সময় শেষ- জঙ্গিবাদের কথা বলে লাভ নেই

fak3দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ১৮ দলীয় জোটের নেতৃত্বে অত্যাচারী ও ফ্যাস্টিস সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আপনাদের সময় শেষ। যতই ঘুরপাক খান, সেনাপতি আনেন, জঙ্গিবাদের কথা বলেন- কোনো লাভ হবে না।

বিএনপি জঙ্গিবাদে বিশ্বাস করে না। আপনাদের আমলেই রমনার বটমূলে বোমা হামলা হয়েছে। এখন নাকি দেশে জঙ্গিবাদ শুরু হয়েছে। এ নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করে লাভ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকার প্রধান সড়কে এক কর্মিসভায় তিনি প্রধান অতিথির ভাষণে এসব মন্তব্য করেন।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে মির্জা আলমগীর বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করেই আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আপনি জনগণের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেননি। আর ক্ষমতায় আসতে পারবেন না বলেই এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে ভয় পাচ্ছেন।

’৭৫ সালে দেশ রক্ষায় আপনারা ব্যর্থ হয়েছেন। একদলীয় বাকশাল মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। এখন আবার ভিন্ন আঙ্গিকে ও লেবাসে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে থাকতে পারে না। আমরাও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। কিন্তু সে বিচার হবে ন্যায়বিচার। শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলকে আক্রমণ করলে চলবে না। যুদ্ধাপরাধ আদালতের বিচার নিয়ে বিদেশিরা কথা বলতে শুরু করেছেন। বিচারের নামে প্রহসন চলছে।

পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আবুল হোসেন নাকি দেশপ্রেমিক। এ যদি হয়, তবে চোরের সাক্ষী হয়- নিশ্চয়ই বাটপার।

মির্জা আলমগীর বলেন, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি করে তারা ৩৩ লাখ ছোট ছোট ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীকে পথে বসিয়েছে। ৫শ’ গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে আগের মতো শ্রমিক নেয়া বন্ধ হয়ে গেছে।

১০ টাকায় চাল দেয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি সরকার। ঘরে ঘরে চাকরি দেয়নি। চাকরি তারাই পাচ্ছে- যারা ঘুষ দিতে পারছে অভিযোগ করেন তিনি।

দলকে ঐক্যবদ্ধ ও মজবুত করার জন্য মুন্সীগঞ্জের তৃণমূল পর্যায়ে কর্মিসভা করার আহ্বান জানান তিনি।

মির্জা আলমগীর বলেন, তারেক রহমানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ক্ষুণ্ন করতে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে সরকার। তত্ত্বাবধায়ক-নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ও তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বানও জানান তিনি।

মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক এলজিআরডি উপমন্ত্রী আবদুল হাইয়ের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আবু সাইদ খোকন, সহ-প্রকাশনা সম্পাদক শফি বিক্রমপুরী, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এমএ মালেক, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক এ কে এম মহিউদ্দিন খান মোহন, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর মল্লিক রিপন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মহিউদ্দিন, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও শহর বিএনপির সভাপতি এ কে এম ইরাদত মানু, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ মমিন আলী, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, লৌহজং উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান খান, টঙ্গীবাড়ি জেলা যুবদলের সভাপতি তারিক কাশেম খান মুকুল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল প্রমুখ।

জাস্ট নিউজ
==========

বিএনপি জঙ্গিবাদ বিশ্বাস করে না

বিএনপি জঙ্গিবাদ বিশ্বাস করে না বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জ শহরের হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকায় জেলা বিএনপি আয়োজিত কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি জঙ্গিবাদ বিশ্বাস করে না। মিথ্যা কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বর্তমানে দেশে একটি কঠিন সংকট সৃষ্টি করেছে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার।’

তিনি বলেন, ‘বিদেশিরা বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রহসনের বিচার হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিপক্ষে নয়। তবে সেই বিচার হতে হবে ন্যায় বিচার।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতার আসার পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সর্ম্পক নষ্ট হয়েছে। এই সরকারের আমলে দেশে পাঁচ শতাধিক গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে আমেরিকা জিএসপি সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ সরকার লুটপাট চালিয়ে দেশের ব্যাংকগুলোকে দুরবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। দেশের ৩৩ লাখ ছোট বিনিয়োগকারীকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। দেশের বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ধবংস করা হয়েছে।’

পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি এবং ঘুষ দাবি করার কারণে পদ্মা সেতুর টাকা বিশ্বব্যাংক ফেরত নিয়ে গেছে। ঘুষ দাবি করায় বিশ্বব্যাংক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও সেই মন্ত্রীকে দেশপ্রেমিক হিসেবে প্রচার করেছেন প্রধানমন্ত্রী।’

জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী দেশের রাজনীতিতে থাকবে কি থাকবে না, তার রায় দেবে জনগণ। অথচ আওয়ামী লীগ সরকার আদালতের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলের ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।’
fak3
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ভিন্ন আঙ্গিকে দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ জন্য সংবিধান পরিবর্তন করা হয়েছে।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিগত দিনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ৩টি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করেই ক্ষমতায় গিয়ে শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘পাঁচটি সিটি নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আর তা বুঝতে পেরেই আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে নানা কৌশলে আবারও ক্ষমতায় যেতে চাইছে।’

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর