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে গোয়েন্দারা।

গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, ফজলুল করিম হত্যাকাণ্ডটি পেশাদার কিলারদের কাজ। এ জন্য রাজধানীর পেশাদার কিলারদের ধরতে অভিযানে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। রামপুরার সন্ত্রাসী কলা সেলিমের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা।

ইতিমধ্যে ঘটনায় জড়িত কয়েকজনের নাম জানা গেছে। তাদের ধরতে চেষ্টা করছে পুলিশ। দু’একদিনের মধ্যে এ মামলার উল্লেখযোগ্য ‘অগ্রগতি’ হবে বলেও দাবি করেন সূত্রটি।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের ১৭ দিন আগে নিয়োগ পাওয়া নিহত পুলিশ কর্মকর্তার গাড়ি চালক লিটনকে ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি গোয়েন্দা পুলিশ।

এ বিষয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (পূর্ব) জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর জানান, মামলার উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। কিলারদের ধরতে চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে গাড়ি চালক লিটনকে আটকের বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর