মাওয়া-কাওড়াকান্দি রুটে লঞ্চ চলাচল শুরু

এগারো দিন পর মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে লঞ্চ চলাচল শুরু হচ্ছে। সোমবার সকাল ৬টা থেকে এ লঞ্চ চলাচল শুরু হয়। এর আগে গত ২২ আগস্ট সকালে নৌ-পরিবহনমন্ত্রীর নিকটজন হিসেবে পরিচিত মাদারীপুরের কাঠালবাড়ি এলাকার ইয়াকুব বেপারীর ফিটনেস ও অনুমোদনবিহীন লঞ্চ চলাচলকে কেন্দ্র করে ওই রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৩ জেলায় চলাচলরত হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়ে।

জানা গেছে, লঞ্চ বন্ধ থাকায় যাত্রীরা সি-বোট, ট্রলারের মাধ্যমে যাতায়াত করছিল। কিন্তু সি-বোট, ট্রলারঘাটের দুবৃর্ত্তরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে। ফেরিতেও নেয়া হচ্ছে যাত্রী প্রতি ২৫ টাকা করে।

এ বিষয়ে মাওয়াস্থ বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক এস এম আশিকুজ্জামান ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোরকে জানান, লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় ফেরিতে আগে থেকেই যাত্রী প্রতি ২৫ টাকা করে ভাড়া নির্ধারিত রয়েছে। এদিকে রোববার সন্ধ্যায় ঢাকায় বিআইডব্লিউটিএ’র সভাকক্ষে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ও লঞ্চ মালিক সমিতির বৈঠকে ইয়াকুব আলী বেপারীর এমভি শাহপরান লঞ্চটি মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌপথে চলাচল না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর ফলে সোমবার সকাল থেকে ওই নৌপথের বাকি ৮৬টি লঞ্চ চলাচল করবে।


মাওয়া লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি খলিলুর রহমান জানান, ঢাকায় বিআইডব্লিউটএ অফিসে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. শামসুদ্দোহার খন্দকারের সভাপতিত্বে উভয় পাড়ের লঞ্চ মালিক সমিতির নেতাদের নিয়ে রোববার সন্ধ্যায় জরুরি সভা হয়। সমঝোতার মাধ্যমে সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ইয়াকুব আলীর শাহপরান লঞ্চটি এই নৌপথে চলাচল করবে না। ফলে সোমবার সকাল থেকে সকল লঞ্চ চলাচল করবে।

উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকালে কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে লঞ্চ মালিক সমিতি বহির্ভূত সিরিয়াল ভঙ্গ করে এমভি শাহপরান নামের ইয়াকুব আলী বেপারীর একটি ফিটসেন ও অনুমোদনবিহীন লঞ্চ মাওয়া ঘাটে যায়। সমিতির বাইরের ওই লঞ্চটি মাওয়া ঘাটে গেলে মাওয়া পাড়ের লঞ্চের মালিক ও শ্রমিকরা ভাঙচুর করে এবং লঞ্চটিকে মাওয়ায় আটকে রাখে। এর প্রতিবাদে ইয়াকুব আলী বেপারী ও তার সমর্থকরা ওইদিন থেকে মাওয়া থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চ চলাচলে বাঁধা দেয় ও হামলা চালায়। একপর্যায়ে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর